কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে নিজের দরবার শরিফে গণপিটুনিতে নিহত পির আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজা জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডে ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনকে নাম উল্লেখ করে এবং ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা ইউনিটের নেতা খাজা আহমেদ ও জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, এবং খেলাফত মজলিশের উপজেলা ইউনিটের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ।
কীভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনা দুটি পর্যায়ে ঘটে। প্রথমে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল দরবারে হামলা চালায়। এরপর শত শত মাদ্রাসা ছাত্র এসে যোগ দেয় এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ২০২৩ সালের একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শামীমের বিরুদ্ধে ইসলামের অবমাননার অভিযোগ ওঠে, যা এই হামলার কারণ বলে জানা গেছে। নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বলেন, “আমার ভাইকে চোখের সামনে মারতে দেখেছি, কোনো অপরাধ করলে আইনের মাধ্যমে বিচার হওয়া উচিত ছিল।”
জাতীয় উদ্বেগ ও মব ভায়োলেন্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার সমর্থন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে ৮৮টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। ডেইলি স্টার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে আইনের শাসনের প্রতি জনআস্থা ভেঙে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















