০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা, ইনস্টাগ্রামে সুখবর জানালেন রণবীর-দীপিকা হরমুজে দ্বৈত অবরোধ: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপে জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা হরমুজে অবরোধ, যুদ্ধবিরতির পরও অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব? রিওর চকচকে সৈকতের আড়ালে দুর্নীতি ও অপরাধের অন্ধকার বাস্তবতা পুঁজিবাদের সংকট থেকে উত্তরণ: কেইনসের ধারণায় বদলে যাওয়া অর্থনীতির পথ ট্রাম্পের রাজনীতিতে ভ্যান্সের তত্ত্বের ভাঙন: আদর্শ বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্ব মার্কিন স্বাস্থ্যখাতে জালিয়াতির বিস্তার: কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছে সরকার, রাজনৈতিক কৌশলেও বাড়ছে তৎপরতা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বাঙ্কার ব্যবসা: মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘বেঁচে থাকার ঘর’ এখন বিলিয়ন ডলারের বাজার ট্রাম্প বনাম পোপ লিও: ধর্ম, রাজনীতি আর কটূক্তিতে উত্তাল বিশ্ব ট্রাম্পের কড়া বার্তা—লেবাননে আর বোমা নয়, যুদ্ধবিরতিতে নতুন মোড়

সিঙ্গাপুর–মালয়েশিয়া উত্তেজনা: ইরান যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা নিয়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা দুই দেশের পুরনো মতপার্থক্যকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

সংসদে প্রশ্ন থেকে শুরু উত্তেজনা

সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে এক বিরোধী সদস্য প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে কি না। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রশ্নের জবাবে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা নিয়ে দরকষাকষি করা মানে সেই নীতিকেই দুর্বল করা।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর নিজেই মালাক্কা প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। যদি কোথাও টোল বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়, তাহলে তাদের সমুদ্রবাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

US may be eyeing Strait of Malacca after Hormuz | The Daily Star

মালয়েশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

এই বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় মালয়েশিয়া। দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা নূরুল ইজ্জাহ আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়াকে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়ে উপদেশ দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তিনি সিঙ্গাপুরের অবস্থানকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানকে যুদ্ধের শিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, প্রণালী বন্ধ করা শান্তির কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

পুরনো মতপার্থক্যের নতুন রূপ

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এই ধরনের বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬৫ সালে আলাদা হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

দস্যুতা দমনে অতীতে সিঙ্গাপুর বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু মালয়েশিয়া তা মানেনি। তাদের অবস্থান ছিল, আঞ্চলিক জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট উপকূলবর্তী দেশগুলোই।

ভূরাজনীতির প্রভাব

Deadline passes for US blockade of Iran ports - New Straits Times Online

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দর অবরোধের মতো ঘটনা মালয়েশিয়ার অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে, যেখানে মালয়েশিয়া প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নেয়।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাবও রয়েছে। মালয়েশিয়ায় সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে এমন বক্তব্য কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে বহুজাতিক জোট সরকারের নেতৃত্ব ধরে রাখতে আঞ্চলিক ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে একই সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও উন্নতির দিকে। জোহর অঞ্চলে যৌথ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, কূটনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বাস্তবিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেমে নেই। ফলে এই দ্বন্দ্ব কতটা গভীরে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা, ইনস্টাগ্রামে সুখবর জানালেন রণবীর-দীপিকা

সিঙ্গাপুর–মালয়েশিয়া উত্তেজনা: ইরান যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব

১০:৫১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা নিয়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা দুই দেশের পুরনো মতপার্থক্যকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

সংসদে প্রশ্ন থেকে শুরু উত্তেজনা

সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে এক বিরোধী সদস্য প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে কি না। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রশ্নের জবাবে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা নিয়ে দরকষাকষি করা মানে সেই নীতিকেই দুর্বল করা।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর নিজেই মালাক্কা প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। যদি কোথাও টোল বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়, তাহলে তাদের সমুদ্রবাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

US may be eyeing Strait of Malacca after Hormuz | The Daily Star

মালয়েশিয়ার কড়া প্রতিক্রিয়া

এই বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় মালয়েশিয়া। দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা নূরুল ইজ্জাহ আনোয়ার বলেন, মালয়েশিয়াকে কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার বিষয়ে উপদেশ দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তিনি সিঙ্গাপুরের অবস্থানকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানকে যুদ্ধের শিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, প্রণালী বন্ধ করা শান্তির কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

পুরনো মতপার্থক্যের নতুন রূপ

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এই ধরনের বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬৫ সালে আলাদা হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

দস্যুতা দমনে অতীতে সিঙ্গাপুর বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু মালয়েশিয়া তা মানেনি। তাদের অবস্থান ছিল, আঞ্চলিক জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট উপকূলবর্তী দেশগুলোই।

ভূরাজনীতির প্রভাব

Deadline passes for US blockade of Iran ports - New Straits Times Online

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দর অবরোধের মতো ঘটনা মালয়েশিয়ার অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে, যেখানে মালয়েশিয়া প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নেয়।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাবও রয়েছে। মালয়েশিয়ায় সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে এমন বক্তব্য কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে বহুজাতিক জোট সরকারের নেতৃত্ব ধরে রাখতে আঞ্চলিক ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে একই সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও উন্নতির দিকে। জোহর অঞ্চলে যৌথ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, কূটনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বাস্তবিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেমে নেই। ফলে এই দ্বন্দ্ব কতটা গভীরে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।