হংকং তার পর্যটন খাতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে, যেখানে শুধু বেশি সংখ্যক পর্যটক নয়, বরং বেশি ব্যয় করতে সক্ষম পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। শহরের কর্তৃপক্ষ মনে করছে, পর্যটকের মান এবং তাদের ব্যয়ের ধরনই ভবিষ্যতে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
পর্যটন কৌশলে বড় পরিবর্তন
সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর্যটন বাজেটের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্যয় করা হবে বিদেশি ও দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণকারীদের আকর্ষণে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এমন পর্যটক বাড়ানো, যারা হংকংয়ে রাত কাটায় এবং হোটেল, খাবার ও অন্যান্য খাতে বেশি খরচ করে।
কর্তৃপক্ষের মতে, যারা শহরে বেশি সময় থাকে, তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি অর্থ ব্যয় করে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
কেন এই পরিবর্তন
গত কয়েক বছরে মূল ভূখণ্ড থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও তাদের মাথাপিছু ব্যয় কমে গেছে। ফলে আয় বাড়াতে নতুন কৌশল প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হংকং এখন পর্যটকের বৈচিত্র্য বাড়াতে চায়।
বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, রাশিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশে প্রচারণা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়িক পর্যটকদের দিকে নজর
ব্যবসায়িক সম্মেলন, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন ইভেন্টভিত্তিক পর্যটকদের প্রতি আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের পর্যটকরা সাধারণ ভ্রমণকারীদের তুলনায় বেশি ব্যয় করে থাকে, কারণ অনেক সময় তাদের খরচ বহন করে প্রতিষ্ঠান বা আয়োজকরা।
২০২৫ সালে প্রায় ৫০টি বড় ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে এই খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ব্যবসায়িক পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াও এই কৌশলের সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
বাজেট পর্যটকদের গুরুত্বও থাকছে
তবে কম খরচে ভ্রমণকারী পর্যটকদের পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। অনেক তরুণ পর্যটক কম খরচে ভ্রমণ করলেও ভবিষ্যতে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলে আবার ফিরে আসতে পারে—এমন দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে পরিকল্পনায়।
এই কারণে পর্যটন নীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে সব ধরনের পর্যটকই হংকংয়ের প্রতি আকৃষ্ট থাকে।
লক্ষ্য বড়, দৃষ্টিভঙ্গিও বিস্তৃত
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ১ কোটি ৪৩ লাখ পর্যটক এসেছে, যা বছরজুড়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক আয়োজন এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, হংকংকে শুধু একটি শহর হিসেবে নয়, বরং এশিয়া ও বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















