০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
খুলনায় দৈনিক প্রবাহ কার্যালয়ে হামলা, কর্মীকে মারধরের অভিযোগ মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে সংঘর্ষ, ফরিদপুরে নিহত ১ পরিবার কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, দক্ষিণ সুরমায় ইউএনও কার্যালয়ে তালা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধনের দাবি, রাজস্ব বাড়ার সম্ভাবনা ৫ পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ১১ জন—তবু এসএসসিতে কেউ পাস করেনি লালমনিরহাটে বোমা বিস্ফোরণে উত্তপ্ত জাজিরা, সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১০ ১০টি আইসিইউ বেডে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের চিকিৎসা, রংপুরে সংকটে মুমূর্ষু রোগীরা লন্ডনকে অপরাধের অর্থের রাজধানী হতে দেওয়া যাবে না বিশ্বকাপ নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ, ফিফায় বাড়ছে বিরোধ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন বার্তা, সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের দিল্লি সফরে খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার

পাখি দেখা কি বার্ধক্য ঠেকাতে পারে? নতুন গবেষণায় মস্তিষ্কের গঠন বদলের ইঙ্গিত

প্রকৃতির মাঝে বসে পাখি দেখা শুধু শখ নয়, এটি মানুষের মস্তিষ্কের জন্যও হতে পারে এক শক্তিশালী ব্যায়াম। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পাখি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের গঠনেই পরিবর্তন আনতে পারে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের গঠনে বদল

গবেষণায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ পাখিপ্রেমীদের মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মস্তিষ্কের যে অংশ মনোযোগ ও উপলব্ধির সঙ্গে যুক্ত, তা তুলনামূলকভাবে বেশি সুসংগঠিত। এই গঠনগত পরিবর্তনের কারণে তারা পাখি চেনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠেন।

বিশেষ করে, এই অংশগুলোর ভেতরে পানির অণুর চলাচল বেশি স্বাভাবিকভাবে ঘটে, যা তথ্য শনাক্ত করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে শক্তি

No photo description available.

গবেষণাটি আরও বলছে, পাখি দেখার সময় মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সূক্ষ্ম পার্থক্য খেয়াল করতে হয় এবং আগের অভিজ্ঞতা মনে রাখতে হয়। এই তিনটি দক্ষতা—মনোযোগ, পর্যবেক্ষণ ও স্মৃতি—একসঙ্গে কাজ করে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

ফলে এই অভ্যাস শুধু বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের মানসিক প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ করে।

কেন পাখি দেখা আলাদা

যেকোনো নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের জন্য ভালো—এটি জানা কথা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, পাখি দেখা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী, কারণ এটি কখনোই একঘেয়ে হয়ে ওঠে না।

প্রতিটি পরিবেশ, আলো, শব্দ এবং পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এখানে সবসময় নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। ফলে মস্তিষ্ককে সবসময় সতর্ক থাকতে হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ কমে যায়।

বার্ধক্যে স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার সম্ভাবনা

What Birdwatching Can Do for Your Brain | Psychology Today

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক পাখিপ্রেমীরা নতুনদের তুলনায় তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ। এটি ইঙ্গিত দেয়, দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় রাখলে বয়স বাড়ার পরও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক সুস্থতায় প্রকৃতির ভূমিকা

পাখি দেখা মানে শুধু একটি শখ নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার একটি মাধ্যম। এই সংযোগ মানুষের মানসিক চাপ কমায়, মনকে শান্ত রাখে এবং একই সঙ্গে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

তাই সহজ একটি অভ্যাসও কীভাবে বড় উপকার বয়ে আনতে পারে, এই গবেষণা তারই নতুন প্রমাণ তুলে ধরেছে।

পাখি দেখার মতো সাধারণ একটি কাজই যদি মস্তিষ্ককে তরুণ রাখতে সাহায্য করে, তাহলে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্ব নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় দৈনিক প্রবাহ কার্যালয়ে হামলা, কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

পাখি দেখা কি বার্ধক্য ঠেকাতে পারে? নতুন গবেষণায় মস্তিষ্কের গঠন বদলের ইঙ্গিত

১২:০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

প্রকৃতির মাঝে বসে পাখি দেখা শুধু শখ নয়, এটি মানুষের মস্তিষ্কের জন্যও হতে পারে এক শক্তিশালী ব্যায়াম। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পাখি দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের গঠনেই পরিবর্তন আনতে পারে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের গঠনে বদল

গবেষণায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ পাখিপ্রেমীদের মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মস্তিষ্কের যে অংশ মনোযোগ ও উপলব্ধির সঙ্গে যুক্ত, তা তুলনামূলকভাবে বেশি সুসংগঠিত। এই গঠনগত পরিবর্তনের কারণে তারা পাখি চেনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠেন।

বিশেষ করে, এই অংশগুলোর ভেতরে পানির অণুর চলাচল বেশি স্বাভাবিকভাবে ঘটে, যা তথ্য শনাক্ত করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে শক্তি

No photo description available.

গবেষণাটি আরও বলছে, পাখি দেখার সময় মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, সূক্ষ্ম পার্থক্য খেয়াল করতে হয় এবং আগের অভিজ্ঞতা মনে রাখতে হয়। এই তিনটি দক্ষতা—মনোযোগ, পর্যবেক্ষণ ও স্মৃতি—একসঙ্গে কাজ করে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

ফলে এই অভ্যাস শুধু বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের মানসিক প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ করে।

কেন পাখি দেখা আলাদা

যেকোনো নতুন কিছু শেখা মস্তিষ্কের জন্য ভালো—এটি জানা কথা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, পাখি দেখা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী, কারণ এটি কখনোই একঘেয়ে হয়ে ওঠে না।

প্রতিটি পরিবেশ, আলো, শব্দ এবং পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এখানে সবসময় নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। ফলে মস্তিষ্ককে সবসময় সতর্ক থাকতে হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ কমে যায়।

বার্ধক্যে স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার সম্ভাবনা

What Birdwatching Can Do for Your Brain | Psychology Today

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক পাখিপ্রেমীরা নতুনদের তুলনায় তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ। এটি ইঙ্গিত দেয়, দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় রাখলে বয়স বাড়ার পরও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক সুস্থতায় প্রকৃতির ভূমিকা

পাখি দেখা মানে শুধু একটি শখ নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার একটি মাধ্যম। এই সংযোগ মানুষের মানসিক চাপ কমায়, মনকে শান্ত রাখে এবং একই সঙ্গে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

তাই সহজ একটি অভ্যাসও কীভাবে বড় উপকার বয়ে আনতে পারে, এই গবেষণা তারই নতুন প্রমাণ তুলে ধরেছে।

পাখি দেখার মতো সাধারণ একটি কাজই যদি মস্তিষ্ককে তরুণ রাখতে সাহায্য করে, তাহলে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্ব নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।