০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ ভোটে তীব্র বাকযুদ্ধ, মোদিকে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ মমতার ইরানের ঐতিহ্যের ওপর যুদ্ধের আঘাত: শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রের পতনের সংকেত, নাকি পুরনো নীতির পুনরাবৃত্তি? বাবা-ছেলের লড়াইয়ে বিজেপির বাজি, উত্তর ২৪ পরগনায় ভোটের ময়দানে সিং পরিবার ইরান যুদ্ধের তেল ধাক্কা: দামে যা দেখা যাচ্ছে, বাস্তব সংকট তার চেয়েও ভয়াবহ বৈশাখের দিনেও কমেনি সবজির ঝাঁজ, কাকরোল ১৬০ টাকা অভিভাবকদের ওপর বাড়তি চাপ: স্কুলের ‘অতিরিক্ত আয়োজন’ নিয়ে ক্লান্তির গল্প অভিভাবকদের ওপর বাড়তি চাপ: স্কুলের ‘অতিরিক্ত আয়োজন’ নিয়ে ক্লান্তির গল্প ররি ম্যাকইলরয়ের ইতিহাস, টানা দ্বিতীয় মাস্টার্স জয়ে আরও উজ্জ্বল কিংবদন্তি অরবানের পতন: বিশ্ব ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন মোড়

রাশিয়ার নতুন দিগন্ত: ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে মস্কো

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল হিসেবে পূর্বের দিকে ঝুঁকছে মস্কো, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে নানা উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাব ও নতুন মিত্রের খোঁজ

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়তে থাকে। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন হয়ে যায়। এই শূন্যতা পূরণে রাশিয়া এখন এমন দেশগুলোর দিকে তাকাচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার বিরোধী। উত্তর কোরিয়া এই তালিকার অন্যতম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি সামরিক প্রয়োজন। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গোলাবারুদ ও জনশক্তির প্রয়োজন মেটাতে উত্তর কোরিয়ার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Russia's treaty with North Korea creates new fault lines in East Asia | East  Asia Forum

সামরিক সহযোগিতা ও শ্রমশক্তি

উত্তর কোরিয়া শুধু অস্ত্র নয়, সৈন্য পাঠিয়েও রাশিয়াকে সহায়তা করেছে বলে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার শ্রমবাজারেও উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা কাজ করছে, যা যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শ্রমসংকট কিছুটা লাঘব করছে।

এতে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রসারিত হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন প্রচারণা

রাশিয়া এখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাড়িয়েছে। মস্কোর বিভিন্ন জাদুঘর ও প্রদর্শনীতে উত্তর কোরিয়ার শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি পর্যটন, শিক্ষা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও এই সম্পর্ককে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উত্তর কোরিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা করছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে।

See You in Pyongyang: Russia Pushes Its People to Embrace North Korea - The  New York Times

জনমত পরিবর্তনের ইঙ্গিত

যুদ্ধের আগে রাশিয়ার খুব অল্প মানুষ উত্তর কোরিয়াকে বন্ধুসুলভ দেশ হিসেবে দেখত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ উত্তর কোরিয়াকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রের প্রভাবেই এই জনমত পরিবর্তন ঘটছে, যা আধা-স্বৈরশাসিত ব্যবস্থায় স্বাভাবিক।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশ

বিশ্লেষণ বলছে, এই সম্পর্ক অনেকটাই পরিস্থিতিনির্ভর। যুদ্ধ শেষ হলে এর গতিপথ বদলাতে পারে। তবে বর্তমানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থই তাদের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

একদিকে রাশিয়ার সামরিক প্রয়োজন, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠছে নতুন এক সম্পর্কের সমীকরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে তীব্র বাকযুদ্ধ, মোদিকে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ মমতার

রাশিয়ার নতুন দিগন্ত: ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে মস্কো

০২:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাশিয়া। এই পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল হিসেবে পূর্বের দিকে ঝুঁকছে মস্কো, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে নানা উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাব ও নতুন মিত্রের খোঁজ

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়তে থাকে। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন হয়ে যায়। এই শূন্যতা পূরণে রাশিয়া এখন এমন দেশগুলোর দিকে তাকাচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার বিরোধী। উত্তর কোরিয়া এই তালিকার অন্যতম।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি সামরিক প্রয়োজন। যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গোলাবারুদ ও জনশক্তির প্রয়োজন মেটাতে উত্তর কোরিয়ার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Russia's treaty with North Korea creates new fault lines in East Asia | East  Asia Forum

সামরিক সহযোগিতা ও শ্রমশক্তি

উত্তর কোরিয়া শুধু অস্ত্র নয়, সৈন্য পাঠিয়েও রাশিয়াকে সহায়তা করেছে বলে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার শ্রমবাজারেও উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা কাজ করছে, যা যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শ্রমসংকট কিছুটা লাঘব করছে।

এতে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রসারিত হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন প্রচারণা

রাশিয়া এখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাড়িয়েছে। মস্কোর বিভিন্ন জাদুঘর ও প্রদর্শনীতে উত্তর কোরিয়ার শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি পর্যটন, শিক্ষা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও এই সম্পর্ককে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উত্তর কোরিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা করছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে।

See You in Pyongyang: Russia Pushes Its People to Embrace North Korea - The  New York Times

জনমত পরিবর্তনের ইঙ্গিত

যুদ্ধের আগে রাশিয়ার খুব অল্প মানুষ উত্তর কোরিয়াকে বন্ধুসুলভ দেশ হিসেবে দেখত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ উত্তর কোরিয়াকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রের প্রভাবেই এই জনমত পরিবর্তন ঘটছে, যা আধা-স্বৈরশাসিত ব্যবস্থায় স্বাভাবিক।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশ

বিশ্লেষণ বলছে, এই সম্পর্ক অনেকটাই পরিস্থিতিনির্ভর। যুদ্ধ শেষ হলে এর গতিপথ বদলাতে পারে। তবে বর্তমানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থই তাদের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

একদিকে রাশিয়ার সামরিক প্রয়োজন, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠছে নতুন এক সম্পর্কের সমীকরণ।