০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের জ্বালানি পরিকল্পনায় ইথানল প্রকল্প: গ্রামাঞ্চলে পানি সংকটের আশঙ্কায় বিক্ষোভ রহস্যের আড়ালে সম্পর্কের বিষ: ‘সোহরাব হান্ডা’য় মুখোশ খোলে ভালোবাসার অন্ধকার দিক দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর নির্দেশ, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার সুযোগ দিল হাইকোর্ট হরমুজ প্রণালী খুলেছে দাবি ইরানের, তবু শঙ্কা কাটেনি—১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে, বাজারে সতর্ক আশাবাদ কাঁচা বাজারে আগুনের তাপ, সবজির দামে হাঁসফাঁস সাধারণ মানুষ ফিলিপাইনের ধানচাষি: বাড়ছে খরচ, কমছে আয় মার্কিন নেতৃত্বের ভুলে বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তা: অনেক জাহাজ এখনও পথ এড়িয়ে চলছে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি: অস্ট্রেলিয়াকে উন্নত মোগামি যুদ্ধজাহাজ দিচ্ছে টোকিও ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের প্রথম বড় আইনগত পরাজয়

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে তীব্র বাকযুদ্ধ, মোদিকে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ মমতার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে কথার লড়াই এখন চরমে। নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যদি তিনি বিজেপির মুখ হয়ে ভোটে নামতে চান, তাহলে আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারে কড়া বার্তা
পূর্ব বর্ধমানের একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সব আসনের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই তিনি সব ২৯৪টি আসনের প্রার্থী হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। তার কথায়, মানুষ তখন সরাসরি তাকে ভোট দেবে কি না, সেটাই প্রমাণ হয়ে যাবে।

মোদির মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
এর আগে শিলিগুড়ির এক সভায় নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, বিজেপির সব প্রার্থীই তার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি জানান, তার কাছে প্রতিটি প্রার্থীই ‘মোদি’। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিক সভায় দাবি করেছেন, তিনি নিজেই তৃণমূলের সব আসনের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এবং ভোটারদের ব্যক্তিগত প্রার্থীর চেয়ে তার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি আদৌ নির্বাচন, নাকি নির্বাচন নামের প্রহসন।
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে কারাগারে পাঠালেও বা হত্যা করলেও তার প্রতি সমর্থন কমবে না, বরং আরও বাড়বে।

Modi should resign first as PM: Mamata Banerjee on 'arbitrary deletions' of  voters during SIR - The Economic Times

শাহর পাল্টা আক্রমণ
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে একাধিক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তার ভাইপোকে ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী করতে চান।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্ব একজন বাংলাভাষী এবং বাংলার মাটির মানুষের হাতেই থাকবে, বাইরে থেকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করবে না।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি
অমিত শাহ অনুপ্রবেশের বিষয়টিকেও বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে।

ভোটের সূচি
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে। নির্বাচনের আগে এই তীব্র রাজনৈতিক লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের জ্বালানি পরিকল্পনায় ইথানল প্রকল্প: গ্রামাঞ্চলে পানি সংকটের আশঙ্কায় বিক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে তীব্র বাকযুদ্ধ, মোদিকে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ মমতার

০৬:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে কথার লড়াই এখন চরমে। নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যদি তিনি বিজেপির মুখ হয়ে ভোটে নামতে চান, তাহলে আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারে কড়া বার্তা
পূর্ব বর্ধমানের একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সব আসনের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, যদি সত্যিই তিনি সব ২৯৪টি আসনের প্রার্থী হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। তার কথায়, মানুষ তখন সরাসরি তাকে ভোট দেবে কি না, সেটাই প্রমাণ হয়ে যাবে।

মোদির মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
এর আগে শিলিগুড়ির এক সভায় নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, বিজেপির সব প্রার্থীই তার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি জানান, তার কাছে প্রতিটি প্রার্থীই ‘মোদি’। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিক সভায় দাবি করেছেন, তিনি নিজেই তৃণমূলের সব আসনের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এবং ভোটারদের ব্যক্তিগত প্রার্থীর চেয়ে তার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি আদৌ নির্বাচন, নাকি নির্বাচন নামের প্রহসন।
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে কারাগারে পাঠালেও বা হত্যা করলেও তার প্রতি সমর্থন কমবে না, বরং আরও বাড়বে।

Modi should resign first as PM: Mamata Banerjee on 'arbitrary deletions' of  voters during SIR - The Economic Times

শাহর পাল্টা আক্রমণ
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে একাধিক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তার ভাইপোকে ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী করতে চান।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্ব একজন বাংলাভাষী এবং বাংলার মাটির মানুষের হাতেই থাকবে, বাইরে থেকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করবে না।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি
অমিত শাহ অনুপ্রবেশের বিষয়টিকেও বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে।

ভোটের সূচি
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে। নির্বাচনের আগে এই তীব্র রাজনৈতিক লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।