সমুদ্রতটে খেলা করা ছোট্ট সিল শাবকদের কথা বলা শুনলে অনেকেরই মনে হতে পারে, এ যেন মানুষেরই আলাপচারিতা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, হারবার সিলের শাবকরা শুধু শব্দ করে না, বরং মানুষের মতোই পালা করে কথা বলে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের উচ্চারণে আঞ্চলিক পার্থক্যও তৈরি হয়। এই আবিষ্কার ভাষার বিবর্তন নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
মানুষের মতো যোগাযোগের ধরণ
গবেষণায় উঠে এসেছে, হারবার সিল এমন এক প্রাণী যারা নতুন শব্দ শিখতে এবং পুরোনো শব্দ বদলাতে পারে। এই ক্ষমতা প্রাণিজগতে খুব কম প্রাণীর মধ্যেই দেখা যায়। গবেষকদের মতে, শাবকরা নিজেদের মধ্যে এমনভাবে যোগাযোগ করে, যা অনেকটা মানুষের কথোপকথনের মতোই সংগঠিত ও ছন্দবদ্ধ।

আলাদা পরিচয়, তবু মিলের ছাপ
প্রতিটি সিল শাবকের নিজস্ব ডাক রয়েছে। এই ডাকের মাধ্যমেই মা সিল ভিড়ের মধ্যে নিজের বাচ্চাকে খুঁজে নেয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, পাশাপাশি থাকা শাবকদের ডাক সময়ের সঙ্গে একে অপরের মতো হয়ে উঠতে শুরু করে। একে মানুষের আঞ্চলিক উচ্চারণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যদিও মিল তৈরি হয়, তবুও প্রতিটি শাবকের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় থাকে।
পালা করে কথা বলার অভ্যাস
আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, সিল শাবকরা একসঙ্গে কথা বলে না। তারা অপেক্ষা করে, তারপর পালা করে সাড়া দেয়। মানুষের ভদ্র আলাপচারিতার মতোই এই আচরণ তাদের যোগাযোগকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণ
এই গবেষণার জন্য হাজার হাজার ঘণ্টার শব্দ রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের একটি সিল কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত এই তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা শাবকদের ডাক ও আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে শুনতে শুনতে গবেষক নিজেই অনেক শাবকের ডাক আলাদা করে চিনতে সক্ষম হন।
ভাষার বিবর্তনে নতুন দিশা
গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, জটিল যোগাযোগ শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্য প্রাণীরাও উন্নত যোগাযোগ পদ্ধতি গড়ে তুলতে পারে। কোন অংশটি মানুষের জন্য বিশেষ এবং কোন অংশটি অন্য প্রাণীর সঙ্গেও মিলে যায়—তা বোঝার মাধ্যমে ভাষার ইতিহাস ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















