মহাবিশ্ব কত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন এক বড় ধাঁধার মুখোমুখি। এই অমিলকেই বলা হচ্ছে ‘হাবল টানাপোড়েন’, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রহস্য হয়ে উঠেছে।
হাবল ধ্রুবক কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার নির্ণয়ের জন্য বিজ্ঞানীরা একটি মান ব্যবহার করেন, যার নাম হাবল ধ্রুবক। এই মান জানায়, দূরের গ্যালাক্সিগুলো কত দ্রুত আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই মান নির্ধারণের দুটি প্রধান পদ্ধতি ভিন্ন ফল দিচ্ছে।
দুটি পদ্ধতি, দুটি ফলাফল
প্রথম পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা কাছাকাছি নক্ষত্র ও সুপারনোভার মতো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করে তাদের দূরত্ব ও গতি নির্ণয় করেন। এই পদ্ধতিতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড প্রতি মেগাপারসেক ধরা পড়ে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমি—বিগ ব্যাংয়ের পর থেকে রয়ে যাওয়া আলোর চিহ্ন। এই প্রাচীন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সম্প্রসারণের হার হিসাব করেন প্রায় ৬৭ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড প্রতি মেগাপারসেক।
অমিলের কারণ কী
এই দুই ফলাফলের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, সেটাই ‘হাবল টানাপোড়েন’। দু’টি পদ্ধতিই অত্যন্ত নির্ভুল হওয়া সত্ত্বেও ফলাফল মিলছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আমাদের বর্তমান বৈজ্ঞানিক ধারণায় কি কোথাও ঘাটতি রয়েছে?
নতুন গবেষণা কী বলছে
সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা স্থানীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সম্প্রসারণের হার আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করেছেন, যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩.৫ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড প্রতি মেগাপারসেক। একাধিক পদ্ধতিতে এই মান যাচাই করেও একই ফল পাওয়া গেছে।
সামনে কী সম্ভাবনা
এই অমিল মেটানোর জন্য এখন বিজ্ঞানীরা দুটি দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রথমত, কোথাও পরিমাপে ভুল হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত, হয়তো মহাবিশ্বের ভেতরে এমন কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এখনো অজানা—যেমন অদ্ভুত ধরনের শক্তি, যা সম্প্রসারণকে প্রভাবিত করছে।
সব মিলিয়ে, ‘হাবল টানাপোড়েন’ শুধু একটি সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক নয়, বরং এটি মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















