বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজকুমার রাও নতুন করে হাজির হয়েছেন এক ভিন্নধর্মী গল্পে, যেখানে একটি সাধারণ টোস্টার ঘিরেই তৈরি হয়েছে হাসি, বিশৃঙ্খলা আর গোপন রহস্যের জটিল মিশেল। এই ছবিতে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও নিয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গল্পের কেন্দ্রে কৃপণ চরিত্র
ছবির গল্পে রাজকুমার রাও অভিনয় করেছেন রামাকান্ত নামে এক চরম কৃপণ মানুষের চরিত্রে। প্রতিটি খরচের হিসাব রাখা তার অভ্যাস। এক পর্যায়ে স্ত্রী শিলপার জোরাজুরিতে একটি দামি টোস্টার কিনতে হয় উপহার হিসেবে। কিন্তু বিয়েটিই ভেঙে যাওয়ায় সেই টোস্টার ফেরত পাওয়ার জন্য শুরু হয় একের পর এক অদ্ভুত কাণ্ড।
টোস্টার থেকে বেরিয়ে আসে গোপন রহস্য
গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন সেই সাধারণ টোস্টারকে ঘিরে বেরিয়ে আসে এক রাজনৈতিক গোপন রহস্য। এই জায়গা থেকেই সিনেমাটি কেবল হাসির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কিছুটা রহস্যময়তা তৈরি করার চেষ্টা করে। তবে সেই চেষ্টাটি শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

হাসির মুহূর্ত আছে, গভীরতা কম
ছবির প্রথম ভাগে রামাকান্তের নানা কাণ্ডকারখানা হাসির খোরাক জোগায়। বিশেষ করে তার সংলাপ বলার ভঙ্গি দর্শককে বিনোদন দেয়। কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই চরিত্রের গভীরতা কমে যায়। মাঝামাঝি একটি মোড়ের পর গল্পের গতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
সহশিল্পীদের উপস্থিতি
সানিয়া মালহোত্রার চরিত্রটি গল্পে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই কিছুটা প্রাণ এনে দেন। আর্চনা পুরান সিংয়ের অভিনয় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, তবে ততক্ষণে ছবির আকর্ষণ অনেকটাই কমে আসে।

চিত্রনির্মাণে সীমাবদ্ধতা
ছবির দৃশ্যধারণ ও উপস্থাপনায় একটি কৃত্রিমতার ছাপ রয়েছে, যা গল্পের বাস্তবতা কমিয়ে দিয়েছে। শহরের প্রেক্ষাপট থাকা সত্ত্বেও সেটির পূর্ণ ব্যবহার হয়নি, ফলে গল্প আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে ‘টোস্টার’ একটি সম্ভাবনাময় ধারণা নিয়ে তৈরি হলেও সেটিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। রাজকুমার রাওয়ের অভিনয় কিছুটা প্রাণ জুগিয়েছে ঠিকই, তবে গল্পের দুর্বলতা ছবিটিকে মাঝামাঝি অবস্থানে আটকে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















