চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় গীতাপাঠ ও মহোৎসব অনুষ্ঠান কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ভেঙে যায়। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা গ্রামের গলাচিপা খামারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র জানায়, খামারপাড়া এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গীতাপাঠ চলাকালে পাশের মধ্যটিলা ত্রিপুরাপাড়া থেকে আসা একদল কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে ঢুকে বিশৃঙ্খলা শুরু করে। তারা উপস্থিত নারীদের উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করলে আয়োজকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
সমাধান চেষ্টায় নতুন হামলা
পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকরা সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। খামারপাড়ার সর্দার সেকান্ত ত্রিপুরাসহ কয়েকজন মধ্যটিলা সমাজের সর্দারের কাছে গেলে সেখানেই তাদের ওপর আবারও আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

আহতদের পরিচয়
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন রূপ কুমার ত্রিপুরা (২৬), পঞ্চ কুমার ত্রিপুরা (৩২), রিফন ত্রিপুরা (২৫), সহেল ত্রিপুরা (২২), আলোমতি ত্রিপুরা (৩৫) এবং মধ্যটিলা এলাকার পুকতি ত্রিপুরা (৪৮)।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু কিশোর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। মোহন ত্রিপুরা ও পরেশ ত্রিপুরার নেতৃত্বে একটি গ্যাং সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় জড়িত হিসেবে শিপন, রাজীব, তপু, তাজেল, অজিতসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আয়োজকদের বক্তব্য
খামারপাড়া সমাজের সর্দার সেকান্ত ত্রিপুরা জানান, বিকেলের দিকে কয়েকজন কিশোর মদ্যপ অবস্থায় অনুষ্ঠানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং নারীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি শান্তভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরে উল্টো তাদের ওপর হামলা হয়, এতে ছয়জন আহত হন।
অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া
মধ্যটিলা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বৈশ্য কুমার ত্রিপুরা ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কিশোররা এর আগেও এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রথমে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে, প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের অবস্থান
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হলেও এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Sarakhon Report 



















