ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে নতুন মোড় এসেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ উত্তর প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পথও খোলা রেখেছে আদালত।
আদালতের নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি সুবাস বিদ্যার্থীর বেঞ্চে শুনানির সময় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের আন্তর্জাতিক মাত্রা থাকায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সেই কারণেই রাজ্য সরকার চাইলে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারে।
মামলার পটভূমি
এই মামলার সূত্রপাত হয় কর্ণাটকের এক বিজেপি কর্মীর করা অভিযোগ থেকে। তার দাবি, যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে রাহুল গান্ধী নিজের জাতীয়তা ব্রিটিশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যা ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রথমে রায়বেরেলির বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে আবেদনকারীর অনুরোধে মামলাটি লখনউয়ে স্থানান্তরিত হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশেষ আদালত এই আবেদন খারিজ করে দেয়, কারণ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের এখতিয়ার নেই বলে জানায় আদালত। এরপরই আবেদনকারী হাইকোর্টে যান।

আইনি ধারায় অভিযোগ
আবেদনে একাধিক আইনের ধারা প্রয়োগের দাবি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি গোপনীয়তা আইন, পাসপোর্ট আইন এবং বিদেশি আইন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আইনের আওতায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সরকারের অবস্থান
রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, উপস্থাপিত নথির ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য অপরাধের উপাদান রয়েছে। তাই তদন্ত শুরু করা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক সিংভি জানিয়েছেন, তারা এখনও আদালতের কোনও নোটিশ পাননি এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ।
উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, এই ধরনের রায় বিস্ময়কর এবং রাজনৈতিক প্রভাবিত মনে হচ্ছে। অতীতেও এমন কিছু সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতে টেকেনি বলে তারা দাবি করেন।

সামনে কী
হাইকোর্টের নির্দেশের পর এখন রাজ্য সরকারের দায়িত্ব এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করা। একই সঙ্গে এই মামলার আইনি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















