০২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বৈচিত্র্যের মাঝে একতা: বাংলার নববর্ষ উদযাপনে অনন্য বাংলাদেশ পহেলা বৈশাখে ঢাবি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, শাহবাগ দুপুর ১২টা পর্যন্ত, সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা আজই ইরানের সব বন্দর অবরোধ করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিষিদ্ধ পেপটাইডের মোহ: স্বাস্থ্য নাকি ঝুঁকির খেলা? শুরুতে ব্যর্থতা, তারপর ঝড়—সঞ্জু স্যামসনের জোড়া বদলে চেন্নাইয়ের নতুন আশা মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নভেম্বর পর্যন্ত তেল-গ্যাসের উচ্চ দাম থাকবে, হরমুজ অবরোধে বিশ্ববাজারে ৫০% বৃদ্ধি ঈদুল আজহার আগে জ্বালানি সংকটে নৌপথ অচল, পালা করে চলছে লঞ্চ-জাহাজ চট্টগ্রামে গাড়ি ৩০% কম, ভাড়া বেড়েছে ২০-৪০%—জ্বালানি সংকটে পরিবহন বিপর্যয়

মানবতা না যন্ত্র—নিউ মিউজিয়ামের নতুন প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের অস্বস্তিকর আয়না

নিউ মিউজিয়ামের দীর্ঘ সংস্কারের পর নতুনভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে এক বিশাল প্রদর্শনী দিয়ে, যেখানে মানুষ আর প্রযুক্তির সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে এক অদ্ভুত ও কখনও অস্বস্তিকর রূপে। “নিউ হিউম্যানস: মেমোরিজ অব দ্য ফিউচার” নামে এই প্রদর্শনীতে তিন তলা জুড়ে শত শত শিল্পকর্ম সাজানো হয়েছে, যা দর্শকদের একদিকে আকৃষ্ট করে, আবার অন্যদিকে ক্লান্তও করে তোলে।

প্রদর্শনীর মূল প্রশ্ন—প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে মানুষ হওয়ার অর্থ কী? কিন্তু এর উত্তর সহজ নয়। নানা ধরনের ভিডিও, যন্ত্র, ভাস্কর্য এবং অদ্ভুত মানবাকৃতির মাধ্যমে এই প্রশ্নকে জটিল ও বিভ্রান্তিকর করে তোলা হয়েছে। কোথাও দেখা যায় ধাতব দেহ, কোথাও স্ক্রিন-যুক্ত চোখ, আবার কোথাও শরীর যেন ভেঙে গিয়ে যন্ত্রে রূপ নিচ্ছে।

প্রযুক্তির ভেতর হারিয়ে যাওয়া মানুষ

The New Museum Reopens with “New Humans: Memories of the Future” | The New  Yorker

প্রদর্শনীর শুরুতেই স্পষ্ট হয়, মানুষকে বোঝার চেষ্টায় শিল্প ও বিজ্ঞান একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে আছে পুরনো শিল্পকর্ম, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপন। এই মিলনে তৈরি হয়েছে এমন এক পরিবেশ, যেখানে মানুষ যেন নিজের সত্তাকেই প্রশ্ন করতে বাধ্য হয়।

একটি ছবিতে দেখা যায়, কম্পিউটার যেন এক মানবশিশুর জন্ম দিচ্ছে—যা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে যেমন দেখায়, তেমনি মানুষের সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরে। এই ধরনের উপস্থাপনায় বোঝা যায়, প্রযুক্তি মানুষকে উন্নত করার পাশাপাশি তাকে দূরেও সরিয়ে দিচ্ছে।

ইতিহাস থেকে বর্তমান—মানুষের রূপান্তর

প্রদর্শনীর সময়রেখা শুরু হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। সেই সময়ে মানুষকে যন্ত্রের মতো ভাবার ধারণা গড়ে ওঠে। শিল্পকর্মে দেখা যায়, মানুষ যেন একটি যান্ত্রিক অংশ, যা যুদ্ধ ও উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে, আধুনিক সময়ে মানুষের শরীর ও পরিচয় নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে উঠে এসেছে। কোথাও শরীর ভেঙে গেছে, কোথাও নতুনভাবে গঠিত হয়েছে—যা মানুষের অস্তিত্বকে আরও জটিল করে তোলে।

স্থাপত্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

নতুন সম্প্রসারণে তৈরি হয়েছে একটি বড় আঙিনা, যা মিউজিয়ামের অভ্যন্তরীণ চলাচলকে সহজ করেছে। এই অংশটি শুধু স্থাপত্য নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা—যেখানে দর্শকরা ভবনের ভেতর ও বাইরের সংযোগ অনুভব করতে পারেন।

New Museum Debuts New Building With Ambitious 'New Humans' - The New York  Times

এই নকশা মিউজিয়ামকে আরও মানবিক করে তুললেও, উপরের তলায় পৌঁছানোর পর প্রদর্শনীর কিছু অংশে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিভিন্ন বিষয়—উপনিবেশ-পরবর্তী সমাজ, প্রাণী, এমনকি মহাকাশ—সব একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা কখনও কখনও দিক হারিয়ে ফেলে।

রোবটের ঘরে মানুষের ভবিষ্যৎ

প্রদর্শনীর শেষদিকে রয়েছে একটি বিশেষ অংশ, যেখানে নানা ধরনের রোবট ও কৃত্রিম দেহ দেখানো হয়েছে। এখানে একদিকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির চরিত্র, অন্যদিকে অদ্ভুত ও ভীতিকর মানবাকৃতি একসঙ্গে রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে অস্বস্তিকর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি মানবাকৃতি মডেল বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অদ্ভুতভাবে নড়াচড়া করছে—যা মানুষ ও যন্ত্রের সীমারেখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

এই পুরো প্রদর্শনী যেন একটি প্রশ্ন রেখে যায়—মানুষ কি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা হারাচ্ছে? নাকি প্রযুক্তির ভেতর দিয়েই নতুন এক মানবতা তৈরি হচ্ছে?

শেষ পর্যন্ত, এই প্রদর্শনী কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেয় না। বরং এটি দর্শকদের নিজেরাই ভাবতে বাধ্য করে—ভবিষ্যৎ কি সত্যিই আমাদের, নাকি আমরা ইতিমধ্যেই তার অংশ হয়ে গেছি?

মানবতা ও প্রযুক্তির সংঘর্ষ নিয়ে নিউ মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষ ও যন্ত্রের সীমা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

New Romance: art and the posthuman | MCA Australia

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈচিত্র্যের মাঝে একতা: বাংলার নববর্ষ উদযাপনে অনন্য বাংলাদেশ

মানবতা না যন্ত্র—নিউ মিউজিয়ামের নতুন প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের অস্বস্তিকর আয়না

১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

নিউ মিউজিয়ামের দীর্ঘ সংস্কারের পর নতুনভাবে যাত্রা শুরু হয়েছে এক বিশাল প্রদর্শনী দিয়ে, যেখানে মানুষ আর প্রযুক্তির সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে এক অদ্ভুত ও কখনও অস্বস্তিকর রূপে। “নিউ হিউম্যানস: মেমোরিজ অব দ্য ফিউচার” নামে এই প্রদর্শনীতে তিন তলা জুড়ে শত শত শিল্পকর্ম সাজানো হয়েছে, যা দর্শকদের একদিকে আকৃষ্ট করে, আবার অন্যদিকে ক্লান্তও করে তোলে।

প্রদর্শনীর মূল প্রশ্ন—প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে মানুষ হওয়ার অর্থ কী? কিন্তু এর উত্তর সহজ নয়। নানা ধরনের ভিডিও, যন্ত্র, ভাস্কর্য এবং অদ্ভুত মানবাকৃতির মাধ্যমে এই প্রশ্নকে জটিল ও বিভ্রান্তিকর করে তোলা হয়েছে। কোথাও দেখা যায় ধাতব দেহ, কোথাও স্ক্রিন-যুক্ত চোখ, আবার কোথাও শরীর যেন ভেঙে গিয়ে যন্ত্রে রূপ নিচ্ছে।

প্রযুক্তির ভেতর হারিয়ে যাওয়া মানুষ

The New Museum Reopens with “New Humans: Memories of the Future” | The New  Yorker

প্রদর্শনীর শুরুতেই স্পষ্ট হয়, মানুষকে বোঝার চেষ্টায় শিল্প ও বিজ্ঞান একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে আছে পুরনো শিল্পকর্ম, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপন। এই মিলনে তৈরি হয়েছে এমন এক পরিবেশ, যেখানে মানুষ যেন নিজের সত্তাকেই প্রশ্ন করতে বাধ্য হয়।

একটি ছবিতে দেখা যায়, কম্পিউটার যেন এক মানবশিশুর জন্ম দিচ্ছে—যা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে যেমন দেখায়, তেমনি মানুষের সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরে। এই ধরনের উপস্থাপনায় বোঝা যায়, প্রযুক্তি মানুষকে উন্নত করার পাশাপাশি তাকে দূরেও সরিয়ে দিচ্ছে।

ইতিহাস থেকে বর্তমান—মানুষের রূপান্তর

প্রদর্শনীর সময়রেখা শুরু হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। সেই সময়ে মানুষকে যন্ত্রের মতো ভাবার ধারণা গড়ে ওঠে। শিল্পকর্মে দেখা যায়, মানুষ যেন একটি যান্ত্রিক অংশ, যা যুদ্ধ ও উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে, আধুনিক সময়ে মানুষের শরীর ও পরিচয় নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে উঠে এসেছে। কোথাও শরীর ভেঙে গেছে, কোথাও নতুনভাবে গঠিত হয়েছে—যা মানুষের অস্তিত্বকে আরও জটিল করে তোলে।

স্থাপত্যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

নতুন সম্প্রসারণে তৈরি হয়েছে একটি বড় আঙিনা, যা মিউজিয়ামের অভ্যন্তরীণ চলাচলকে সহজ করেছে। এই অংশটি শুধু স্থাপত্য নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা—যেখানে দর্শকরা ভবনের ভেতর ও বাইরের সংযোগ অনুভব করতে পারেন।

New Museum Debuts New Building With Ambitious 'New Humans' - The New York  Times

এই নকশা মিউজিয়ামকে আরও মানবিক করে তুললেও, উপরের তলায় পৌঁছানোর পর প্রদর্শনীর কিছু অংশে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিভিন্ন বিষয়—উপনিবেশ-পরবর্তী সমাজ, প্রাণী, এমনকি মহাকাশ—সব একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা কখনও কখনও দিক হারিয়ে ফেলে।

রোবটের ঘরে মানুষের ভবিষ্যৎ

প্রদর্শনীর শেষদিকে রয়েছে একটি বিশেষ অংশ, যেখানে নানা ধরনের রোবট ও কৃত্রিম দেহ দেখানো হয়েছে। এখানে একদিকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির চরিত্র, অন্যদিকে অদ্ভুত ও ভীতিকর মানবাকৃতি একসঙ্গে রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে অস্বস্তিকর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি মানবাকৃতি মডেল বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অদ্ভুতভাবে নড়াচড়া করছে—যা মানুষ ও যন্ত্রের সীমারেখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

এই পুরো প্রদর্শনী যেন একটি প্রশ্ন রেখে যায়—মানুষ কি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা হারাচ্ছে? নাকি প্রযুক্তির ভেতর দিয়েই নতুন এক মানবতা তৈরি হচ্ছে?

শেষ পর্যন্ত, এই প্রদর্শনী কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেয় না। বরং এটি দর্শকদের নিজেরাই ভাবতে বাধ্য করে—ভবিষ্যৎ কি সত্যিই আমাদের, নাকি আমরা ইতিমধ্যেই তার অংশ হয়ে গেছি?

মানবতা ও প্রযুক্তির সংঘর্ষ নিয়ে নিউ মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষ ও যন্ত্রের সীমা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

New Romance: art and the posthuman | MCA Australia