০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রের শক্তি কি দমন-পীড়নে, নাকি জনগণের আস্থায়? নবম পে-স্কেল এখনই নয়? আইএমএফের অবস্থানের অপেক্ষায় সরকার, বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে রাজধানীর মানিকদিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীকে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি সিলেটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ শ্রমিক, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না: এ্যানি কুষ্টিয়ায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা স্থগিত সোনার দাম বাড়ানোর একদিন পরই কমাল বাজুস, ভরিতে কমেছে ২,২১৬ টাকা সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি উজান আসামে বন্যার ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে দিনরাত উদ্ধারকর্মীরা

ফিলিপাইনের ধানচাষি: বাড়ছে খরচ, কমছে আয়

ফিলিপাইনে ধান শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। দেশের কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ধান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি লাখো কৃষকের জীবিকারও মূল ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—এই খাতের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের অবস্থা এখনও নানা চ্যালেঞ্জে ঘেরা।

কৃষকদের আয়ের বাস্তব চিত্র
ফিলিপাইনে প্রায় ২৪ লাখের বেশি ধানচাষি রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছোট জমির মালিক। কিন্তু উৎপাদনের খরচ বাড়লেও তাদের আয় সেই তুলনায় বাড়ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না, ফলে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

চাষাবাদের খরচ ও ঝুঁকি
ধান উৎপাদনের জন্য সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি, খরা এবং ঘূর্ণিঝড়। এসব কারণে উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে এবং কৃষকদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

ফিলিপাইনের তরুণেরা আর কেন ধান চাষ করতে চাচ্ছেন না | প্রথম আলো

সরকারি নীতি ও বাজারের প্রভাব
ফিলিপাইনের কৃষিখাতে নীতিগত কিছু পরিবর্তন কৃষকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভরতা বাড়ায় স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে বাজারে ধানের দাম কমে গেলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, অথচ উৎপাদন খরচ কমে না।

খাদ্য নিরাপত্তা বনাম কৃষকের বাস্তবতা
সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলেও বাস্তবে কৃষকদের অবস্থার উন্নতি সবসময় ঘটছে না। ধানের উৎপাদন বাড়লেও সেই লাভ কৃষকদের হাতে পৌঁছায় না—এটাই বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।

পরিবর্তনের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের সহায়তা করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বাজারব্যবস্থা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষকদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধাও জরুরি।

ফিলিপাইনের ধানচাষিরা এখনও সংগ্রামের মধ্যেই আছেন। খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তারা ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন না। টেকসই উন্নয়নের জন্য এই বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রের শক্তি কি দমন-পীড়নে, নাকি জনগণের আস্থায়?

ফিলিপাইনের ধানচাষি: বাড়ছে খরচ, কমছে আয়

০৩:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ফিলিপাইনে ধান শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। দেশের কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ধান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি লাখো কৃষকের জীবিকারও মূল ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—এই খাতের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের অবস্থা এখনও নানা চ্যালেঞ্জে ঘেরা।

কৃষকদের আয়ের বাস্তব চিত্র
ফিলিপাইনে প্রায় ২৪ লাখের বেশি ধানচাষি রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছোট জমির মালিক। কিন্তু উৎপাদনের খরচ বাড়লেও তাদের আয় সেই তুলনায় বাড়ছে না। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না, ফলে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

চাষাবাদের খরচ ও ঝুঁকি
ধান উৎপাদনের জন্য সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের খরচ ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি, খরা এবং ঘূর্ণিঝড়। এসব কারণে উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে এবং কৃষকদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

ফিলিপাইনের তরুণেরা আর কেন ধান চাষ করতে চাচ্ছেন না | প্রথম আলো

সরকারি নীতি ও বাজারের প্রভাব
ফিলিপাইনের কৃষিখাতে নীতিগত কিছু পরিবর্তন কৃষকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভরতা বাড়ায় স্থানীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে বাজারে ধানের দাম কমে গেলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, অথচ উৎপাদন খরচ কমে না।

খাদ্য নিরাপত্তা বনাম কৃষকের বাস্তবতা
সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলেও বাস্তবে কৃষকদের অবস্থার উন্নতি সবসময় ঘটছে না। ধানের উৎপাদন বাড়লেও সেই লাভ কৃষকদের হাতে পৌঁছায় না—এটাই বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।

পরিবর্তনের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের সহায়তা করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বাজারব্যবস্থা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষকদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধাও জরুরি।

ফিলিপাইনের ধানচাষিরা এখনও সংগ্রামের মধ্যেই আছেন। খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও তারা ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন না। টেকসই উন্নয়নের জন্য এই বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি।