১১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: ফিলিপাইনের পথের খাবার ব্যবসায় টানাপোড়েন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু রাজনীতি বা জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ঢেউ পৌঁছে গেছে ফিলিপাইনের সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে দেশটির পথের খাবার বিক্রেতারা এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরল গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানির দাম বাড়ায় সংকট

ফিলিপাইনের মতো আমদানিনির্ভর দেশে গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। আগে যে গ্যাস সিলিন্ডার কয়েকদিন চলত এবং যার দাম ছিল তুলনামূলক কম, এখন সেই একই গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক বিক্রেতা বাধ্য হয়ে রান্নার আগুন কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

একজন তরুণ খাবার বিক্রেতা জানান, আগে যেখানে একটি সিলিন্ডার কয়েকদিন স্বচ্ছন্দে চলত, এখন তার খরচ এত বেড়েছে যে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে, যদিও এতে ক্রেতা হারানোর ভয়ও রয়েছে।

A couple's journey from office desks to street food cart | The Daily Star

ক্রেতা কমছে, আয়ও কমছে

পথের খাবারের দোকানগুলো সাধারণত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা। কিন্তু জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতারাও এখন খরচ কমাতে শুরু করেছেন। অনেকেই বাইরে খাওয়ার বদলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। এতে করে বিক্রেতাদের আয় আরও কমে যাচ্ছে।

একজন খাবার দোকান মালিক বলেন, দাম বাড়ালে ক্রেতারা অন্য দোকানে চলে যায়, আবার দাম না বাড়ালে নিজের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই দ্বৈত চাপের মধ্যে পড়ে অনেকেই ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

দামের চাপে সাধারণ মানুষ

শুধু বিক্রেতারা নয়, সাধারণ ক্রেতারাও এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, জ্বালানি ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাতে হচ্ছে। মাসের বাজেট সামলাতে গিয়ে বাইরে খাওয়ার মতো খরচ এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

একজন কর্মজীবী নারী জানান, পরিবারের খরচ মেটাতে গিয়ে তাকে এখন নিজের খাওয়া-দাওয়ার খরচ কমাতে হচ্ছে। ফলে পথের খাবারের দোকানে আগের মতো নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Mideast war takes a bite out of Filipino street food vendors - Asia &  Pacific - The Jakarta Post

মুদ্রাস্ফীতির বাড়তি চাপ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে খাদ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও তীব্র করেছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ—উভয়ই সংকটে পড়েছেন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ছে, যা পুরো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।

সরকারের প্রতি প্রত্যাশা

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে আমদানি করা জ্বালানির ওপর কর কমানোর দাবি উঠছে। সাধারণ মানুষের মতে, বর্তমান পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয় এবং বাস্তবে এর প্রভাব তারা অনুভব করতে পারছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যে কত দূর পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে, ফিলিপাইনের পথের খাবার বিক্রেতাদের এই সংকট তারই এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: ফিলিপাইনের পথের খাবার ব্যবসায় টানাপোড়েন

১১:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু রাজনীতি বা জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ঢেউ পৌঁছে গেছে ফিলিপাইনের সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে দেশটির পথের খাবার বিক্রেতারা এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরল গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানির দাম বাড়ায় সংকট

ফিলিপাইনের মতো আমদানিনির্ভর দেশে গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। আগে যে গ্যাস সিলিন্ডার কয়েকদিন চলত এবং যার দাম ছিল তুলনামূলক কম, এখন সেই একই গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক বিক্রেতা বাধ্য হয়ে রান্নার আগুন কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

একজন তরুণ খাবার বিক্রেতা জানান, আগে যেখানে একটি সিলিন্ডার কয়েকদিন স্বচ্ছন্দে চলত, এখন তার খরচ এত বেড়েছে যে দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে, যদিও এতে ক্রেতা হারানোর ভয়ও রয়েছে।

A couple's journey from office desks to street food cart | The Daily Star

ক্রেতা কমছে, আয়ও কমছে

পথের খাবারের দোকানগুলো সাধারণত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা। কিন্তু জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতারাও এখন খরচ কমাতে শুরু করেছেন। অনেকেই বাইরে খাওয়ার বদলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। এতে করে বিক্রেতাদের আয় আরও কমে যাচ্ছে।

একজন খাবার দোকান মালিক বলেন, দাম বাড়ালে ক্রেতারা অন্য দোকানে চলে যায়, আবার দাম না বাড়ালে নিজের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই দ্বৈত চাপের মধ্যে পড়ে অনেকেই ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

দামের চাপে সাধারণ মানুষ

শুধু বিক্রেতারা নয়, সাধারণ ক্রেতারাও এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, জ্বালানি ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাতে হচ্ছে। মাসের বাজেট সামলাতে গিয়ে বাইরে খাওয়ার মতো খরচ এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

একজন কর্মজীবী নারী জানান, পরিবারের খরচ মেটাতে গিয়ে তাকে এখন নিজের খাওয়া-দাওয়ার খরচ কমাতে হচ্ছে। ফলে পথের খাবারের দোকানে আগের মতো নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Mideast war takes a bite out of Filipino street food vendors - Asia &  Pacific - The Jakarta Post

মুদ্রাস্ফীতির বাড়তি চাপ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে খাদ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও তীব্র করেছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ—উভয়ই সংকটে পড়েছেন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ছে, যা পুরো অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।

সরকারের প্রতি প্রত্যাশা

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে আমদানি করা জ্বালানির ওপর কর কমানোর দাবি উঠছে। সাধারণ মানুষের মতে, বর্তমান পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয় এবং বাস্তবে এর প্রভাব তারা অনুভব করতে পারছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যে কত দূর পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে, ফিলিপাইনের পথের খাবার বিক্রেতাদের এই সংকট তারই এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে।