০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কাগুজে তেল ডিজিটাল যুগে পাকিস্তানের সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত, তবু রয়ে গেছে স্বীকৃতির সংকট খুশি নারীদের কেন টার্গেট করা হয়? অনলাইন বিষাক্ততার বিরুদ্ধে সরব হানিয়া আমির পালারি ফিল্মসের এক দশক: সোনালি ধারায় এগিয়ে চলা নারীর গল্পকে কেন পিছনে রাখা হচ্ছে: পাকিস্তানের বিনোদন জগতের অদৃশ্য বৈষম্যের গল্প ৫ টাকার সেলাই থেকে মাসে লাখ টাকা আয়, গ্রামের ছেলেটির অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প বালি ১৯৫২: লিউ কাংয়ের চোখে এক যাত্রার গল্প পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের মাঝে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তাপ, সীমা পুনর্বিন্যাসে বাড়ছে বিতর্ক পয়লা বৈশাখে ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, নির্বাচন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব তৃণমূল বঙ্গের মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর হুঁশিয়ারি, নির্বাচনী মঞ্চে শাহর কড়া বার্তা

চীনের ‘বিজ্ঞানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি

দুই মাসেই দ্বিগুণ কম্পিউটিং শক্তি

চীনের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটিং ক্লাস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসের মধ্যে এই অবকাঠামোয় ব্যবহৃত দেশীয় এআই চিপের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় যেখানে ৩০ হাজার চিপ ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজারে।

ঝেংঝৌ কেন্দ্র এখন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী

এই আপগ্রেডের ফলে ঝেংঝৌর মূল নোডটি এখন চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিমান কম্পিউটিং অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এআই-নির্ভর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চীনের জন্য একটি বড় অগ্রগতি, যা দেশটিকে ভবিষ্যৎ শিল্প প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

China has doubled its AI scientific computing capacity in two months  without a single American chip – Startup Fortune

বিদেশি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

দীর্ঘদিন ধরে চীনের গবেষকেরা ‘বিজ্ঞানভিত্তিক এআই’ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে ছিল কম কম্পিউটিং ক্ষমতা, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা।

নতুন এই ক্লাস্টার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি—চিপ থেকে শুরু করে উচ্চগতির সংযোগব্যবস্থা ও উন্নত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত সবকিছুই স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে।

এর ফলে গবেষকেরা এখন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কাজ আরও স্বাধীনভাবে করতে পারবেন, বাইরের নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি ছাড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য চীনের উন্নত চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করা।
এই পরিকল্পনায় নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মতো দেশগুলোকেও যুক্ত করে ১৫০ দিনের মধ্যে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞান গবেষণায় এআই প্রতিযোগিতা

What Is the Genesis Mission – And Why It Will Matter Far Beyond Science

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রও ‘জেনেসিস মিশন’ নামে একটি জাতীয় উদ্যোগ চালু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিশাল বৈজ্ঞানিক ডেটা ব্যবহার করে এআই মডেল তৈরি করা, নতুন ধারণা পরীক্ষা করা এবং গবেষণার গতি বাড়ানো।

ওয়ানসায়েন্স: গবেষণায় নতুন প্ল্যাটফর্ম

চীনে সর্বশেষ উন্নয়নের অংশ হিসেবে সুগন ‘ওয়ানসায়েন্স’ নামে একটি একক প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এতে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক মডেল ও ডেটাসেট রয়েছে, এবং এটি ব্যবহারের জন্য প্রোগ্রামিং জানার প্রয়োজন হয় না।
ফলে গবেষণার কাজ আরও সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে।

ওষুধ ও উপকরণ গবেষণায় বিপ্লব

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।
ওষুধ গবেষণায় প্রোটিন ভাঁজ হওয়ার সিমুলেশন কয়েকগুণ দ্রুত হয়েছে, ফলে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের সময় বছর থেকে কমে কয়েক দিনে নেমে এসেছে।
উপকরণ বিজ্ঞানে গবেষণার সময়ও একইভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

China Doubles AI Computing Power Without US Chips

জটিল বৈজ্ঞানিক সিমুলেশনে সক্ষমতা

এই কম্পিউটিং ক্লাস্টার নতুন উপকরণ, মস্তিষ্ক বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় বড় ধরনের সিমুলেশন পরিচালনা করতে সক্ষম।
এটি ৪১.৪৭ বিলিয়ন পরমাণুর বিশাল সিমুলেশন চালাতে পারে, মানব মস্তিষ্কের ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে পারে এবং জটিল তরল প্রবাহের সিমুলেশন সম্পন্ন করতে পারে।

চীনের এই অগ্রগতি দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে, অন্যদিকে চীন দেশীয় উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট।
ফলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাগুজে তেল

চীনের ‘বিজ্ঞানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি

০১:০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দুই মাসেই দ্বিগুণ কম্পিউটিং শক্তি

চীনের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটিং ক্লাস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসের মধ্যে এই অবকাঠামোয় ব্যবহৃত দেশীয় এআই চিপের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় যেখানে ৩০ হাজার চিপ ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজারে।

ঝেংঝৌ কেন্দ্র এখন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী

এই আপগ্রেডের ফলে ঝেংঝৌর মূল নোডটি এখন চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিমান কম্পিউটিং অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এআই-নির্ভর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চীনের জন্য একটি বড় অগ্রগতি, যা দেশটিকে ভবিষ্যৎ শিল্প প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

China has doubled its AI scientific computing capacity in two months  without a single American chip – Startup Fortune

বিদেশি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

দীর্ঘদিন ধরে চীনের গবেষকেরা ‘বিজ্ঞানভিত্তিক এআই’ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে ছিল কম কম্পিউটিং ক্ষমতা, সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা।

নতুন এই ক্লাস্টার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি—চিপ থেকে শুরু করে উচ্চগতির সংযোগব্যবস্থা ও উন্নত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত সবকিছুই স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে।

এর ফলে গবেষকেরা এখন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কাজ আরও স্বাধীনভাবে করতে পারবেন, বাইরের নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি ছাড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যার লক্ষ্য চীনের উন্নত চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করা।
এই পরিকল্পনায় নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মতো দেশগুলোকেও যুক্ত করে ১৫০ দিনের মধ্যে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞান গবেষণায় এআই প্রতিযোগিতা

What Is the Genesis Mission – And Why It Will Matter Far Beyond Science

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রও ‘জেনেসিস মিশন’ নামে একটি জাতীয় উদ্যোগ চালু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিশাল বৈজ্ঞানিক ডেটা ব্যবহার করে এআই মডেল তৈরি করা, নতুন ধারণা পরীক্ষা করা এবং গবেষণার গতি বাড়ানো।

ওয়ানসায়েন্স: গবেষণায় নতুন প্ল্যাটফর্ম

চীনে সর্বশেষ উন্নয়নের অংশ হিসেবে সুগন ‘ওয়ানসায়েন্স’ নামে একটি একক প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এতে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক মডেল ও ডেটাসেট রয়েছে, এবং এটি ব্যবহারের জন্য প্রোগ্রামিং জানার প্রয়োজন হয় না।
ফলে গবেষণার কাজ আরও সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে।

ওষুধ ও উপকরণ গবেষণায় বিপ্লব

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।
ওষুধ গবেষণায় প্রোটিন ভাঁজ হওয়ার সিমুলেশন কয়েকগুণ দ্রুত হয়েছে, ফলে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের সময় বছর থেকে কমে কয়েক দিনে নেমে এসেছে।
উপকরণ বিজ্ঞানে গবেষণার সময়ও একইভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

China Doubles AI Computing Power Without US Chips

জটিল বৈজ্ঞানিক সিমুলেশনে সক্ষমতা

এই কম্পিউটিং ক্লাস্টার নতুন উপকরণ, মস্তিষ্ক বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় বড় ধরনের সিমুলেশন পরিচালনা করতে সক্ষম।
এটি ৪১.৪৭ বিলিয়ন পরমাণুর বিশাল সিমুলেশন চালাতে পারে, মানব মস্তিষ্কের ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে পারে এবং জটিল তরল প্রবাহের সিমুলেশন সম্পন্ন করতে পারে।

চীনের এই অগ্রগতি দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে, অন্যদিকে চীন দেশীয় উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট।
ফলে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।