০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নিয়ম ভেঙে সুরের নতুন ভাষা, মঞ্চে একা দাঁড়িয়ে সঙ্গীতের সীমানা বদলে দিচ্ছেন আলিসা ওয়াইলারস্টাইন লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর শেষ মুহূর্তে সিলেবাস বদল, অনিশ্চয়তায় দেড় লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় -অর্থমন্ত্রী

খড়গপুর সদর আসনে লড়াই, মৃত ভোটার ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর কেন্দ্রে। এখানে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, যার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন এবং নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

পুরনো ঘাঁটিতে প্রত্যাবর্তন, লক্ষ্য বড় জয়

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারলেও খড়গপুরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটির কথা তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, ২০১৬ সালে এখান থেকে বিধায়ক হিসেবে জিতেছিলেন, ২০১৯ সালে লোকসভায় জয় পান এবং ২০২১ সালেও এই কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ধারা বজায় ছিল। এবার তিনি এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন, যা আগে কেউ অর্জন করতে পারেননি।

খড়গপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’, পরিচয়ের রাজনীতিতে আক্রমণ

তৃণমূলের ‘বাঙালি পরিচয়’ নিয়ে রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, খড়গপুর একটি বহুজাতিক শহর, যেখানে বাঙালির সংখ্যা মাত্র ৩৮ শতাংশ। এখানে তেলুগু, ওড়িয়া, বিহার-উত্তরপ্রদেশের হিন্দিভাষী, মারাঠি ও পাঞ্জাবি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এই বাস্তবতায় শুধুমাত্র বাঙালি পরিচয়ের রাজনীতি করা এক ধরনের নাটক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, তৃণমূল কেন রাজ্যের বাইরে থেকে প্রার্থী দেয়, সেই প্রশ্নও তোলেন।

West Bengal polls 2026: Dilip Ghosh to contest from Kharagpur Sadar - The  Hindu

খাদ্য রাজনীতি ও কৃষকদের দুরবস্থা

অ-নিরামিষ খাবার নিষিদ্ধ করা হবে—এই অভিযোগকে খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, বাঙালিরা মাছপ্রেমী হলেও বর্তমানে মাছ আসছে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। গত ১৫ বছরে তৃণমূল রাজ্যকে স্বনির্ভর করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ধান ও আলু চাষিদের দুরবস্থা এবং সম্পদের লুটপাটের কথাও তুলে ধরেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষা এবং মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়ে অভিযোগে পাল্টা জবাব

তৃণমূলের কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ক্ষমতায় থাকা দলকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ সবসময়ই ওঠে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল হল কেন্দ্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অস্বীকার করা। বিভিন্ন আইন পাসের সময় রাজ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

রাজ্যের আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখন তার বাস্তবায়নের দায়িত্বও কেন্দ্র নেবে। তিনি জানান, বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে চলছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সম্ভব।

BJP has to win Bengal to expand ideological footprint, secure eastern  borders: Dilip Ghosh | West Bengal Election News - Times of India

নির্বাচনের আসল ইস্যু কী?

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) ইস্যুকে তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এই নির্বাচনের মূল ইস্যু হল নারীর নিরাপত্তা, দুর্নীতি, শিল্পের অভাব এবং কর্মসংস্থানের সংকট।

মতুয়া ভোটার ও নাগরিকত্ব ইস্যু

মতুয়া ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু মতুয়াদের ক্ষেত্রেই নয়, অনেকের নামই বাদ পড়েছে। যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে আবেদন করেননি, তাদের মধ্যে অনেকের নাম বাদ গেছে বলে দাবি করেন। তবে ভবিষ্যতে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আশ্বাসও দেন তিনি।

West Bengal Election 2021 | BJP chief Dilip Ghosh not contesting polls, to  supervise campaign- Moneycontrol.com

জোট নিয়ে বিতর্ক ও দলের অবস্থান

তৃণমূলের ‘গোপন চুক্তি’ অভিযোগ খারিজ করে দিলীপ ঘোষ জানান, বিজেপি আদর্শের সঙ্গে আপস করবে না। প্রয়োজনে দীর্ঘদিন বিরোধী আসনে বসে থাকতেও রাজি, কিন্তু মতাদর্শবিরোধী শক্তির সঙ্গে জোট করবে না।

পুরনো বনাম নতুন বিজেপি বিতর্ক

দলের মধ্যে ‘পুরনো’ ও ‘নতুন’ বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মানসিকতার বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুনরাও দলের আদর্শে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন, আর যারা পারেন না, তারা দল ছাড়েন।

নিয়ম ভেঙে সুরের নতুন ভাষা, মঞ্চে একা দাঁড়িয়ে সঙ্গীতের সীমানা বদলে দিচ্ছেন আলিসা ওয়াইলারস্টাইন

খড়গপুর সদর আসনে লড়াই, মৃত ভোটার ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

০৬:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর কেন্দ্রে। এখানে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, যার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন এবং নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

পুরনো ঘাঁটিতে প্রত্যাবর্তন, লক্ষ্য বড় জয়

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারলেও খড়গপুরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটির কথা তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, ২০১৬ সালে এখান থেকে বিধায়ক হিসেবে জিতেছিলেন, ২০১৯ সালে লোকসভায় জয় পান এবং ২০২১ সালেও এই কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ধারা বজায় ছিল। এবার তিনি এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন, যা আগে কেউ অর্জন করতে পারেননি।

খড়গপুর ‘মিনি ইন্ডিয়া’, পরিচয়ের রাজনীতিতে আক্রমণ

তৃণমূলের ‘বাঙালি পরিচয়’ নিয়ে রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, খড়গপুর একটি বহুজাতিক শহর, যেখানে বাঙালির সংখ্যা মাত্র ৩৮ শতাংশ। এখানে তেলুগু, ওড়িয়া, বিহার-উত্তরপ্রদেশের হিন্দিভাষী, মারাঠি ও পাঞ্জাবি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এই বাস্তবতায় শুধুমাত্র বাঙালি পরিচয়ের রাজনীতি করা এক ধরনের নাটক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, তৃণমূল কেন রাজ্যের বাইরে থেকে প্রার্থী দেয়, সেই প্রশ্নও তোলেন।

West Bengal polls 2026: Dilip Ghosh to contest from Kharagpur Sadar - The  Hindu

খাদ্য রাজনীতি ও কৃষকদের দুরবস্থা

অ-নিরামিষ খাবার নিষিদ্ধ করা হবে—এই অভিযোগকে খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, বাঙালিরা মাছপ্রেমী হলেও বর্তমানে মাছ আসছে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। গত ১৫ বছরে তৃণমূল রাজ্যকে স্বনির্ভর করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ধান ও আলু চাষিদের দুরবস্থা এবং সম্পদের লুটপাটের কথাও তুলে ধরেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষা এবং মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়ে অভিযোগে পাল্টা জবাব

তৃণমূলের কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ক্ষমতায় থাকা দলকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ সবসময়ই ওঠে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল হল কেন্দ্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অস্বীকার করা। বিভিন্ন আইন পাসের সময় রাজ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন তিনি।

সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

রাজ্যের আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তখন তার বাস্তবায়নের দায়িত্বও কেন্দ্র নেবে। তিনি জানান, বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে চলছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা সম্ভব।

BJP has to win Bengal to expand ideological footprint, secure eastern  borders: Dilip Ghosh | West Bengal Election News - Times of India

নির্বাচনের আসল ইস্যু কী?

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) ইস্যুকে তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এই নির্বাচনের মূল ইস্যু হল নারীর নিরাপত্তা, দুর্নীতি, শিল্পের অভাব এবং কর্মসংস্থানের সংকট।

মতুয়া ভোটার ও নাগরিকত্ব ইস্যু

মতুয়া ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু মতুয়াদের ক্ষেত্রেই নয়, অনেকের নামই বাদ পড়েছে। যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে আবেদন করেননি, তাদের মধ্যে অনেকের নাম বাদ গেছে বলে দাবি করেন। তবে ভবিষ্যতে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আশ্বাসও দেন তিনি।

West Bengal Election 2021 | BJP chief Dilip Ghosh not contesting polls, to  supervise campaign- Moneycontrol.com

জোট নিয়ে বিতর্ক ও দলের অবস্থান

তৃণমূলের ‘গোপন চুক্তি’ অভিযোগ খারিজ করে দিলীপ ঘোষ জানান, বিজেপি আদর্শের সঙ্গে আপস করবে না। প্রয়োজনে দীর্ঘদিন বিরোধী আসনে বসে থাকতেও রাজি, কিন্তু মতাদর্শবিরোধী শক্তির সঙ্গে জোট করবে না।

পুরনো বনাম নতুন বিজেপি বিতর্ক

দলের মধ্যে ‘পুরনো’ ও ‘নতুন’ বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মানসিকতার বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুনরাও দলের আদর্শে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন, আর যারা পারেন না, তারা দল ছাড়েন।