০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
বরিশালে ধর্ষণ মামলায় ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যাস সংকট: ২০২৮ সালের আগে সিদ্ধান্ত না নিলে অর্থনীতির সামনে কঠিন বাস্তবতা ঢামেকে সপ্তম তলা থেকে লাফ, তরুণীর মৃত্যু অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন দাবার ছক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায়, অর্জনের ভিত্তিতে এগোবে নতুন সহযোগিতা কুমিল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬৭ মেরি গ্রের লড়াই: পরিসংখ্যান ও আইনের সমন্বয়ে কীভাবে বদলানো যায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াই

ইরানকে চাপে ফেলতে আমেরিকার নৌ অবরোধ শুরু, হরমুজ খুলতে চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প, অনিশ্চিত চুক্তি

১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে ইরানি বন্দরগামী ও বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর আমেরিকার নৌ অবরোধ। দ্য ইকোনমিস্ট জানাচ্ছে, ইসরায়েল ও আমেরিকা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর যখন সবাই ভেবেছিল ইরানই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে, কেউ ভাবেননি দুই মাসের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই পাল্টা অবরোধ আরোপ করবেন। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, এই অবরোধ বলবৎ হওয়ার পর ১০টি ইরানি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সবাই সেই নির্দেশ মেনেছে। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কিছু ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া ৩০ দিনের একটি অনুমোদন আর নবায়ন করা হবে না।

অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার হিসাব

আমেরিকার যুক্তি সহজ, ইরানি হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকার চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, কিন্তু ইরান নিজের তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে এবং ফি দিলে কিছু জাহাজকে পার হতে দিচ্ছে। ট্রাম্পের বার্তা, নিরপেক্ষ কার্গো যদি অবাধে চলতে না পারে, ইরানেরটাও পারবে না। ভোরটেক্সা নামের ডেটা ফার্মের আর্নেস্ট সেনসিয়ারের হিসাবে, বর্তমান মজুদ ধরে রপ্তানি বন্ধ হলে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ইরানকে উৎপাদন কমাতে হবে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রবিন ব্রুকস মনে করেন, এতে নগদ অর্থের অভাব, আমদানি বন্ধ, মুদ্রার বড় দরপতন ও হাইপারইনফ্লেশন হয়ে ইরানি সরকারকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবে। তবে বুর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের এসফান্দিয়ার বাতমানগেলিজ মনে করেন, ইরান ছয় মাস পর্যন্ত এই চাপ সহ্য করতে পারবে টাকা ছাপানো, মালয়েশিয়া ও চীনের উপকূলে ভাসমান মজুদের ১০ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি এবং আমদানিকারকদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক ঋণের মাধ্যমে।

জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক আইনে প্রশ্ন

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আটকে থাকা উপসাগরীয় সরবরাহের সঙ্গে এই নতুন অবরোধ যুক্ত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এপ্রিলের শেষে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কা আছে। ভারত ইতোমধ্যে অস্বীকার করেছে যে তারা হরমুজ পার হতে ইরানকে কোনো ফি দিয়েছে। তবে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, যে কোনো দেশের যে জাহাজ ইরানি বন্দর ছুঁয়ে এসেছে তার ওপর অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর হবে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডগামী তেলবাহী জাহাজও একই শ্রেণিতে পড়ে। ফ্রান্স ও তুরস্কের জাহাজগুলো আগে ইরানি সম্মতি নিয়ে পার হয়েছিল। রয়্যাল নেভির সাবেক থিঙ্কট্যাংক প্রধান কেভিন রোল্যান্ডসের মূল্যায়ন, এই অবরোধ নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক আইনের ভান করার কফিনে আরেকটি পেরেক।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ধর্ষণ মামলায় ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের অভিযোগ

ইরানকে চাপে ফেলতে আমেরিকার নৌ অবরোধ শুরু, হরমুজ খুলতে চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প, অনিশ্চিত চুক্তি

০৬:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে ইরানি বন্দরগামী ও বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর আমেরিকার নৌ অবরোধ। দ্য ইকোনমিস্ট জানাচ্ছে, ইসরায়েল ও আমেরিকা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর যখন সবাই ভেবেছিল ইরানই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে, কেউ ভাবেননি দুই মাসের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই পাল্টা অবরোধ আরোপ করবেন। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, এই অবরোধ বলবৎ হওয়ার পর ১০টি ইরানি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সবাই সেই নির্দেশ মেনেছে। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কিছু ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া ৩০ দিনের একটি অনুমোদন আর নবায়ন করা হবে না।

অর্থনৈতিক চাপে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার হিসাব

আমেরিকার যুক্তি সহজ, ইরানি হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকার চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, কিন্তু ইরান নিজের তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে এবং ফি দিলে কিছু জাহাজকে পার হতে দিচ্ছে। ট্রাম্পের বার্তা, নিরপেক্ষ কার্গো যদি অবাধে চলতে না পারে, ইরানেরটাও পারবে না। ভোরটেক্সা নামের ডেটা ফার্মের আর্নেস্ট সেনসিয়ারের হিসাবে, বর্তমান মজুদ ধরে রপ্তানি বন্ধ হলে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ইরানকে উৎপাদন কমাতে হবে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রবিন ব্রুকস মনে করেন, এতে নগদ অর্থের অভাব, আমদানি বন্ধ, মুদ্রার বড় দরপতন ও হাইপারইনফ্লেশন হয়ে ইরানি সরকারকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবে। তবে বুর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের এসফান্দিয়ার বাতমানগেলিজ মনে করেন, ইরান ছয় মাস পর্যন্ত এই চাপ সহ্য করতে পারবে টাকা ছাপানো, মালয়েশিয়া ও চীনের উপকূলে ভাসমান মজুদের ১০ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি এবং আমদানিকারকদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক ঋণের মাধ্যমে।

জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক আইনে প্রশ্ন

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আটকে থাকা উপসাগরীয় সরবরাহের সঙ্গে এই নতুন অবরোধ যুক্ত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এপ্রিলের শেষে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর শঙ্কা আছে। ভারত ইতোমধ্যে অস্বীকার করেছে যে তারা হরমুজ পার হতে ইরানকে কোনো ফি দিয়েছে। তবে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, যে কোনো দেশের যে জাহাজ ইরানি বন্দর ছুঁয়ে এসেছে তার ওপর অবরোধ নিরপেক্ষভাবে কার্যকর হবে। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডগামী তেলবাহী জাহাজও একই শ্রেণিতে পড়ে। ফ্রান্স ও তুরস্কের জাহাজগুলো আগে ইরানি সম্মতি নিয়ে পার হয়েছিল। রয়্যাল নেভির সাবেক থিঙ্কট্যাংক প্রধান কেভিন রোল্যান্ডসের মূল্যায়ন, এই অবরোধ নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক আইনের ভান করার কফিনে আরেকটি পেরেক।