মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জের ধরে টানা ৫৪ দিন কাঁচা তেলের চালান না আসায় বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল রবিবার বিকেলে সর্বশেষ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
কারণ কী
সর্বশেষ কাঁচা তেলের চালান বাংলাদেশে এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালিসহ তেলবাহী রুটগুলো বিঘ্নিত হয়। সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে মার্চ মাসে আসার কথা ছিল এমন একটি চালান এবং আবুধাবি থেকে আরেকটি চালান বাতিল হয়ে যায়। ফলে রিফাইনারিটি মহেশখালীর এসপিএম পাইপলাইনে আটকে থাকা ৫,০০০ টন এবং স্টোরেজ ট্যাংকের তলায় জমা থাকা তেল ব্যবহার করে কোনোমতে চালু ছিল। সেটাও শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন উৎপাদন বন্ধ।

কখন চালু হবে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, সৌদি আরামকো থেকে ১ লাখ টন কাঁচা তেলের নতুন চালানের জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে। চালানটি ২১ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজায়রাহ বন্দর থেকে রওনা হবে এবং পারস্য উপসাগর এড়িয়ে আরব সাগর হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তেল সংকট হবে না দাবি সরকারের
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, ইআরএল বন্ধ থাকলেও দেশে তেলের সরাসরি সংকট হবে না। কারণ রিফাইনারিটি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ করে এবং সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















