০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবাজরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে জেমস কনোলি: এডিনবরার সন্তান থেকে আইরিশ বিদ্রোহের সমাজতান্ত্রিক মুখ শীতল যুদ্ধের শিশুদের চোখে ভয়, প্রতিবাদ আর বেড়ে ওঠার গল্প—নতুন গবেষণায় উঠে এলো অজানা ইতিহাস ট্রাফালগারের যুদ্ধ: নেলসনের বিজয়, বিতর্ক আর ইতিহাসের নতুন প্রশ্ন সহাবস্থানের ইতিহাস: সংঘাতের আড়ালে মুসলিম-ইহুদি সম্পর্কের অজানা অধ্যায় প্রাচীন বিশ্বের পাঠ কেন আজও জরুরি: অতীতের ভিন্নতা বুঝেই নতুনভাবে দেখা বর্তমানকে ভিক্টোরীয় যুগ কি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান সময়? শিল্পবিপ্লব, স্থিতিশীলতা ও সাম্রাজ্যের উত্থানের বিস্ময়কর গল্প হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলা কেন অপরাধ ছিল: টিউডর যুগে ক্ষমতা ধরে রাখতে হেনরি অষ্টমের কঠোর আইন রেড ক্রসের সঙ্গে ৭০ বছরের বন্ধন: শতবর্ষে এলিজাবেথ দ্বিতীয়ের মানবিক উত্তরাধিকার নতুন করে আলোচনায় সঙ্গীতের সুরে হাজার বছরের ইতিহাস: মানুষের অনুভূতি, যুদ্ধ আর প্রেমের এক অনন্য দলিল

বার্ধক্যকে হার মানাচ্ছে স্টেম সেল থেরাপি: নতুন গবেষণায় শারীরিক দুর্বলতা কমার আশাবাদ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হয়ে পড়া—এটাই যেন স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। স্টেম সেলভিত্তিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নাকি বার্ধক্যের কারণে হওয়া শারীরিক দুর্বলতা কমাতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা উল্টেও দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র একবার স্টেম সেল প্রয়োগেই বয়স্ক মানুষের শারীরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে। বিশেষ করে যারা ‘দুর্বলতা সিনড্রোম’-এ ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট।

দুর্বলতা সিনড্রোম কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই অবস্থা মূলত বয়সজনিত একটি জটিল সমস্যা, যেখানে শরীরের শক্তি, সহনশীলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সামান্য অসুখ, আঘাত বা অস্ত্রোপচারও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়। সাধারণভাবে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি ১০ জনে একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত হন।

Chronic Inflammation | Lifespan Research Institute

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৭০ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের মধ্যে যাদের সর্বোচ্চ মাত্রার স্টেম সেল দেওয়া হয়েছিল, তারা নয় মাস পর আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ৬০ মিটার বেশি হাঁটতে সক্ষম হন। এটি প্রায় ২০ শতাংশ উন্নতি হিসেবে বিবেচিত।

শরীরের ভেতরের পরিবর্তন কীভাবে কাজ করে

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে পেশি ক্ষয় এবং শক্তি হ্রাসের কারণ হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ইনফ্লামেজিং’। এর ফলে শরীরের কোষ পুনর্গঠনের ক্ষমতাও কমে যায়।

স্টেম সেল এই সমস্যার মূল জায়গায় কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। ফলে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ও চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে আসে।

গবেষণার উল্লেখযোগ্য ফলাফল

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে স্টেম সেল দেওয়া হয়, আরেক অংশকে দেওয়া হয় প্লাসেবো বা কার্যকর নয় এমন পদার্থ। নয় মাসের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, স্টেম সেল নেওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু প্লাসেবো নেওয়া ব্যক্তিদের অবস্থা আগের মতোই বা আরও খারাপ হয়েছে।

Improving care and support for people with frailty

এছাড়া, চিকিৎসা নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের অবস্থা এতটাই উন্নত হয় যে তারা আর দুর্বলতার শ্রেণিতে পড়েন না। তাদের দৈনন্দিন চলাফেরা ও শারীরিক কার্যক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক, তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি। এই চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর, বারবার প্রয়োগ করলে কী ফল হবে—এসব বিষয় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অনেক দেশে এখনও বার্ধক্যজনিত দুর্বলতাকে আলাদা রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে এই চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন পেতে সময় লাগতে পারে।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বড় অগ্রগতি। কারণ এটি প্রথমবারের মতো দেখাল যে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা শুধু অনিবার্য নয়, বরং চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ বা উল্টানো সম্ভব।

সংক্ষেপে বলা যায়, মানুষের আয়ু যেমন বেড়েছে, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়ানো এখন বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য। আর সেই পথে স্টেম সেল থেরাপি হতে পারে এক নতুন দিগন্ত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবাজরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে

বার্ধক্যকে হার মানাচ্ছে স্টেম সেল থেরাপি: নতুন গবেষণায় শারীরিক দুর্বলতা কমার আশাবাদ

১১:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হয়ে পড়া—এটাই যেন স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। স্টেম সেলভিত্তিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নাকি বার্ধক্যের কারণে হওয়া শারীরিক দুর্বলতা কমাতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা উল্টেও দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র একবার স্টেম সেল প্রয়োগেই বয়স্ক মানুষের শারীরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে। বিশেষ করে যারা ‘দুর্বলতা সিনড্রোম’-এ ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট।

দুর্বলতা সিনড্রোম কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই অবস্থা মূলত বয়সজনিত একটি জটিল সমস্যা, যেখানে শরীরের শক্তি, সহনশীলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সামান্য অসুখ, আঘাত বা অস্ত্রোপচারও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়। সাধারণভাবে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি ১০ জনে একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত হন।

Chronic Inflammation | Lifespan Research Institute

গবেষণায় অংশ নেওয়া ৭০ থেকে ৮৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাদের মধ্যে যাদের সর্বোচ্চ মাত্রার স্টেম সেল দেওয়া হয়েছিল, তারা নয় মাস পর আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ৬০ মিটার বেশি হাঁটতে সক্ষম হন। এটি প্রায় ২০ শতাংশ উন্নতি হিসেবে বিবেচিত।

শরীরের ভেতরের পরিবর্তন কীভাবে কাজ করে

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে পেশি ক্ষয় এবং শক্তি হ্রাসের কারণ হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ইনফ্লামেজিং’। এর ফলে শরীরের কোষ পুনর্গঠনের ক্ষমতাও কমে যায়।

স্টেম সেল এই সমস্যার মূল জায়গায় কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। ফলে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ও চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে আসে।

গবেষণার উল্লেখযোগ্য ফলাফল

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে স্টেম সেল দেওয়া হয়, আরেক অংশকে দেওয়া হয় প্লাসেবো বা কার্যকর নয় এমন পদার্থ। নয় মাসের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, স্টেম সেল নেওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু প্লাসেবো নেওয়া ব্যক্তিদের অবস্থা আগের মতোই বা আরও খারাপ হয়েছে।

Improving care and support for people with frailty

এছাড়া, চিকিৎসা নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের অবস্থা এতটাই উন্নত হয় যে তারা আর দুর্বলতার শ্রেণিতে পড়েন না। তাদের দৈনন্দিন চলাফেরা ও শারীরিক কার্যক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক, তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি। এই চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর, বারবার প্রয়োগ করলে কী ফল হবে—এসব বিষয় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অনেক দেশে এখনও বার্ধক্যজনিত দুর্বলতাকে আলাদা রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে এই চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদন পেতে সময় লাগতে পারে।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বড় অগ্রগতি। কারণ এটি প্রথমবারের মতো দেখাল যে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা শুধু অনিবার্য নয়, বরং চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ বা উল্টানো সম্ভব।

সংক্ষেপে বলা যায়, মানুষের আয়ু যেমন বেড়েছে, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও বাড়ানো এখন বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য। আর সেই পথে স্টেম সেল থেরাপি হতে পারে এক নতুন দিগন্ত।