০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে কুপিয়ে হত্যা বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ৫৮ জেলায়, জাতীয় ঝুঁকি ‘উচ্চ’—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ফ্লেমিঙ্গো ছানার জীবনচক্র ও গোলাপি রঙে বদলের অবাক করা রহস্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় থাই হসপিটালিটি জায়ান্ট ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রে একের পর এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে উপকূলজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়: ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা ও স্লিপার সেল আতঙ্কে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি

বিশ্বব্যাংকের উদ্যোক্তা তৈরির পরীক্ষায় ব্যর্থতা: ঘানায় আচরণগত পরিবর্তনের কৌশল কেন কাজ করল না

ঘানার দরিদ্র মানুষের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের একটি আচরণভিত্তিক কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। সীমিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করে তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে খুব একটা কার্যকর হয়নি।

গবেষণার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণায় উত্তর ঘানার ৩,১০৯ জন দরিদ্র অংশগ্রহণকারীর ওপর এই কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে ১,৫৬৪ জনকে হস্তক্ষেপমূলক কার্যক্রমে রাখা হয় এবং ১,৫৪৫ জন ছিল নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীতে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই নারী এবং তাদের বড় অংশেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা তৈরি এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। তাদেরকে সঞ্চয় করার জন্য বাক্স দেওয়া হয় এবং ছোট ছোট সঞ্চয় কিভাবে বড় বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে তা বোঝাতে পোস্টার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কেন কাজ করল না
গবেষণায় দেখা গেছে, এই উদ্যোগ ব্যবসায়িক দক্ষতা বা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। অনেক অংশগ্রহণকারী ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বাস্তবে সঞ্চয় পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেননি। দৈনন্দিন খরচের চাপ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে ছাপিয়ে গেছে।

এছাড়া, প্রশিক্ষণে শেখানো বিষয়গুলো মনে রাখা এবং প্রয়োগ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও সঞ্চয়ের সক্ষমতায় প্রায় ১০ শতাংশ উন্নতি দেখা গেছে, তবে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

From Decline to Revival: How CLEAR Ignited Change in Ghana - Education Out  Loud

উদ্যোক্তা হওয়ার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন
গবেষণাটি আরও একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরে—সব দরিদ্র মানুষের ভেতর কি সত্যিই একজন উদ্যোক্তা লুকিয়ে আছে? বাস্তবতা বলছে, সফল ব্যবসা গড়তে যে দক্ষতা প্রয়োজন, তা জটিল এবং সব মানুষের মধ্যে তা থাকে না।

বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতাও সীমিত। ২০২৪-২৫ সালের এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১০ শতাংশেরও কম মানুষ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত। অনেকেই ব্যর্থতার ভয়ে ব্যবসা শুরু করতেই চান না।

বিশ্বব্যাংকের ব্যাখ্যা ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রশিক্ষণের জটিলতা, মান এবং অংশগ্রহণকারীদের আচরণগত সীমাবদ্ধতার কারণে ফলাফল ভালো হয়নি। তাদের মতে, আরও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

তবে সমালোচকদের মতে, শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। মূল প্রশ্ন হলো—দরিদ্র ও কম শিক্ষিত মানুষের মধ্যে কতজন বাস্তবে সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন, তা নতুন করে ভাবতে হবে।

মূল বাস্তবতা
উন্নয়নশীল দেশের দরিদ্র অঞ্চলে ব্যবসা শুরু করা উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা—মানুষকে তারা যেমন আছে, সেভাবেই বোঝা, তাদের ওপর আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরিচয় চাপিয়ে না দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে কুপিয়ে হত্যা

বিশ্বব্যাংকের উদ্যোক্তা তৈরির পরীক্ষায় ব্যর্থতা: ঘানায় আচরণগত পরিবর্তনের কৌশল কেন কাজ করল না

০৫:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ঘানার দরিদ্র মানুষের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের একটি আচরণভিত্তিক কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। সীমিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করে তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে খুব একটা কার্যকর হয়নি।

গবেষণার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণায় উত্তর ঘানার ৩,১০৯ জন দরিদ্র অংশগ্রহণকারীর ওপর এই কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে ১,৫৬৪ জনকে হস্তক্ষেপমূলক কার্যক্রমে রাখা হয় এবং ১,৫৪৫ জন ছিল নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীতে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই নারী এবং তাদের বড় অংশেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা তৈরি এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। তাদেরকে সঞ্চয় করার জন্য বাক্স দেওয়া হয় এবং ছোট ছোট সঞ্চয় কিভাবে বড় বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে তা বোঝাতে পোস্টার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কেন কাজ করল না
গবেষণায় দেখা গেছে, এই উদ্যোগ ব্যবসায়িক দক্ষতা বা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। অনেক অংশগ্রহণকারী ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বাস্তবে সঞ্চয় পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেননি। দৈনন্দিন খরচের চাপ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে ছাপিয়ে গেছে।

এছাড়া, প্রশিক্ষণে শেখানো বিষয়গুলো মনে রাখা এবং প্রয়োগ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও সঞ্চয়ের সক্ষমতায় প্রায় ১০ শতাংশ উন্নতি দেখা গেছে, তবে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

From Decline to Revival: How CLEAR Ignited Change in Ghana - Education Out  Loud

উদ্যোক্তা হওয়ার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন
গবেষণাটি আরও একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরে—সব দরিদ্র মানুষের ভেতর কি সত্যিই একজন উদ্যোক্তা লুকিয়ে আছে? বাস্তবতা বলছে, সফল ব্যবসা গড়তে যে দক্ষতা প্রয়োজন, তা জটিল এবং সব মানুষের মধ্যে তা থাকে না।

বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতাও সীমিত। ২০২৪-২৫ সালের এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধিকাংশ দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১০ শতাংশেরও কম মানুষ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত। অনেকেই ব্যর্থতার ভয়ে ব্যবসা শুরু করতেই চান না।

বিশ্বব্যাংকের ব্যাখ্যা ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রশিক্ষণের জটিলতা, মান এবং অংশগ্রহণকারীদের আচরণগত সীমাবদ্ধতার কারণে ফলাফল ভালো হয়নি। তাদের মতে, আরও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

তবে সমালোচকদের মতে, শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। মূল প্রশ্ন হলো—দরিদ্র ও কম শিক্ষিত মানুষের মধ্যে কতজন বাস্তবে সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন, তা নতুন করে ভাবতে হবে।

মূল বাস্তবতা
উন্নয়নশীল দেশের দরিদ্র অঞ্চলে ব্যবসা শুরু করা উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা—মানুষকে তারা যেমন আছে, সেভাবেই বোঝা, তাদের ওপর আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরিচয় চাপিয়ে না দেওয়া।