ইরান যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের শক্তি কৌশলের মধ্যে একটি তীক্ষ্ণ বৈপরীত্য সামনে এনেছে। বাংলাদেশ ব্যয়বহুল স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি সংকটে পড়েছে, অথচ পাকিস্তান এই সংকটের বড় ধাক্কা থেকে মোটামুটি রক্ষা পেয়েছে। কারণটি সহজ — পাকিস্তান গত কয়েক বছরে একটি জনচালিত সোলার বিপ্লব সম্পন্ন করেছে এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়েছে।
বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে পড়ল
২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভিন্ন পথ নেয়। পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে সোলার প্যানেলের ব্যবহার দ্রুতগতিতে বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের বার্ষিক বিদ্যুতের ৬০ শতাংশ আসে আমদানি করা গ্যাস, কয়লা ও তেল থেকে। পাকিস্তান ইরান সংকটের পর একটিও স্পট এলএনজি কার্গো কেনেনি।
শিক্ষণীয় বার্তা বাংলাদেশের জন্য
মার্কিন থিংক ট্যাংক আইইইএফএ-র বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেছেন, পাকিস্তানের সাফল্য থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না করলে ভবিষ্যতে যেকোনো ভূরাজনৈতিক সংকটে বাংলাদেশকে আবারও এভাবে ধাক্কা সামলাতে হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মে মাসের জন্য আরও তিনটি এলএনজি কার্গো কিনেছে, যা ব্যয়বহুল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















