আইপিএল ২০২৬-এ দারুণ ছন্দে রয়েছে গুজরাট। অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই সমান পারফরম্যান্স দেখিয়ে কলকাতাকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে দলটি। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায়ও বড় উত্থান হয়েছে গুজরাটের।
গিলের ঝকঝকে ইনিংসেই সহজ হলো রান তাড়া
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল গুজরাট। ইনিংসের শুরুতেই গিলের কভার ড্রাইভ ইঙ্গিত দিয়েছিল, দিনটা তারই। ৫০ বলে ৮৬ রানের অসাধারণ ইনিংসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন তিনি। নিখুঁত টাইমিং আর পরিমিত শট নির্বাচনে পুরো ইনিংস জুড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন গিল।
সাই সুদর্শনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংও গতি এনে দেয় রান তাড়ায়। যদিও দ্রুত আউট হয়ে যান তিনি, এরপর জস বাটলারের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস পাওয়ারপ্লেতে দলকে এগিয়ে দেয়। এরপর গিল একাই দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচকে গুজরাটের দিকে নিয়ে যান।
শেষদিকে গিল আউট হয়ে গেলেও তখন কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। রাহুল তেওয়াটিয়া ও শাহরুখ খান শেষ মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন।
শুরুর ধাক্কায় পিছিয়ে পড়ে কলকাতা
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় কলকাতা। কাগিসো রাবাদা ও মোহাম্মদ সিরাজের দারুণ বোলিংয়ে পাওয়ারপ্লেতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। ৩৭ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর চাপ বাড়তে থাকে কলকাতার ওপর।
মাঝের ওভারে ক্যামেরন গ্রিন ও রোভম্যান পাওয়েল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে শেষ পাঁচ ওভারে গুজরাটের বোলাররা ম্যাচে ফের আধিপত্য বিস্তার করে।

শেষের ধসেই ম্যাচ হাতছাড়া
ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩২ রান তুলতে পারে কলকাতা, সেই সঙ্গে হারায় পাঁচটি উইকেট। এই ধসই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গ্রিনের লড়াকু ইনিংস একমাত্র উজ্জ্বল দিক হলেও দলকে জেতাতে পারেনি।
গুজরাটের বোলিং আক্রমণের সঠিক ব্যবহার এবং ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এসেছে এই জয়। গিলের নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গুজরাটের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে
টানা তিন জয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর গুজরাট এখন শিরোপার দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। গিলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















