নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র আবারও আলোচনায়। বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে করা এক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে রাজ্যটি এখনও জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে আয়, গ্রামীণ মজুরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দুর্বলতা স্পষ্ট।
অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়া
পশ্চিমবঙ্গের মানব উন্নয়ন সূচক ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ০.৭১৯, যা জাতীয় গড় ০.৭৩২-এর নিচে। মাথাপিছু আয়ও তুলনামূলকভাবে কম। গড়ে বছরে প্রায় ১.৬৩ লাখ টাকা আয় হচ্ছে, যেখানে জাতীয় গড় ২.০৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। দেশের শীর্ষ রাজ্যগুলোর তুলনায় এই ব্যবধান আরও বেশি।
গ্রামীণ অর্থনীতিতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দৈনিক গড় মজুরি প্রায় ৩৪৭ টাকা, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। ফলে গ্রামীণ মানুষের আয় ও জীবনমান উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য খাতে কিছু স্বস্তি
অন্যদিকে স্বাস্থ্য সূচকে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। শিশু মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম, যা জাতীয় গড়ের নিচে অবস্থান করছে। টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ শিশু প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে।
তবে এই অগ্রগতির মাঝেও কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে। মাতৃমৃত্যুর হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি কিশোরী বয়সে মাতৃত্বের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা স্বাস্থ্য ও সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত।
শিক্ষা খাতে মিশ্র চিত্র
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষায় ভর্তির হার সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার এখনও উদ্বেগজনক। প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে।
উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির হার কিছুটা ভালো হলেও শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। পুরুষদের মধ্যে শিক্ষাহীনতার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি, যদিও নারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো।

অবকাঠামো ও পরিবেশে চ্যালেঞ্জ
অবকাঠামো ও পরিবেশগত সূচকেও রয়েছে বৈপরীত্য। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখনও সীমিত, যা ডিজিটাল উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, যা পরিবেশগত চাপ বাড়াচ্ছে। তবে শহরাঞ্চলে বসবাসের অবস্থা তুলনামূলক ভালো, যেখানে কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারীর সংখ্যা খুবই কম।
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন চিত্রটি একদিকে যেমন কিছু ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে বড় ধরনের বৈষম্য ও ঘাটতিও চোখে পড়ে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় কিছু অগ্রগতি থাকলেও অর্থনীতি ও অবকাঠামোর দুর্বলতা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চিত্র রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















