ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই নতুন করে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার সংকেত। আগামী ১ মে থেকে রাশিয়ার মাধ্যমে কাজাখস্তানের তেল জার্মানিতে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন তথ্য সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে জার্মানির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে।
সরবরাহ বন্ধের প্রস্তুতি
শিল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া ইতিমধ্যে কাজাখস্তান ও জার্মানির জন্য নতুন তেল রপ্তানি সূচি পাঠিয়েছে। সেই সূচি অনুযায়ী, ‘দ্রুজবা’ পাইপলাইন দিয়ে কাজাখ তেলের প্রবাহ বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি, তবে পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জার্মানির জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন চাপ
এই সরবরাহ বন্ধ হলে জার্মানির জ্বালানি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বার্লিন ও ব্রান্ডেনবুর্গ অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহে এর প্রভাব পড়বে। ওই অঞ্চলের অধিকাংশ গাড়ির জ্বালানি আসে শ্বেড্ট এলাকার বড় পরিশোধনাগার থেকে, যেখানে এই কাজাখ তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালে এই পাইপলাইন দিয়ে জার্মানিতে প্রায় ২১ লাখ টন কাজাখ তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার টন তেল গেছে। ফলে হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ হলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব
রাশিয়া ও জার্মানির সম্পর্ক ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং জার্মানিতে রুশ তেল কোম্পানির সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিকল্প উৎস হিসেবে কাজাখ তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
![]()
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাইপলাইনের রুশ অংশে ড্রোন হামলার মতো ঘটনাও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিকল্প পথের সম্ভাবনা
পোল্যান্ডের পাইপলাইন অপারেটর জানিয়েছে, প্রয়োজনে সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভব। অর্থাৎ, বিকল্প পথ খোলা থাকলেও তা দ্রুত কার্যকর করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জার্মানির জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হবে, যা ইউরোপজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















