০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত, পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ চবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ছাত্রলীগ নেতার একক অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গীতাপাঠ ও মহোৎসব ভণ্ডুল, আহত ৬ ব্র্যাকের ৫৩০ কোটি টাকার নিজস্ব উদ্যোগে কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় বিনিয়োগ দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা, ইনস্টাগ্রামে সুখবর জানালেন রণবীর-দীপিকা হরমুজে দ্বৈত অবরোধ: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপে জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা হরমুজে অবরোধ, যুদ্ধবিরতির পরও অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব? রিওর চকচকে সৈকতের আড়ালে দুর্নীতি ও অপরাধের অন্ধকার বাস্তবতা পুঁজিবাদের সংকট থেকে উত্তরণ: কেইনসের ধারণায় বদলে যাওয়া অর্থনীতির পথ ট্রাম্পের রাজনীতিতে ভ্যান্সের তত্ত্বের ভাঙন: আদর্শ বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

চীনের গ্রামে বৃদ্ধদের জীবনসংগ্রাম: শহরে অবসর, মাঠে এখনো পরিশ্রম

চীনের দ্রুত উন্নয়নের গল্পে ঝকঝকে শহর আর আধুনিক অবকাঠামোর ছবি যতটা উজ্জ্বল, তার বিপরীতে গ্রামীণ বৃদ্ধদের জীবন ততটাই কঠিন ও অনিশ্চিত। একদিকে শহরের মানুষ অবসরে নিশ্চিন্ত জীবন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে গ্রামে বহু প্রবীণ এখনো মাঠে কাজ করে জীবনধারণ করছেন—এই বৈষম্যই নতুন করে সামনে এসেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

মেট্রোরেলেও ফুটে ওঠে বাস্তবতা

চংকিং শহরের মেট্রোতে সকালবেলা যাত্রীরা শুধু অফিসমুখী নন, সেখানে দেখা যায় অনেক বৃদ্ধ কৃষককেও। তারা ঝুড়িতে করে শাকসবজি নিয়ে শহরের বাজারে যাচ্ছেন বিক্রির জন্য। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের কিছুটা সুবিধা দিলেও বাস্তবতা বদলায়নি—কারণ তাদের আয়ের প্রধান ভরসা এখনো এই শ্রমই।

মেট্রো ব্যবহার করে তারা সরাসরি বাজারে পৌঁছে কিছুটা বেশি আয় করতে পারছেন। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, কম দামে পণ্য বিক্রি করা—সব মিলিয়ে জীবনযুদ্ধ কঠিনই রয়ে গেছে।

China's rural pensions in focus as lawmakers fight for farmers' fair share  amid income gap | South China Morning Post

নগণ্য পেনশন, বাড়ছে বৈষম্য

গ্রামীণ প্রবীণদের জন্য মাসিক পেনশন মাত্র ১৬৩ ইউয়ান, যা শহরের অবসরপ্রাপ্তদের তুলনায় অত্যন্ত কম। শহরের অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি মাসে হাজার হাজার ইউয়ান পান, ফলে তাদের জীবনযাত্রা অনেক স্বচ্ছল।

এই পার্থক্য শুধু আয়ের নয়, জীবনমানেরও। শহরের বৃদ্ধরা যেখানে অবসর কাটান আনন্দে, গ্রামে একই বয়সী মানুষ এখনো জমিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

উন্নয়ন বনাম বাস্তব চাহিদা

চীনের সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্যের কথা বললেও গ্রামীণ প্রবীণদের অবস্থার সঙ্গে তা পুরোপুরি মেলে না। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও পেনশন বৃদ্ধির উদ্যোগ খুবই সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনশন বাড়ানো হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে প্রবীণরা স্বস্তি পাবে, পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও চাহিদা বাড়বে।

নৈতিকতা না নীতি—কোনটি বড় প্রশ্ন

China's ageing rural peasants labour into their twilight years as pensions  'cover only oil and salt' | South China Morning Post

কিছু মতামত বলছে, পরিবারের সদস্যদেরই প্রবীণদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। আবার অন্যরা মনে করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে অধিকাংশ গ্রামীণ মানুষ এখনো কাজ করছেন। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক প্রশ্নও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যতের পথে কী সিদ্ধান্ত

চীনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—উন্নয়নের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নীতি।

একজন বৃদ্ধার পরিবারের ছোট্ট চাওয়া—মাসে ৫০০ ইউয়ান পেনশন পেলে তিনি আর মাঠে কাজ করতে বাধ্য হবেন না। উন্নত অবকাঠামো গড়লেও, এই মৌলিক চাহিদা পূরণে এখনো পিছিয়ে রয়েছে বাস্তবতা।

চীনের উন্নয়নের গল্প তাই একদিকে অগ্রগতির, অন্যদিকে অসমতারও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত, পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ

চীনের গ্রামে বৃদ্ধদের জীবনসংগ্রাম: শহরে অবসর, মাঠে এখনো পরিশ্রম

১১:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চীনের দ্রুত উন্নয়নের গল্পে ঝকঝকে শহর আর আধুনিক অবকাঠামোর ছবি যতটা উজ্জ্বল, তার বিপরীতে গ্রামীণ বৃদ্ধদের জীবন ততটাই কঠিন ও অনিশ্চিত। একদিকে শহরের মানুষ অবসরে নিশ্চিন্ত জীবন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে গ্রামে বহু প্রবীণ এখনো মাঠে কাজ করে জীবনধারণ করছেন—এই বৈষম্যই নতুন করে সামনে এসেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

মেট্রোরেলেও ফুটে ওঠে বাস্তবতা

চংকিং শহরের মেট্রোতে সকালবেলা যাত্রীরা শুধু অফিসমুখী নন, সেখানে দেখা যায় অনেক বৃদ্ধ কৃষককেও। তারা ঝুড়িতে করে শাকসবজি নিয়ে শহরের বাজারে যাচ্ছেন বিক্রির জন্য। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের কিছুটা সুবিধা দিলেও বাস্তবতা বদলায়নি—কারণ তাদের আয়ের প্রধান ভরসা এখনো এই শ্রমই।

মেট্রো ব্যবহার করে তারা সরাসরি বাজারে পৌঁছে কিছুটা বেশি আয় করতে পারছেন। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, কম দামে পণ্য বিক্রি করা—সব মিলিয়ে জীবনযুদ্ধ কঠিনই রয়ে গেছে।

China's rural pensions in focus as lawmakers fight for farmers' fair share  amid income gap | South China Morning Post

নগণ্য পেনশন, বাড়ছে বৈষম্য

গ্রামীণ প্রবীণদের জন্য মাসিক পেনশন মাত্র ১৬৩ ইউয়ান, যা শহরের অবসরপ্রাপ্তদের তুলনায় অত্যন্ত কম। শহরের অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি মাসে হাজার হাজার ইউয়ান পান, ফলে তাদের জীবনযাত্রা অনেক স্বচ্ছল।

এই পার্থক্য শুধু আয়ের নয়, জীবনমানেরও। শহরের বৃদ্ধরা যেখানে অবসর কাটান আনন্দে, গ্রামে একই বয়সী মানুষ এখনো জমিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

উন্নয়ন বনাম বাস্তব চাহিদা

চীনের সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্যের কথা বললেও গ্রামীণ প্রবীণদের অবস্থার সঙ্গে তা পুরোপুরি মেলে না। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও পেনশন বৃদ্ধির উদ্যোগ খুবই সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেনশন বাড়ানো হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে প্রবীণরা স্বস্তি পাবে, পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও চাহিদা বাড়বে।

নৈতিকতা না নীতি—কোনটি বড় প্রশ্ন

China's ageing rural peasants labour into their twilight years as pensions  'cover only oil and salt' | South China Morning Post

কিছু মতামত বলছে, পরিবারের সদস্যদেরই প্রবীণদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। আবার অন্যরা মনে করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে অধিকাংশ গ্রামীণ মানুষ এখনো কাজ করছেন। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক প্রশ্নও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যতের পথে কী সিদ্ধান্ত

চীনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—উন্নয়নের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নীতি।

একজন বৃদ্ধার পরিবারের ছোট্ট চাওয়া—মাসে ৫০০ ইউয়ান পেনশন পেলে তিনি আর মাঠে কাজ করতে বাধ্য হবেন না। উন্নত অবকাঠামো গড়লেও, এই মৌলিক চাহিদা পূরণে এখনো পিছিয়ে রয়েছে বাস্তবতা।

চীনের উন্নয়নের গল্প তাই একদিকে অগ্রগতির, অন্যদিকে অসমতারও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।