১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
নগদ অর্থ নয়, উন্নয়নের পরবর্তী লড়াই জ্ঞান ও সক্ষমতার শুধু বিজেপি-বিরোধিতা নয়, ভারতের বিরোধী জোটের ভিত্তি হতে হবে ফেডারেল গণতন্ত্র চীন এগিয়ে, ন্যাফথা সংকটে চাপে এশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সুন্দরবনে কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা, আহত একাধিক সদস্য খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ আগুন, রাতভর কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট, ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ইজারাদারকে টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’ আমির খান জুলাই ৫-এর বিয়ের কথা নিজেই নিশ্চিত করলেন: ‘মনে মনে আগেই বিয়ে করেছিলাম’ ‘রাখ’ আমাজন প্রাইমে আসছে কাল: ১৯৭৮-এর কুখ্যাত রঙা-বিল্লা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলী ফাজালের গ্রিপিং ক্রাইম থ্রিলার বলিউডের এ বছরের মেগাহিট ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এখন JioHotstar-এ, ১,৮৫২ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার

কেপপ সুপারস্টার বিটিএসের প্রত্যাবর্তনে থমকে সিউল, ৪০ লাখ অ্যালবাম বিক্রির মাঝেও প্রত্যাশার চেয়ে কম ভিড়

তিন বছরের বেশি বিরতির পর কনসার্টে ফিরেই দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সঙ্গীতদল বিটিএস সিউলের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল কার্যত বন্ধ করে দেয়। তবে আয়োজকদের বড় প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দর্শকসমাগম তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ: গওয়াংহওয়ামুন স্কয়ার
শনিবার গওয়াংহওয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এক ঘণ্টার এই উন্মুক্ত কনসার্টটি ছিল বিটিএসের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন। ২০২২ সালে সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিরতিতে যাওয়ার পর এই প্রথম তারা একসঙ্গে মঞ্চে উঠে। এই দলই একসময় কোরিয়ান পপ সঙ্গীতকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।

নতুন অ্যালবাম ও বিশ্ব সফরের প্রস্তুতি
কনসার্টের আগের দিনই দলটি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করে, যা প্রথম দিনেই প্রায় ৪০ লাখ কপি বিক্রি হয় বলে জানানো হয়েছে। আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তাদের বিশ্ব সফর, যা কেপপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিটিএস-এর প্রত্যাবর্তন সঙ্গে সঙ্গেই কে-পপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
কনসার্টের ভেতরের অংশে সরাসরি দেখার জন্য ছিল মাত্র ২২ হাজার টিকিট। কিন্তু শহর কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল, বাইরে অন্তত ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ জড়ো হতে পারে। সেই প্রস্তুতিতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত উপস্থিতি ছিল অনেক কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। অনেক ভক্তই সরাসরি না এসে অনলাইনে অনুষ্ঠানটি দেখেন, যা বিশ্বের ১৯০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মঞ্চের আবেগ ও শিল্পীদের অনুভূতি
দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফিরে দলের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দলের নেতা আরএম জানান, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে তারা আবার ভক্তদের সামনে ফিরেছেন। অন্য সদস্য জে-হোপ বলেন, প্রস্তুতির সময় তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ছিল—ভক্তরা তাদের ভুলে গেছে কি না।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিতর্ক
চার বছর আগে সিউলের ইটেওয়ন এলাকায় ভিড়ের চাপে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে শহর কর্তৃপক্ষ জনসমাগম নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। এ কারণে এবারও প্রায় ৮ হাজার ২০০ জন নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসা সহায়তা দল মোতায়েন করা হয়।

তবে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়ায় এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অতিরিক্ত প্রস্তুতির কারণে স্থানীয় ব্যবসা ও সামাজিক আয়োজন ব্যাহত হয়েছে।

বিটিএস-এর প্রত্যাবর্তন সঙ্গে সঙ্গেই কে-পপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

বিশ্ব সফরের বিশাল পরিকল্পনা
বিটিএসের বিশ্ব সফর ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৩৪টি অঞ্চলে ৮২টি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সফর থেকে মোট আয় প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন ওন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ যোগ হলে মোট শোর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিটি শোতে গড়ে ৫০ হাজার দর্শক ধরলেও মোট দর্শকসংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। উন্নত মঞ্চব্যবস্থার কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে আয়োজিত শোগুলো থেকে বেশি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ সেখানে টিকিটের দাম তুলনামূলক বেশি।

ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও বিশ্বজুড়ে আগ্রহ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা সিউলে এসে এই কনসার্টে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ছুটি খরচ করে এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে এসেছেন। এতে বোঝা যায়, বিটিএসের জনপ্রিয়তা এখনো বৈশ্বিক পর্যায়ে অটুট রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নগদ অর্থ নয়, উন্নয়নের পরবর্তী লড়াই জ্ঞান ও সক্ষমতার

কেপপ সুপারস্টার বিটিএসের প্রত্যাবর্তনে থমকে সিউল, ৪০ লাখ অ্যালবাম বিক্রির মাঝেও প্রত্যাশার চেয়ে কম ভিড়

১২:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

তিন বছরের বেশি বিরতির পর কনসার্টে ফিরেই দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সঙ্গীতদল বিটিএস সিউলের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল কার্যত বন্ধ করে দেয়। তবে আয়োজকদের বড় প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দর্শকসমাগম তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ: গওয়াংহওয়ামুন স্কয়ার
শনিবার গওয়াংহওয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এক ঘণ্টার এই উন্মুক্ত কনসার্টটি ছিল বিটিএসের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন। ২০২২ সালে সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিরতিতে যাওয়ার পর এই প্রথম তারা একসঙ্গে মঞ্চে উঠে। এই দলই একসময় কোরিয়ান পপ সঙ্গীতকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।

নতুন অ্যালবাম ও বিশ্ব সফরের প্রস্তুতি
কনসার্টের আগের দিনই দলটি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করে, যা প্রথম দিনেই প্রায় ৪০ লাখ কপি বিক্রি হয় বলে জানানো হয়েছে। আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তাদের বিশ্ব সফর, যা কেপপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিটিএস-এর প্রত্যাবর্তন সঙ্গে সঙ্গেই কে-পপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
কনসার্টের ভেতরের অংশে সরাসরি দেখার জন্য ছিল মাত্র ২২ হাজার টিকিট। কিন্তু শহর কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল, বাইরে অন্তত ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ জড়ো হতে পারে। সেই প্রস্তুতিতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত উপস্থিতি ছিল অনেক কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। অনেক ভক্তই সরাসরি না এসে অনলাইনে অনুষ্ঠানটি দেখেন, যা বিশ্বের ১৯০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মঞ্চের আবেগ ও শিল্পীদের অনুভূতি
দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফিরে দলের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দলের নেতা আরএম জানান, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অবশেষে তারা আবার ভক্তদের সামনে ফিরেছেন। অন্য সদস্য জে-হোপ বলেন, প্রস্তুতির সময় তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ছিল—ভক্তরা তাদের ভুলে গেছে কি না।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিতর্ক
চার বছর আগে সিউলের ইটেওয়ন এলাকায় ভিড়ের চাপে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে শহর কর্তৃপক্ষ জনসমাগম নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। এ কারণে এবারও প্রায় ৮ হাজার ২০০ জন নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসা সহায়তা দল মোতায়েন করা হয়।

তবে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়ায় এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অতিরিক্ত প্রস্তুতির কারণে স্থানীয় ব্যবসা ও সামাজিক আয়োজন ব্যাহত হয়েছে।

বিটিএস-এর প্রত্যাবর্তন সঙ্গে সঙ্গেই কে-পপকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

বিশ্ব সফরের বিশাল পরিকল্পনা
বিটিএসের বিশ্ব সফর ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৩৪টি অঞ্চলে ৮২টি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সফর থেকে মোট আয় প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন ওন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ যোগ হলে মোট শোর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিটি শোতে গড়ে ৫০ হাজার দর্শক ধরলেও মোট দর্শকসংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। উন্নত মঞ্চব্যবস্থার কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে আয়োজিত শোগুলো থেকে বেশি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ সেখানে টিকিটের দাম তুলনামূলক বেশি।

ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও বিশ্বজুড়ে আগ্রহ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা সিউলে এসে এই কনসার্টে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ছুটি খরচ করে এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে এসেছেন। এতে বোঝা যায়, বিটিএসের জনপ্রিয়তা এখনো বৈশ্বিক পর্যায়ে অটুট রয়েছে।