রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০২৫ সাল সামুদ্রিক যাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিপজ্জনক সাগরযাত্রায় মৃত্যুর হার বেড়েছে
গত বছরে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছে। এই হার বিশ্বে শরণার্থী ও অভিবাসীদের সাগরযাত্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে উঠে এসেছে।
এই যাত্রায় অংশ নেওয়াদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু, যা পরিস্থিতিকে আরও মানবিক সংকটে পরিণত করেছে।

২০২৬ সালেও একই ধারা
২০২৬ সালেও এই বিপজ্জনক প্রবণতা থামেনি। বছরের শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০-র বেশি রোহিঙ্গা সাগরপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে মার্চের শেষ দিকে। বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা উত্তাল সাগরে ডুবে যায়। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে মাত্র ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক
বর্তমানে পুরো অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশেই আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
কিন্তু মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চলতি সহায়তা পরিকল্পনার মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরণার্থী শিবিরে নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ এবং সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন।
এছাড়া মানবপাচার, শোষণ এবং সমুদ্রে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা এই পথ বেছে নিচ্ছেন।

ফেরার স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতা কঠিন
অধিকাংশ রোহিঙ্গাই নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে নিজ দেশে ফিরতে চান। কিন্তু চলমান সংঘাত, নির্যাতন এবং নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা না থাকায় সেই সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
ফলে অনেকেই জীবন বাজি রেখে সাগরপথে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার দিকে যাত্রা করছেন।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান
এই সংকট মোকাবিলায় বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ দূর করা, নিরাপদ ও বৈধ পথে চলাচলের সুযোগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















