চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা একাই প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচির দৃশ্য
রোববার সকাল প্রায় ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় ওই নেতা এককভাবে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করেন। তার হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
অংশগ্রহণকারীর পরিচয়
এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ওয়াহিদুল আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের আন্দোলনের সময় সংগঠনটির বিরুদ্ধে সহিংসতা, প্রাণহানি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

দাবি ও বক্তব্য
ওয়াহিদুল আলম জানান, ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কারণে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে তিনি এই কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি দেশে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘মব’ সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসে পুনরায় চালু হতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের শাখা সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগেও ছাত্রলীগ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের অভিযোগ ছিল, কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, আগেই কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না।
চাকসু নেতার মন্তব্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের কাছে বিতর্কিত। তারা প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে না পেরে গোপনে বিভিন্নভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















