০৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের কোরিয়া-মার্কিন মতানৈক্য: উত্তর কোরিয়ার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তথ্য প্রকাশে বিরক্ত ওয়াশিংটন স্যাটেলাইট তথ্য সীমিত করল ট্রাম্প দুর্নীতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন, জনগণের প্রতি গভীর অবজ্ঞা ডা.জাহেদ কি তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ডাস্টবিন মানুষ কেন চুমু খায়? বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় চমকপ্রদ তথ্য ঝিনাইদহে লাগাতার লোডশেডিং: তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন ও ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি, ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ল মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত জাপানের বইপাড়ায় পর্যটনের ঢল: ভাষার বাধা, বদলাবে কি ঐতিহ্য?

রোদ উঠেছে—এখনই কি সানস্ক্রিন দরকার, নাকি সূর্যালোকই স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি?

বসন্তের শুরুতেই দিনের আলো বাড়তে থাকায় মানুষের মন, শরীর ও দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। শীতের দীর্ঘ অন্ধকার সময় কাটিয়ে এই সময়টিতে মানুষ বেশি সক্রিয় হয়, হাঁটাহাঁটি বাড়ে, আর মানসিকভাবে সতেজতা ফিরে আসে। তবে সূর্যের আলো যত বাড়ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে এর উপকার পাওয়া যাবে, আবার ক্ষতিকর দিক থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে?

সকালের আলো শরীরের ঘড়ি ঠিক রাখে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে অল্প সময়ের জন্যও বাইরে গেলে শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক থাকে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের সকালের আলো শরীরে ঘুমের হরমোন কমিয়ে জাগ্রত হরমোন বাড়ায়, ফলে ঘুম ও শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রতিদিন একই সময়ে এই অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর আরও ভালোভাবে কাজ করে।

মেঘলা দিনেও আলো দেয় ইতিবাচক প্রভাব

রোদেলা দিনে মানুষের সুখের অনুভূতি বাড়লেও মেঘলা দিনেও বাইরে থাকা ঘরের তুলনায় অনেক বেশি উপকারী। বাইরে আলোর তীব্রতা ঘরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় তা মন ভালো রাখতে, সতর্কতা বাড়াতে এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে করণীয় - প্রবাসীর দিগন্ত

 

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা

সূর্যালোক শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরের ভেতরের নানা প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। কৃত্রিম আলোতে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ভিটামিন ডি তৈরির সেরা সময়

সূর্যের আলোই ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত সময়টিকে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়। প্রতিদিন দুপুরের দিকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সরাসরি রোদে থাকলে শরীর নিজেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে।

skin | Do you know how to get rid of sunburn without sunscreen dgtl -  Anandabazar

সবসময় সানস্ক্রিন দরকার নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে সূর্যের তেজ বেশি থাকলে, বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাইরে গেলে ত্বক সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকতে পারে, তাই পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিক সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ

উচ্চমাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই যে বেশি সুরক্ষা পাওয়া যাবে, তা নয়। বরং এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত যা সহজে ত্বকে মিশে যায় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় কম পরিমাণে উচ্চমাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করার চেয়ে বেশি পরিমাণে মাঝারি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।

অতিরিক্ত রোদ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পুরোপুরি এড়িয়েও নয়

অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারসহ নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়—এটি সত্য। তবে একেবারে রোদ এড়িয়েও থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত সূর্যালোক হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু রোদে নয়, ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন জরুরি, ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

পরিমিত সূর্যালোকই সেরা সমাধান

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত হলো—সূর্যালোকের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। পরিমিত রোদ শরীরের জন্য উপকারী, তবে অতিরিক্ত এক্সপোজার এড়ানো উচিত। তাই সচেতনতা ও পরিমিতি বজায় রেখে সূর্যের আলো উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের

রোদ উঠেছে—এখনই কি সানস্ক্রিন দরকার, নাকি সূর্যালোকই স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি?

০৭:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বসন্তের শুরুতেই দিনের আলো বাড়তে থাকায় মানুষের মন, শরীর ও দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। শীতের দীর্ঘ অন্ধকার সময় কাটিয়ে এই সময়টিতে মানুষ বেশি সক্রিয় হয়, হাঁটাহাঁটি বাড়ে, আর মানসিকভাবে সতেজতা ফিরে আসে। তবে সূর্যের আলো যত বাড়ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে এর উপকার পাওয়া যাবে, আবার ক্ষতিকর দিক থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে?

সকালের আলো শরীরের ঘড়ি ঠিক রাখে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে অল্প সময়ের জন্যও বাইরে গেলে শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক থাকে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের সকালের আলো শরীরে ঘুমের হরমোন কমিয়ে জাগ্রত হরমোন বাড়ায়, ফলে ঘুম ও শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রতিদিন একই সময়ে এই অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর আরও ভালোভাবে কাজ করে।

মেঘলা দিনেও আলো দেয় ইতিবাচক প্রভাব

রোদেলা দিনে মানুষের সুখের অনুভূতি বাড়লেও মেঘলা দিনেও বাইরে থাকা ঘরের তুলনায় অনেক বেশি উপকারী। বাইরে আলোর তীব্রতা ঘরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় তা মন ভালো রাখতে, সতর্কতা বাড়াতে এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে করণীয় - প্রবাসীর দিগন্ত

 

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা

সূর্যালোক শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরের ভেতরের নানা প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। কৃত্রিম আলোতে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ভিটামিন ডি তৈরির সেরা সময়

সূর্যের আলোই ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত সময়টিকে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী ধরা হয়। প্রতিদিন দুপুরের দিকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সরাসরি রোদে থাকলে শরীর নিজেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে।

skin | Do you know how to get rid of sunburn without sunscreen dgtl -  Anandabazar

সবসময় সানস্ক্রিন দরকার নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে সূর্যের তেজ বেশি থাকলে, বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাইরে গেলে ত্বক সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকতে পারে, তাই পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিক সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ

উচ্চমাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই যে বেশি সুরক্ষা পাওয়া যাবে, তা নয়। বরং এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত যা সহজে ত্বকে মিশে যায় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় কম পরিমাণে উচ্চমাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করার চেয়ে বেশি পরিমাণে মাঝারি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।

অতিরিক্ত রোদ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পুরোপুরি এড়িয়েও নয়

অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারসহ নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়—এটি সত্য। তবে একেবারে রোদ এড়িয়েও থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত সূর্যালোক হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু রোদে নয়, ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন জরুরি, ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

পরিমিত সূর্যালোকই সেরা সমাধান

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত হলো—সূর্যালোকের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। পরিমিত রোদ শরীরের জন্য উপকারী, তবে অতিরিক্ত এক্সপোজার এড়ানো উচিত। তাই সচেতনতা ও পরিমিতি বজায় রেখে সূর্যের আলো উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।