ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বারবার ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে নতুন শান্তি আলোচনা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে, কারণ ইরান এখনো ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা এখনো ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসলামাবাদে আলোচনার অনিশ্চয়তা
খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান এর আগে এক দফা আলোচনা আয়োজন করেছিল, কিন্তু তাতে কোনো সমঝোতা হয়নি। এরপর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেয়, আর তেহরান আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের পথে হাঁটে। এই অবস্থায় নতুন দফা আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় পড়ে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই পক্ষকেই যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে আলোচনাকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানের অবস্থান হচ্ছে, হুমকির মুখে তারা আলোচনায় বসবে না। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমার বদলে কূটনৈতিক অচলাবস্থাই এখন বেশি স্পষ্ট।
![]()
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মূলত জ্বালানি, আমদানি ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারের কারণে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়। ওই রুটে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান এখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে আসায় দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতির দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের ভূমিকাও তাই আলাদা করে নজরে থাকছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল সামরিক ইস্যু নয়, এটি বাণিজ্য, জ্বালানি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও। সে কারণেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান ত্রিভুজে চলা এই পর্ব বাংলাদেশের পাঠকের কাছেও প্রাসঙ্গিক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















