০৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
দিল্লি চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মানে রুনা লায়লা, মঞ্চ কাঁপালেন উষা উত্থুপের সঙ্গে দ্বৈত পরিবেশনায় আরাকান আর্মির প্রধান তুয়ান ম্রাত নাইং: মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা সাক্ষাৎকার বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবার উৎপাদন বন্ধ  ৪৭ আসনে জয়ের ব্যবধান ছাড়িয়েছে বাদ পড়া ভোটার—বঙ্গের ফলাফলে এসআইআর নিয়ে নতুন প্রশ্ন ভারতে প্রথমবার তরুণ ভোটারদের জোয়ারে বদলের বার্তা- নতুন রাজনৈতিক সংকেত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের কৌশল: অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা, ইস্যুভিত্তিক লড়াই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা: উত্তর-পূর্বে বিজেপির উত্থানের মুখ, টানা তৃতীয় জয়ে আরও শক্ত অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের ‘ঝালমুড়ি’ রাজনীতি মমতা: শেষ অধ্যায়, নাকি ফিনিক্সের মতো নতুন করে উত্থান? মেট গালার আগে ঝলমলে আভাস, নিউইয়র্কে জোয়ি ক্রাভিৎসের স্বচ্ছ পোশাক আর বাগদানের আংটি নজর কাড়ল

ইতালির রপ্তানির উত্থানের আড়ালে বড় ঝুঁকি, শুল্কে বছরে ক্ষতি হতে পারে বিপুল

যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি গত বছর বাড়লেও এর পেছনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন এবং উদ্বেগজনক। সামগ্রিক বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল ওষুধ রপ্তানি, যা আগাম শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কায় দ্রুত পাঠানো হয়েছিল। ফলে এই প্রবৃদ্ধি স্থায়ী নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ওষুধ রপ্তানির উপর নির্ভরতা

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ খাত বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি বরং কমেছে। বড় আকারের কিছু বিশেষ পণ্য, যেমন জাহাজ বা পরিবহন সামগ্রীর অর্ডার বাদ দিলে পতন আরও বেশি স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত সাময়িক এবং ভঙ্গুর।

শুল্কের বড় চাপ সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পুরো প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। বর্তমান শুল্ক কাঠামো বজায় থাকলে ইতালির রপ্তানি বছরে ১৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শিল্পখাতে সংকটের ইঙ্গিত

ইতালির ২২টি উৎপাদন খাতের মধ্যে ১৬টিতেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সামগ্রিক শিল্পখাত চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

Grimaldi Palermo Euro Terminal: Port Terminal Palermo

বিদেশি মালিকানার ঝুঁকি

ইতালির প্রধান রপ্তানি পণ্য ওষুধ খাতের বড় অংশই বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তারা তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনের জন্য ইতালিকে ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে শুল্ক আরও বাড়লে এসব কোম্পানি নিজ দেশে উৎপাদন ফিরিয়ে নিতে পারে, যা ইতালির জন্য বড় ঝুঁকি।

বাজার বৈচিত্র্যের চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে ইতালির ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার খুঁজতে চাইছেন। দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাজার বদলালেই শুল্কের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এখনও গুরুত্বপূর্ণ

সবকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র ইতালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক কোম্পানির রপ্তানির বড় অংশই এই দেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্ককে এখন নতুন বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিতে হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মন দিচ্ছেন।

ইতালির সাম্প্রতিক রপ্তানি বৃদ্ধি তাই আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও এর ভেতরে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইতালির যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধি আসলে সাময়িক; শুল্ক ও কাঠামোগত দুর্বলতায় ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লি চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মানে রুনা লায়লা, মঞ্চ কাঁপালেন উষা উত্থুপের সঙ্গে দ্বৈত পরিবেশনায়

ইতালির রপ্তানির উত্থানের আড়ালে বড় ঝুঁকি, শুল্কে বছরে ক্ষতি হতে পারে বিপুল

০৫:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি গত বছর বাড়লেও এর পেছনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন এবং উদ্বেগজনক। সামগ্রিক বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল ওষুধ রপ্তানি, যা আগাম শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কায় দ্রুত পাঠানো হয়েছিল। ফলে এই প্রবৃদ্ধি স্থায়ী নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ওষুধ রপ্তানির উপর নির্ভরতা

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ খাত বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি বরং কমেছে। বড় আকারের কিছু বিশেষ পণ্য, যেমন জাহাজ বা পরিবহন সামগ্রীর অর্ডার বাদ দিলে পতন আরও বেশি স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত সাময়িক এবং ভঙ্গুর।

শুল্কের বড় চাপ সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পুরো প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। বর্তমান শুল্ক কাঠামো বজায় থাকলে ইতালির রপ্তানি বছরে ১৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শিল্পখাতে সংকটের ইঙ্গিত

ইতালির ২২টি উৎপাদন খাতের মধ্যে ১৬টিতেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সামগ্রিক শিল্পখাত চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

Grimaldi Palermo Euro Terminal: Port Terminal Palermo

বিদেশি মালিকানার ঝুঁকি

ইতালির প্রধান রপ্তানি পণ্য ওষুধ খাতের বড় অংশই বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তারা তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনের জন্য ইতালিকে ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে শুল্ক আরও বাড়লে এসব কোম্পানি নিজ দেশে উৎপাদন ফিরিয়ে নিতে পারে, যা ইতালির জন্য বড় ঝুঁকি।

বাজার বৈচিত্র্যের চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে ইতালির ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার খুঁজতে চাইছেন। দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাজার বদলালেই শুল্কের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এখনও গুরুত্বপূর্ণ

সবকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র ইতালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক কোম্পানির রপ্তানির বড় অংশই এই দেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্ককে এখন নতুন বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিতে হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মন দিচ্ছেন।

ইতালির সাম্প্রতিক রপ্তানি বৃদ্ধি তাই আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও এর ভেতরে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইতালির যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধি আসলে সাময়িক; শুল্ক ও কাঠামোগত দুর্বলতায় ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।