মাত্র দুই দিন নিয়ম মেনে ওটস খেলে শরীরের কোলেস্টেরল কমে যেতে পারে—এমনই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। শুধু তাই নয়, এই স্বল্পমেয়াদি খাদ্যাভ্যাসের ইতিবাচক প্রভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে বলেও জানাচ্ছেন গবেষকরা।
গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের একটি দল টানা দুই দিন প্রতিদিন প্রায় ৩০০ গ্রাম ওটস খেয়েছেন। এই ওটস পানি দিয়ে রান্না করা হয়েছিল, দুধ ব্যবহার করা হয়নি। কেউ কেউ স্বাদ বাড়াতে সামান্য ফল যোগ করেছেন। এই দুই দিনের মধ্যেই তাদের শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।
দ্রুত কমেছে ওজন ও কোলেস্টেরল
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা গড়ে প্রায় ২ কেজি পর্যন্ত ওজন কমিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। রক্তচাপ ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই উন্নতি ছয় সপ্তাহ পরও বজায় ছিল।

দীর্ঘমেয়াদি ডায়েটের চেয়ে বেশি কার্যকর
গবেষকরা আরেকটি দলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যারা ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ওটস যোগ করেছিলেন। দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অল্প ওটস খাওয়ার চেয়ে স্বল্প সময়ের এই নিবিড় ওটস ডায়েটই বেশি কার্যকর।
বিপাকীয় সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য সম্ভাবনা
গবেষণায় অংশ নেওয়া সবাই ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ নামের একটি সমস্যায় ভুগছিলেন। এই অবস্থায় ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল একসঙ্গে বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। এর ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা
ওটসের উপকারিতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া। খাবার হজমের সময় এই ব্যাকটেরিয়াগুলো কিছু উপকারী রাসায়নিক তৈরি করে, যা রক্তে মিশে শরীরের নানা কাজে সহায়তা করে।

দুই দিনের ওটস ডায়েট অনুসরণ করার সময় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে ‘ফেরুলিক অ্যাসিড’ নামের একটি উপকারী উপাদান বেশি তৈরি হতে দেখা গেছে। আগের গবেষণায় এই উপাদানের সঙ্গে কোলেস্টেরল কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যাদের শরীরে এই উপাদান বেশি বেড়েছে, তাদের কোলেস্টেরলও তুলনামূলকভাবে বেশি কমেছে।
সহজ ও সাশ্রয়ী সমাধানের ইঙ্গিত
গবেষকদের মতে, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ও ওটসের পারস্পরিক প্রভাবের কারণে এই স্বল্পমেয়াদি ডায়েট একটি সাশ্রয়ী, টেকসই এবং কার্যকর উপায় হতে পারে। বিশেষ করে বিপাকীয় সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
সংক্ষিপ্ত এই খাদ্যাভ্যাস যে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য উপকার বয়ে আনতে পারে, তা আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করা দরকার হলেও প্রাথমিক ফলাফল ইতোমধ্যেই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















