দেশে হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দুই সরকারের গাফিলতির কারণে এই প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিশুর প্রাণহানি ঘটে। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ভবিষ্যতে একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাই স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি, যারা মাঠপর্যায়ে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম’—এই নীতিতে এগোচ্ছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই নারী। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ই-হেলথ কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিশু টিকাদানের অগ্রগতি: ২০১০–২০২৩
বাংলাদেশে শিশু টিকাদান কর্মসূচি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১০ সালের দিকে যেখানে পূর্ণ টিকাদান কভারেজ ছিল প্রায় ৮০–৮৫ শতাংশ, সেখানে ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৫–২০১৮ সময়কালে ৮৮–৯০ শতাংশে পৌঁছে যায়।
বিশেষ করে হাম প্রতিরোধে এমআর টিকা কার্যক্রম জোরদার করার ফলে ২০১৯–২০২২ সময়কালে টিকাদানের হার অনেক এলাকায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে করোনাকালীন সময়ে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে, যার কারণে কিছু এলাকায় কভারেজ কমে যায় এবং পরবর্তীতে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০২৩ সালে পুনরায় ক্যাম্পেইন জোরদার করে সরকার প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সক্ষম হয় বলে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন।
হাম প্রতিরোধে করণীয়
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, হামের মতো রোগ প্রতিরোধে টিকাদানের বিকল্প নেই। স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হয়ে শিশুদের টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















