বাংলাদেশে হাম মহামারি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ডিজিএইচএস-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ১৮ হাজার ২১৯টি সন্দেহজনক হামের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যু ঘটেছে ১৯৮ জনের। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে ব্যাপক টিকাদান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও শিশুরাই মূল শিকার
ডব্লিউএইচও-র তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের সংখ্যা সর্বোচ্চ, তবে আক্রান্তের হারে বরিশাল বিভাগ শীর্ষে রয়েছে (প্রতি মিলিয়নে ৩৯.৪)। এরপর রয়েছে ঢাকা (৩৫) এবং ময়মনসিংহ (২৯.৬)। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বিশেষত দুই বছরের নিচের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে। ১৫ এপ্রিলের মাত্র এক দিনের বুলেটিনে ঢাকায় ৫০৫টি সহ সারাদেশে ১ হাজার ৩২টি নতুন সন্দেহজনক কেস এবং তিনটি মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছে।
সরকারের জরুরি টিকাদান অভিযান শুরু
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান অভিযান শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ সরকারকে ভ্যাকসিন সরবরাহ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে সহায়তা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের পর থেকে বিশেষ টিকাদান অভিযান না হওয়া এবং করোনা মহামারিকালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়াই এই প্রকোপের মূল কারণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















