০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত, পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ চবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ছাত্রলীগ নেতার একক অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গীতাপাঠ ও মহোৎসব ভণ্ডুল, আহত ৬ ব্র্যাকের ৫৩০ কোটি টাকার নিজস্ব উদ্যোগে কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় বিনিয়োগ দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা, ইনস্টাগ্রামে সুখবর জানালেন রণবীর-দীপিকা হরমুজে দ্বৈত অবরোধ: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপে জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা হরমুজে অবরোধ, যুদ্ধবিরতির পরও অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব? রিওর চকচকে সৈকতের আড়ালে দুর্নীতি ও অপরাধের অন্ধকার বাস্তবতা পুঁজিবাদের সংকট থেকে উত্তরণ: কেইনসের ধারণায় বদলে যাওয়া অর্থনীতির পথ ট্রাম্পের রাজনীতিতে ভ্যান্সের তত্ত্বের ভাঙন: আদর্শ বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

কর কমানোর ঢেউয়ে আমেরিকা: জনমতের চাপে বাজেট ঘাটতির নতুন ঝুঁকি

আমেরিকার রাজনীতিতে কর নিয়ে নতুন এক মোড় দেখা যাচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে করবিরোধী আন্দোলনের কথা বহুবার শোনা গেলেও এবার পরিস্থিতি যেন ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলই এখন এমন নীতির দিকে ঝুঁকছে, যেখানে বড় একটি অংশের মানুষকে প্রায় করমুক্ত রাখা যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রের ব্যয় চলবে কীভাবে এবং এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে।

কর কমানোর প্রতিযোগিতা

বর্তমান প্রস্তাবগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকানরা কর কমানোর পাশাপাশি বিদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ধনীদের ওপর বেশি কর চাপিয়ে সাধারণ মানুষের কর কমানোর পক্ষে। কিন্তু এই দুই পথের কোনোটিই পুরো ব্যয়ভার বহন করতে পারবে না বলে আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

গত কয়েক বছরে কর কমানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় ‘টিপসের ওপর কর নেই’ নীতিও রয়েছে। যদিও এটি জনপ্রিয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে।

Trump's Proposed Tax Cuts and Increased Tariffs Could Hurt Poorer  Households - The New York Times

ডেমোক্র্যাটদের নতুন কৌশল

ডেমোক্র্যাটদের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে অনেক বেশি মানুষ করমুক্ত সুবিধা পাবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কর ছাড় ও সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার খরচ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্লেষণ রয়েছে ।

আরেকটি প্রস্তাবে নির্দিষ্ট আয়ের নিচে থাকা ব্যক্তিদের পুরোপুরি করমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যার ভার সামলাতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

জনমতের প্রভাব

এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার ঘাটতি। অনেকেই মনে করছেন, তাদের করের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে কর কমানোর প্রস্তাবগুলো জনসমর্থন পাচ্ছে।

জরিপে দেখা গেছে, বিভিন্ন আয়ের স্তরের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই মনে করেন তারা বেশি কর দিচ্ছেন, যদিও বাস্তবে তাদের করের হার ভিন্ন।

Tax-free income ceiling to stay the same | The Daily Star

রাজ্য পর্যায়ে নতুন প্রবণতা

শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও কর কমানোর প্রবণতা বাড়ছে। কোথাও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো কর ব্যবস্থাই পরিবর্তনের চিন্তা চলছে। কিছু রাজ্যে সম্পূর্ণ আয়কর তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

অর্থনীতির সামনে বড় প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাজেট ঘাটতি ও ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হলেও বাস্তবায়নে ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে, কর কমানোর এই নতুন ঢেউ আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই পথ কতটা টেকসই হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত, পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ

কর কমানোর ঢেউয়ে আমেরিকা: জনমতের চাপে বাজেট ঘাটতির নতুন ঝুঁকি

১১:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আমেরিকার রাজনীতিতে কর নিয়ে নতুন এক মোড় দেখা যাচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে করবিরোধী আন্দোলনের কথা বহুবার শোনা গেলেও এবার পরিস্থিতি যেন ভিন্ন মাত্রা নিয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলই এখন এমন নীতির দিকে ঝুঁকছে, যেখানে বড় একটি অংশের মানুষকে প্রায় করমুক্ত রাখা যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রের ব্যয় চলবে কীভাবে এবং এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে।

কর কমানোর প্রতিযোগিতা

বর্তমান প্রস্তাবগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকানরা কর কমানোর পাশাপাশি বিদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ধনীদের ওপর বেশি কর চাপিয়ে সাধারণ মানুষের কর কমানোর পক্ষে। কিন্তু এই দুই পথের কোনোটিই পুরো ব্যয়ভার বহন করতে পারবে না বলে আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

গত কয়েক বছরে কর কমানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় ‘টিপসের ওপর কর নেই’ নীতিও রয়েছে। যদিও এটি জনপ্রিয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে।

Trump's Proposed Tax Cuts and Increased Tariffs Could Hurt Poorer  Households - The New York Times

ডেমোক্র্যাটদের নতুন কৌশল

ডেমোক্র্যাটদের সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে অনেক বেশি মানুষ করমুক্ত সুবিধা পাবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কর ছাড় ও সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার খরচ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্লেষণ রয়েছে ।

আরেকটি প্রস্তাবে নির্দিষ্ট আয়ের নিচে থাকা ব্যক্তিদের পুরোপুরি করমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যার ভার সামলাতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

জনমতের প্রভাব

এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার ঘাটতি। অনেকেই মনে করছেন, তাদের করের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে কর কমানোর প্রস্তাবগুলো জনসমর্থন পাচ্ছে।

জরিপে দেখা গেছে, বিভিন্ন আয়ের স্তরের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই মনে করেন তারা বেশি কর দিচ্ছেন, যদিও বাস্তবে তাদের করের হার ভিন্ন।

Tax-free income ceiling to stay the same | The Daily Star

রাজ্য পর্যায়ে নতুন প্রবণতা

শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও কর কমানোর প্রবণতা বাড়ছে। কোথাও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো কর ব্যবস্থাই পরিবর্তনের চিন্তা চলছে। কিছু রাজ্যে সম্পূর্ণ আয়কর তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

অর্থনীতির সামনে বড় প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাজেট ঘাটতি ও ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হলেও বাস্তবায়নে ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে, কর কমানোর এই নতুন ঢেউ আমেরিকার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই পথ কতটা টেকসই হবে, তা সময়ই বলে দেবে।