০২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
গ্যাস সংকটে বন্ধ দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা — আমন মৌসুমে সংকটের আশঙ্কা হামে মারা গেছে তিন বছরের শিশু সিয়াম — শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ভারত থেকে আসা ট্রাকে ফেনসিডিল: সোনামসজিদে এক অভিযানে ৫,৯৩৫ বোতল জব্দ বাংলাদেশে হামের প্রকোপ ছাড়াল ২০ হাজার — ৫৮ জেলায় সংক্রমণ, ১৬৪ সন্দেহভাজন মৃত্যু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটেশন সংকট: নোংরা টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ১২ হাজার শিক্ষার্থী হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ — মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি শেষ, দ্বিতীয় দফা আলোচনার তারিখ নেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ‘মাদকসহ’ ছাত্রী আটক, তদন্ত কমিটি গঠন ডাকাত: পুরনো প্রেম, নতুন আঙ্গিক—অ্যাকশন আর আবেগে ভরা এক ভিন্ন স্বাদের সিনেমা রংপুরে  ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ‘লুট’ সিজিমালি পাহাড়ে বক্সাইট খনন ঘিরে উত্তেজনা, আদিবাসীদের প্রতিবাদে মুখোমুখি প্রশাসন

বিজেপির অভিযোগ: নারী কোটা বিল ব্যর্থতায় কংগ্রেস ‘উল্লাস করেছে’

ভারতের রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় নারী কোটা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস না হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। দলের দাবি, কংগ্রেস এবং তাদের মিত্ররা নারীদের রাজনৈতিক অধিকার বিস্তারের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় উল্টো আনন্দ প্রকাশ করেছে।

বিল ব্যর্থ, শুরু রাজনৈতিক দোষারোপ

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ এবং স্মৃতি ইরানি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ এবং ক্ষমতার রাজনীতিকে নারী অধিকার থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাদের বক্তব্য, লোকসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যর্থ হওয়ায় কংগ্রেস নেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

It's for Nitish to decide on allying with BJP: Ravi Shankar Prasad

কংগ্রেসের ‘সামন্তবাদী মানসিকতা’ অভিযোগ

বিজেপি নেতাদের মতে, কংগ্রেসের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো ‘সামন্তবাদী মানসিকতা’ বিদ্যমান। তাদের দাবি, কংগ্রেসের মিত্র দলগুলোও সমান প্রতিনিধিত্বের ধারণাকে দুর্বল করেছে, যার প্রভাব বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর ওপর পড়তে পারে।

নারী সংরক্ষণে কংগ্রেসের অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্মৃতি ইরানি কংগ্রেসের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ২০০৮ সালের নারী সংরক্ষণ বিল ২০১০ সালে রাজ্যসভায় পাস হলেও তা লোকসভায় পাস না হওয়ায় আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে এনডিএ সরকারের অধীনে একই ধরনের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিল সংসদের দুই কক্ষেই পাস করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে বিল ব্যর্থ হওয়ার পর কংগ্রেসের আচরণ সাধারণ নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করেছে। তার ভাষায়, দেশের নারীরা প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সমতার অধিকার বনাম রাজনৈতিক কৌশল

বিজেপির মতে, এই বিল কেবল একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়, বরং সংবিধানসম্মত সমতার অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা। কংগ্রেসের মন্তব্যকে ইরানি ‘অহংকারী’ ও ‘সামন্তবাদী চিন্তার প্রতিফলন’ হিসেবে আখ্যা দেন।

Meeting of 'opportunists and power-hungry': BJP on Bengaluru Opposition  meet - India Today

ডিলিমিটেশন নিয়ে বিতর্ক

রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, লোকসভা বা বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস ডিলিমিটেশন ছাড়া সম্ভব নয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন সংখ্যা নির্ধারণ হয় এবং এ দায়িত্ব ডিলিমিটেশন কমিশনের।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০২৩ সালের আইনে বলা হয়েছে, জনগণনার পর ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হলে তবেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে। তবে জনগণনা ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে সরকার ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তার মতে, ডিলিমিটেশন ছাড়া আসন পুনর্বিন্যাস বা সংরক্ষণ কার্যকর করা বাস্তবসম্মত নয়।

নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আবারও রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি এই বিলকে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিরোধীরা এর প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সংকটে বন্ধ দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা — আমন মৌসুমে সংকটের আশঙ্কা

বিজেপির অভিযোগ: নারী কোটা বিল ব্যর্থতায় কংগ্রেস ‘উল্লাস করেছে’

১২:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লোকসভায় নারী কোটা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস না হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। দলের দাবি, কংগ্রেস এবং তাদের মিত্ররা নারীদের রাজনৈতিক অধিকার বিস্তারের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় উল্টো আনন্দ প্রকাশ করেছে।

বিল ব্যর্থ, শুরু রাজনৈতিক দোষারোপ

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ এবং স্মৃতি ইরানি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ এবং ক্ষমতার রাজনীতিকে নারী অধিকার থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাদের বক্তব্য, লোকসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যর্থ হওয়ায় কংগ্রেস নেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

It's for Nitish to decide on allying with BJP: Ravi Shankar Prasad

কংগ্রেসের ‘সামন্তবাদী মানসিকতা’ অভিযোগ

বিজেপি নেতাদের মতে, কংগ্রেসের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো ‘সামন্তবাদী মানসিকতা’ বিদ্যমান। তাদের দাবি, কংগ্রেসের মিত্র দলগুলোও সমান প্রতিনিধিত্বের ধারণাকে দুর্বল করেছে, যার প্রভাব বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর ওপর পড়তে পারে।

নারী সংরক্ষণে কংগ্রেসের অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্মৃতি ইরানি কংগ্রেসের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ২০০৮ সালের নারী সংরক্ষণ বিল ২০১০ সালে রাজ্যসভায় পাস হলেও তা লোকসভায় পাস না হওয়ায় আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে এনডিএ সরকারের অধীনে একই ধরনের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিল সংসদের দুই কক্ষেই পাস করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে বিল ব্যর্থ হওয়ার পর কংগ্রেসের আচরণ সাধারণ নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করেছে। তার ভাষায়, দেশের নারীরা প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সমতার অধিকার বনাম রাজনৈতিক কৌশল

বিজেপির মতে, এই বিল কেবল একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব নয়, বরং সংবিধানসম্মত সমতার অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা। কংগ্রেসের মন্তব্যকে ইরানি ‘অহংকারী’ ও ‘সামন্তবাদী চিন্তার প্রতিফলন’ হিসেবে আখ্যা দেন।

Meeting of 'opportunists and power-hungry': BJP on Bengaluru Opposition  meet - India Today

ডিলিমিটেশন নিয়ে বিতর্ক

রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, লোকসভা বা বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস ডিলিমিটেশন ছাড়া সম্ভব নয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন সংখ্যা নির্ধারণ হয় এবং এ দায়িত্ব ডিলিমিটেশন কমিশনের।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০২৩ সালের আইনে বলা হয়েছে, জনগণনার পর ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হলে তবেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে। তবে জনগণনা ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে সরকার ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তার মতে, ডিলিমিটেশন ছাড়া আসন পুনর্বিন্যাস বা সংরক্ষণ কার্যকর করা বাস্তবসম্মত নয়।

নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আবারও রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি এই বিলকে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিরোধীরা এর প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।