ভারতের তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস ও সিপিএম। জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্য অনিল আকারা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে জানান, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন, যা আচরণবিধির পরিপন্থী। বিশেষ করে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলগুলোর নাম উল্লেখ করা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সম্প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার অপব্যবহার। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিপিএমের অবস্থান
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এই ঘটনাকে নির্বাচন আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, দল ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রচার চালাতে পারেন, তবে সরকারি মালিকানাধীন গণমাধ্যম ব্যবহার করা আচরণবিধির আওতায় নিষিদ্ধ। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের আচরণ অস্বাভাবিক নয়।
এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন এম এ বেবি। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্য সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিভাজনমূলক রাজনীতি উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে প্রশ্ন
বিলটি নির্বাচনকালীন সময়ে উপস্থাপন করা নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। এম এ বেবির মতে, এই সময়ে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনা প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক নয়, বিশেষ করে যখন এটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা ২০২৯ সালের আগে নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং আরএসএস এই বিলকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে ভবিষ্যতে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করা যায়।

বিরোধীদের ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া
সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পরাজিত হওয়াকে বিরোধীরা গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছে। কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সানি জোসেফ বলেন, নারীদের সংরক্ষণের নামে যে দাবি করা হয়েছে তা বাস্তবে ভ্রান্ত।
তার মতে, বিলটির প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন এবং নির্দিষ্ট রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ভবিষ্যতের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, নারীদের সংরক্ষণকে সামনে রেখে প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















