০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত

ইতালির রপ্তানির উত্থানের আড়ালে বড় ঝুঁকি, শুল্কে বছরে ক্ষতি হতে পারে বিপুল

যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি গত বছর বাড়লেও এর পেছনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন এবং উদ্বেগজনক। সামগ্রিক বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল ওষুধ রপ্তানি, যা আগাম শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কায় দ্রুত পাঠানো হয়েছিল। ফলে এই প্রবৃদ্ধি স্থায়ী নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ওষুধ রপ্তানির উপর নির্ভরতা

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ খাত বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি বরং কমেছে। বড় আকারের কিছু বিশেষ পণ্য, যেমন জাহাজ বা পরিবহন সামগ্রীর অর্ডার বাদ দিলে পতন আরও বেশি স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত সাময়িক এবং ভঙ্গুর।

শুল্কের বড় চাপ সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পুরো প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। বর্তমান শুল্ক কাঠামো বজায় থাকলে ইতালির রপ্তানি বছরে ১৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শিল্পখাতে সংকটের ইঙ্গিত

ইতালির ২২টি উৎপাদন খাতের মধ্যে ১৬টিতেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সামগ্রিক শিল্পখাত চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

Grimaldi Palermo Euro Terminal: Port Terminal Palermo

বিদেশি মালিকানার ঝুঁকি

ইতালির প্রধান রপ্তানি পণ্য ওষুধ খাতের বড় অংশই বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তারা তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনের জন্য ইতালিকে ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে শুল্ক আরও বাড়লে এসব কোম্পানি নিজ দেশে উৎপাদন ফিরিয়ে নিতে পারে, যা ইতালির জন্য বড় ঝুঁকি।

বাজার বৈচিত্র্যের চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে ইতালির ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার খুঁজতে চাইছেন। দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাজার বদলালেই শুল্কের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এখনও গুরুত্বপূর্ণ

সবকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র ইতালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক কোম্পানির রপ্তানির বড় অংশই এই দেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্ককে এখন নতুন বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিতে হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মন দিচ্ছেন।

ইতালির সাম্প্রতিক রপ্তানি বৃদ্ধি তাই আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও এর ভেতরে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইতালির যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধি আসলে সাময়িক; শুল্ক ও কাঠামোগত দুর্বলতায় ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

ইতালির রপ্তানির উত্থানের আড়ালে বড় ঝুঁকি, শুল্কে বছরে ক্ষতি হতে পারে বিপুল

০৫:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি গত বছর বাড়লেও এর পেছনের বাস্তব চিত্র ভিন্ন এবং উদ্বেগজনক। সামগ্রিক বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল ওষুধ রপ্তানি, যা আগাম শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কায় দ্রুত পাঠানো হয়েছিল। ফলে এই প্রবৃদ্ধি স্থায়ী নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ওষুধ রপ্তানির উপর নির্ভরতা

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ খাত বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রে ইতালির রপ্তানি বরং কমেছে। বড় আকারের কিছু বিশেষ পণ্য, যেমন জাহাজ বা পরিবহন সামগ্রীর অর্ডার বাদ দিলে পতন আরও বেশি স্পষ্ট হয়। অর্থাৎ যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত সাময়িক এবং ভঙ্গুর।

শুল্কের বড় চাপ সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পুরো প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। বর্তমান শুল্ক কাঠামো বজায় থাকলে ইতালির রপ্তানি বছরে ১৬ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শিল্পখাতে সংকটের ইঙ্গিত

ইতালির ২২টি উৎপাদন খাতের মধ্যে ১৬টিতেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সামগ্রিক শিল্পখাত চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

Grimaldi Palermo Euro Terminal: Port Terminal Palermo

বিদেশি মালিকানার ঝুঁকি

ইতালির প্রধান রপ্তানি পণ্য ওষুধ খাতের বড় অংশই বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তারা তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনের জন্য ইতালিকে ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে শুল্ক আরও বাড়লে এসব কোম্পানি নিজ দেশে উৎপাদন ফিরিয়ে নিতে পারে, যা ইতালির জন্য বড় ঝুঁকি।

বাজার বৈচিত্র্যের চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে ইতালির ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার খুঁজতে চাইছেন। দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাজার বদলালেই শুল্কের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্র এখনও গুরুত্বপূর্ণ

সবকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র ইতালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক কোম্পানির রপ্তানির বড় অংশই এই দেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্ককে এখন নতুন বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিতে হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মন দিচ্ছেন।

ইতালির সাম্প্রতিক রপ্তানি বৃদ্ধি তাই আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও এর ভেতরে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইতালির যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বৃদ্ধি আসলে সাময়িক; শুল্ক ও কাঠামোগত দুর্বলতায় ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।