০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
রাজশাহীর ছাত্রাবাসে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় বিলুপ্তির ঝুঁকি বেড়েছে তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের, এক বছরে হারিয়েছে অন্তত ৭ শতাংশ  কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা, বিপাকে পাহাড়ি জনপদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩, নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার নতুন সুযোগ, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ করের প্রস্তাব শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়? বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কায় বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতির চাপ ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

হরমুজ প্রণালী খুলেছে দাবি ইরানের, তবু শঙ্কা কাটেনি—১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে, বাজারে সতর্ক আশাবাদ

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখন সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। কিন্তু এই ঘোষণার পরও জাহাজ মালিক ও তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা কাটেনি। কারণ বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রণালী খোলা হলেও শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সমন্বিত রুট ব্যবহার করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে এই ‘সমন্বিত রুট’ আসলে তেহরানের অনুমোদিত পথ—যা কার্যত চলাচলকে নিয়ন্ত্রিত করে রাখছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, প্রণালী খোলা রয়েছে, যদিও ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন অবরোধ এখনো বহাল।

ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা নয়: আরাঘচি

বাজারে প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতা
এই ঘোষণার পর তেল ও গ্যাসের দাম কমেছে, শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি পুরোপুরি স্বস্তির পরিস্থিতি নয়, বরং ‘সতর্ক আশাবাদ’।
শিপিং খাতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলাচল কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক পরিবেশ এখনো সংবেদনশীল ও নিয়ন্ত্রিত। বিভিন্ন রুটে বিধিনিষেধ, তল্লাশি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই রয়েছে।

আটকে আছে বিপুল জ্বালানি
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অন্তত ১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল ট্যাংকারে আটকে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুতে তোলা এসব পণ্য এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রণালী পুরোপুরি খুললেও এসব জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আর উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে কয়েক মাস, এমনকি বছরও।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মাইন আতঙ্ক
হরমুজের প্রচলিত রুটে সমুদ্র-মাইন বসানো হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ওমানের কাছাকাছি পথগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এসব মাইন অপসারণের কথা বলা হয়েছে, তবুও পুরোপুরি নিশ্চয়তা নেই।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয় এবং জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

A drone view shows the Malta-flagged tanker Agios Fanourios I arriving in Iraq's  territorial waters off Basra | Reuters Connect

বিমা ও অতিরিক্ত খরচের চাপ
আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে বিমা। অনেক জাহাজ মালিক এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। বিমার খরচ বেশি হওয়ায় অনেকে প্রণালী ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন।
আগে ইরান টোল বা ফি নেওয়ার কথা বললেও সাম্প্রতিক ঘোষণায় সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে জাহাজ চলাচলের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভিন্ন বার্তা, বাড়ছে বিভ্রান্তি
ইরান বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের সামরিক পরিস্থিতির ওপর।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ আর কখনো বন্ধ হবে না—যা ইরানের ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকা বক্তব্য। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা বাজারে স্বস্তি আনলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখনো অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীর ছাত্রাবাসে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হরমুজ প্রণালী খুলেছে দাবি ইরানের, তবু শঙ্কা কাটেনি—১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে, বাজারে সতর্ক আশাবাদ

০৩:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখন সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। কিন্তু এই ঘোষণার পরও জাহাজ মালিক ও তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা কাটেনি। কারণ বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রণালী খোলা হলেও শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সমন্বিত রুট ব্যবহার করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে এই ‘সমন্বিত রুট’ আসলে তেহরানের অনুমোদিত পথ—যা কার্যত চলাচলকে নিয়ন্ত্রিত করে রাখছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, প্রণালী খোলা রয়েছে, যদিও ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন অবরোধ এখনো বহাল।

ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা নয়: আরাঘচি

বাজারে প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতা
এই ঘোষণার পর তেল ও গ্যাসের দাম কমেছে, শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি পুরোপুরি স্বস্তির পরিস্থিতি নয়, বরং ‘সতর্ক আশাবাদ’।
শিপিং খাতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলাচল কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক পরিবেশ এখনো সংবেদনশীল ও নিয়ন্ত্রিত। বিভিন্ন রুটে বিধিনিষেধ, তল্লাশি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই রয়েছে।

আটকে আছে বিপুল জ্বালানি
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অন্তত ১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল ট্যাংকারে আটকে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুতে তোলা এসব পণ্য এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রণালী পুরোপুরি খুললেও এসব জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আর উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে কয়েক মাস, এমনকি বছরও।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মাইন আতঙ্ক
হরমুজের প্রচলিত রুটে সমুদ্র-মাইন বসানো হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ওমানের কাছাকাছি পথগুলো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এসব মাইন অপসারণের কথা বলা হয়েছে, তবুও পুরোপুরি নিশ্চয়তা নেই।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয় এবং জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

A drone view shows the Malta-flagged tanker Agios Fanourios I arriving in Iraq's  territorial waters off Basra | Reuters Connect

বিমা ও অতিরিক্ত খরচের চাপ
আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে বিমা। অনেক জাহাজ মালিক এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। বিমার খরচ বেশি হওয়ায় অনেকে প্রণালী ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন।
আগে ইরান টোল বা ফি নেওয়ার কথা বললেও সাম্প্রতিক ঘোষণায় সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে জাহাজ চলাচলের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভিন্ন বার্তা, বাড়ছে বিভ্রান্তি
ইরান বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের সামরিক পরিস্থিতির ওপর।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ আর কখনো বন্ধ হবে না—যা ইরানের ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকা বক্তব্য। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণা বাজারে স্বস্তি আনলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখনো অস্থিরতার মধ্যেই রয়েছে।