বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত প্রায় ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের মুখে পড়েছে। তবে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
মূলত সৌদি আরবের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাপ্তাহিক দরপতন, তবুও উচ্চ অবস্থানে দাম
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম সামান্য বেড়ে প্রায় ৯৮ ডলারে পৌঁছায়।
সপ্তাহজুড়ে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি। তবে এই চুক্তি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও বাস্তবে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের ১০ শতাংশেরও কমে নেমে এসেছে।
ইরান জাহাজগুলোকে তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্যে চলাচলের সতর্কতা দিয়েছে। ফলে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল এখন ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু না হলে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে। কারণ পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাজারে ঘাটতি আরও তীব্র হবে।
সৌদি উৎপাদনে বড় ধাক্কা
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে দেশটির তেল উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। একই সঙ্গে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পরিবহন ক্ষমতাও দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল কমেছে।
এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটকে আরও জোরালো করেছে।

সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক তেল ব্যবস্থায়
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। ভবিষ্যৎ বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখালেও বাস্তব বাজারে তেলের ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনাও করছে, যা নিয়ে পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আপত্তি জানিয়েছে।
রাশিয়ার রপ্তানি বাড়ছে
এদিকে, এপ্রিলের শুরুতে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি মার্চের তুলনায় বেড়েছে। ড্রোন হামলার কারণে কিছু বাধা থাকলেও রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য সমাধান
লেবানন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছে। সেখানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে, বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ঘিরে চলা সংঘাতের বিষয়ে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অস্থির। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক তেলবাজারে, যেখানে সরবরাহ সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি দামকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















