০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রোটিনের দামে চাপ, নিম্নবিত্ত শিশুদের পাতে সংকট: পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ছে বিগত দুই সরকারের গাফিলতির কারণে হাম ছড়িয়ে পড়েছে—প্রধানমন্ত্রী, ২০১০–২০২৩-এ ৮০% থেকে ৯০%+ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয় গিলের ব্যাটে ঝলক, টানা তিন জয়ে উড়ছে গুজরাট—কেকেআরকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় বড় লাফ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে হামের প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জন হাসপাতালে রাজকুমারী আইকো কেন সম্রাজ্ঞী হতে পারছেন না: জনপ্রিয়তা বাড়লেও আইনের বাঁধা তামিলনাড়ু নির্বাচনে এক মঞ্চে দেখা নাও যেতে পারে স্ট্যালিন-রাহুল, জোটে আলাদা প্রচারেই জোর রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর ২০২৫: সাগরে নিখোঁজ বা নিহত প্রায় ৯০০, বিপদজনক যাত্রা থামছেই না ভারতের জ্বালানি পরিকল্পনায় ইথানল প্রকল্প: গ্রামাঞ্চলে পানি সংকটের আশঙ্কায় বিক্ষোভ রহস্যের আড়ালে সম্পর্কের বিষ: ‘সোহরাব হান্ডা’য় মুখোশ খোলে ভালোবাসার অন্ধকার দিক দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর নির্দেশ, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার সুযোগ দিল হাইকোর্ট

জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি: অস্ট্রেলিয়াকে উন্নত মোগামি যুদ্ধজাহাজ দিচ্ছে টোকিও

জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হলো। টোকিও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার আওতায় উন্নত মোগামি শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করা হবে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হলো এবং সামরিক ও শিল্প সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

চুক্তির মূল দিক

চুক্তি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি জাহাজ জাপানে তৈরি হবে, আর বাকি জাহাজগুলো অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের হেন্ডারসন শিপইয়ার্ডে নির্মাণ করা হবে।

প্রথম জাহাজ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সরবরাহ করা হবে এবং ২০৩০ সালে তা কার্যক্রমে যুক্ত হবে। তৃতীয় জাহাজ ২০৩৪ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা।

অস্ট্রেলিয়াকে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করবে জাপান, ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

কেন এই যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ

মোগামি শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। এগুলো সাবমেরিন প্রতিরোধ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক সহায়তা—সব ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যাবে।

এই জাহাজগুলোর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে রাডারে সহজে ধরা না পড়ে। পাশাপাশি এতে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং হেলিকপ্টার পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৯২ জন নাবিক ও কর্মকর্তা থাকবেন, যা একই ধরনের বড় যুদ্ধজাহাজের তুলনায় অনেক কম জনবল প্রয়োজন।

ব্যয় ও প্রতিযোগিতা

এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের অনুমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই চুক্তির জন্য জাপানের প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। জার্মানির একটি বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাকেও পিছনে ফেলে জাপান এই চুক্তি জিতেছে।

কৌশলগত প্রভাব

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব এই সিদ্ধান্তে ছিল না, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি—বিশেষ করে চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অস্ট্রেলিয়া তার পুরনো যুদ্ধজাহাজগুলো বদলে আধুনিক নৌবহর গড়ে তুলতে চায়, যাতে দূরবর্তী সমুদ্রপথ এবং উত্তর দিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন দিগন্ত

২০১৪ সালে অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম শিথিল করার পর এটি জাপানের দ্বিতীয় বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি। এর আগে ২০২০ সালে ফিলিপাইনে নজরদারি রাডার সরবরাহ করেছিল জাপান।

এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ খুলে গেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি  বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান ...

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডও এই উন্নত যুদ্ধজাহাজে আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশটি আগামী দশকে তাদের পুরনো নৌবহর বদলাতে চায়।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ এবং ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও জাপানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

জাপান এখন তার প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিমালা আরও শিথিল করার পরিকল্পনা করছে, যাতে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা যায়।

নতুন সহযোগিতা ক্ষেত্র

এই চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশ ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানববিহীন প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সারসংক্ষেপ

মোগামি যুদ্ধজাহাজ চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং এটি জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার বড় পদক্ষেপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রোটিনের দামে চাপ, নিম্নবিত্ত শিশুদের পাতে সংকট: পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ছে

জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি: অস্ট্রেলিয়াকে উন্নত মোগামি যুদ্ধজাহাজ দিচ্ছে টোকিও

০৩:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হলো। টোকিও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার আওতায় উন্নত মোগামি শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করা হবে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হলো এবং সামরিক ও শিল্প সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

চুক্তির মূল দিক

চুক্তি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি জাহাজ জাপানে তৈরি হবে, আর বাকি জাহাজগুলো অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের হেন্ডারসন শিপইয়ার্ডে নির্মাণ করা হবে।

প্রথম জাহাজ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সরবরাহ করা হবে এবং ২০৩০ সালে তা কার্যক্রমে যুক্ত হবে। তৃতীয় জাহাজ ২০৩৪ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা।

অস্ট্রেলিয়াকে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করবে জাপান, ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

কেন এই যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ

মোগামি শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। এগুলো সাবমেরিন প্রতিরোধ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সামরিক সহায়তা—সব ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যাবে।

এই জাহাজগুলোর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে রাডারে সহজে ধরা না পড়ে। পাশাপাশি এতে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং হেলিকপ্টার পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৯২ জন নাবিক ও কর্মকর্তা থাকবেন, যা একই ধরনের বড় যুদ্ধজাহাজের তুলনায় অনেক কম জনবল প্রয়োজন।

ব্যয় ও প্রতিযোগিতা

এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের অনুমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই চুক্তির জন্য জাপানের প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। জার্মানির একটি বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাকেও পিছনে ফেলে জাপান এই চুক্তি জিতেছে।

কৌশলগত প্রভাব

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব এই সিদ্ধান্তে ছিল না, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি—বিশেষ করে চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অস্ট্রেলিয়া তার পুরনো যুদ্ধজাহাজগুলো বদলে আধুনিক নৌবহর গড়ে তুলতে চায়, যাতে দূরবর্তী সমুদ্রপথ এবং উত্তর দিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন দিগন্ত

২০১৪ সালে অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম শিথিল করার পর এটি জাপানের দ্বিতীয় বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি। এর আগে ২০২০ সালে ফিলিপাইনে নজরদারি রাডার সরবরাহ করেছিল জাপান।

এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ খুলে গেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায় জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি  বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান ...

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডও এই উন্নত যুদ্ধজাহাজে আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশটি আগামী দশকে তাদের পুরনো নৌবহর বদলাতে চায়।

এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ এবং ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও জাপানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

জাপান এখন তার প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিমালা আরও শিথিল করার পরিকল্পনা করছে, যাতে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা যায়।

নতুন সহযোগিতা ক্ষেত্র

এই চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশ ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানববিহীন প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সারসংক্ষেপ

মোগামি যুদ্ধজাহাজ চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং এটি জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার বড় পদক্ষেপ।