ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, নারী সংরক্ষণ আইন পাস হওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলো নারী প্রার্থী মনোনয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামান্য বৃদ্ধি বা কোথাও কোথাও হ্রাসই দেখা গেছে।
কোটা আইনেও সীমিত প্রভাব
২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ আইন পাস হওয়ার পর প্রত্যাশা ছিল, দলগুলো নারী প্রার্থী বাড়াবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই আইনের প্রভাব খুব সীমিত। বেশিরভাগ রাজ্যে দলগুলো কেবল সামান্য সংখ্যায় নারী প্রার্থী বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইন পাসের পর বিভিন্ন নির্বাচনে মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই হার অনেক কম।
বিভিন্ন রাজ্যের চিত্র
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালেও মোট প্রার্থীর তুলনায় শতাংশ খুব বেশি নয়। অন্যদিকে শাসক দল প্রায় একই অবস্থানে থেকেছে, আর একটি বড় দল নারী প্রার্থী কমিয়েছে।
তামিলনাড়ুতে বড় দুই দলই প্রায় সমান সংখ্যক নারী প্রার্থী দিয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে হার এখনও কম। কেরালায় কিছু দল নারী প্রার্থী কমালেও কিছু বামপন্থী দল সামান্য বৃদ্ধি করেছে।
অসমে কংগ্রেস নারী প্রার্থী বাড়ালেও অন্য বড় দল তাদের সংখ্যা কমিয়েছে। ফলে সামগ্রিক চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

কোথাও বৃদ্ধি, কোথাও পতন
সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে নারী প্রার্থীর অনুপাত বেড়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে, তার মধ্যেও খুব কম ক্ষেত্রেই তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে।
কিছু রাজ্যে নারী প্রার্থীর শতাংশ বাড়লেও অনেক সময় আসন সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রকৃত সংখ্যায় তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে বাস্তব অগ্রগতি সীমিতই থেকে গেছে।
উল্লেখযোগ্য কিছু উদাহরণ
কিছু নির্বাচনে কয়েকটি দল ২০ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে, যা ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা যায়। তবে এগুলো সংখ্যায় খুব কম এবং ধারাবাহিক প্রবণতা তৈরি করতে পারেনি।
আবার কিছু বড় জাতীয় দলের ক্ষেত্রেও নারী প্রার্থীর হার নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে বাড়লেও অন্যত্র কমেছে। কোথাও কোথাও এমনও হয়েছে যে কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
যেসব রাজ্যে নারীদের জন্য নগদ সহায়তা বা বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে কিছুটা নারী প্রার্থী বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে সেটিও খুব সীমিত।
এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নারী-কেন্দ্রিক প্রচার চালানো সত্ত্বেও দলগুলো নারী প্রার্থী কমিয়েছে, যা বাস্তবতা ও রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে।
সমগ্র চিত্র
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, নারী সংরক্ষণ আইন পাস হওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব খুব বেশি বদলায়নি। নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কেবল আইন নয়, দলগুলোর বাস্তব রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলগত পরিবর্তন জরুরি—এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সাম্প্রতিক নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















