০৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
লন্ডনে ইহুদি উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ, ‘ইরানি প্রক্সি’র সংশ্লিষ্টতা তদন্তে ব্রিটিশ পুলিশ হাম প্রতিরোধে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি: ১৫ লাখ সিরিঞ্জ দিচ্ছে ব্র্যাক, মাঠে নামছে ২৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, উত্তেজনা বাড়ছে কোরীয় উপদ্বীপে সাইবারস্পেসের স্বাধীনতার ঘোষণা মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কংগ্রেস ও সিপিএমের অভিযোগ কিয়েভের রাস্তায় বন্দুকধারীর গুলিতে ছয়জন নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত সীমান্ত বেড়া ও জিরো লাইনের ফাঁদে কৃষক, মুক্তির আশায় নতুন সিদ্ধান্ত ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বললেন চুক্তি এখনো ‘বহু দূরে’, হরমুজ খোলার শর্ত অপরিবর্তিত ইরান যুদ্ধের ফলে ভয়াবহ জ্বালানি ও খাদ্য সংকটে এশিয়া, আগামীতে সারা বিশ্বে এ সংকট দেখা দেবে রোবট মানুষকে হারিয়ে দিল, চীনা হিউম্যানয়েড ‘লাইটনিং’ হাফ ম্যারাথনে বিশ্বরেকর্ড ভাঙল

মণিপুরে অচলাবস্থা ঘিরে বিজেপি বয়কটের ডাক

মণিপুরে চলমান সহিংসতা ও অচলাবস্থার মধ্যে রাজ্যের একটি প্রভাবশালী সংগঠন শাসক দল বিজেপিকে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অচলাবস্থা ও বয়কটের ডাক

ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের জোট ‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ রবিবার রাজ্যের মানুষকে বিজেপি বা তাদের নেতাদের কোনো অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে—কেন তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের ওপর হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

সংগঠনের অভিযোগ

সংগঠনের এক নেতা শান্তা নাহাকপাম অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কোনো সম্প্রদায়ের নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে কার্যত সংযুক্ত নন এবং বর্তমান সংকটের গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন না। তাঁর মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, অথচ সরকার তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।

Amid Fresh Spate of Violence, Meitei Organisations in Manipur Announce Boycott of BJP - The Wire

‘নরকো-সন্ত্রাস’ বিতর্ক

মণিপুরের অ-কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ ‘নরকো-সন্ত্রাসী’ শব্দটি ব্যবহার করে কুকি-জো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বোঝাতে, যাদের অনেকেই সরকারের সঙ্গে স্থগিত অভিযানের চুক্তির আওতায় রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। এর ফলেই রাজ্যে এক ধরনের ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অচলাবস্থার প্রভাব

মেইতেই নারী সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠীর ডাকা পাঁচ দিনের অচলাবস্থার প্রথম দিনেই ইম্ফল উপত্যকার পাঁচটি জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় থমকে যায়। বাজার, যানবাহন ও অন্যান্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণ ও সময়সীমা

বিষ্ণুপুর জেলার ত্রংলাওবি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে এক পাঁচ বছরের ছেলে ও ছয় মাসের এক শিশুকন্যার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সংগঠনগুলো।

অভিযোগ ও পাল্টা দাবি

Manipur Home Minister Govindas Konthoujam on Sunday (April 19, 2025) said additional security forces would arrive in the State after the West Bengal elections.

এই হামলার জন্য কুকি উগ্রপন্থীদের দায়ী করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। পরে অচলাবস্থার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে সাত দিন করা হয়।

সরকারের আবেদন ও প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম সাধারণ মানুষের স্বার্থে অচলাবস্থা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে এই আহ্বানে সাড়া মেলেনি।

নাগা সংগঠনের সমর্থন

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন একটি শীর্ষ নাগা সংগঠন মেইতেই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তিন দিনের অচলাবস্থা ঘোষণা করে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল জানায়, দুই তাংখুল নাগা ব্যক্তির হত্যার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে মণিপুরে সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডনে ইহুদি উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ, ‘ইরানি প্রক্সি’র সংশ্লিষ্টতা তদন্তে ব্রিটিশ পুলিশ

মণিপুরে অচলাবস্থা ঘিরে বিজেপি বয়কটের ডাক

০২:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মণিপুরে চলমান সহিংসতা ও অচলাবস্থার মধ্যে রাজ্যের একটি প্রভাবশালী সংগঠন শাসক দল বিজেপিকে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অচলাবস্থা ও বয়কটের ডাক

ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের জোট ‘কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি’ রবিবার রাজ্যের মানুষকে বিজেপি বা তাদের নেতাদের কোনো অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে—কেন তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের ওপর হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

সংগঠনের অভিযোগ

সংগঠনের এক নেতা শান্তা নাহাকপাম অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কোনো সম্প্রদায়ের নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে কার্যত সংযুক্ত নন এবং বর্তমান সংকটের গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন না। তাঁর মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, অথচ সরকার তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।

Amid Fresh Spate of Violence, Meitei Organisations in Manipur Announce Boycott of BJP - The Wire

‘নরকো-সন্ত্রাস’ বিতর্ক

মণিপুরের অ-কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ ‘নরকো-সন্ত্রাসী’ শব্দটি ব্যবহার করে কুকি-জো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বোঝাতে, যাদের অনেকেই সরকারের সঙ্গে স্থগিত অভিযানের চুক্তির আওতায় রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। এর ফলেই রাজ্যে এক ধরনের ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অচলাবস্থার প্রভাব

মেইতেই নারী সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠীর ডাকা পাঁচ দিনের অচলাবস্থার প্রথম দিনেই ইম্ফল উপত্যকার পাঁচটি জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় থমকে যায়। বাজার, যানবাহন ও অন্যান্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণ ও সময়সীমা

বিষ্ণুপুর জেলার ত্রংলাওবি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে এক পাঁচ বছরের ছেলে ও ছয় মাসের এক শিশুকন্যার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সংগঠনগুলো।

অভিযোগ ও পাল্টা দাবি

Manipur Home Minister Govindas Konthoujam on Sunday (April 19, 2025) said additional security forces would arrive in the State after the West Bengal elections.

এই হামলার জন্য কুকি উগ্রপন্থীদের দায়ী করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। পরে অচলাবস্থার মেয়াদ আরও বাড়িয়ে সাত দিন করা হয়।

সরকারের আবেদন ও প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম সাধারণ মানুষের স্বার্থে অচলাবস্থা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তবে এই আহ্বানে সাড়া মেলেনি।

নাগা সংগঠনের সমর্থন

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন একটি শীর্ষ নাগা সংগঠন মেইতেই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নাগা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তিন দিনের অচলাবস্থা ঘোষণা করে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল জানায়, দুই তাংখুল নাগা ব্যক্তির হত্যার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি

সব মিলিয়ে মণিপুরে সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।