দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় নেতৃত্ব দেওয়ার পর অবশেষে প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়ছেন টিম কুক। প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল জানিয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই দায়িত্ব নেবেন জন টার্নাস, যিনি এতদিন কোম্পানির হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।
নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন
অ্যাপলের ইতিহাসে নেতৃত্বের পরিবর্তন সব সময়ই বড় গুরুত্ব বহন করেছে। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫০ বছর পরও কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর চেয়ার প্রযুক্তিগত শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই জায়গাতেই এবার নতুন মুখ হিসেবে আসছেন জন টার্নাস।
টিম কুক ২০১১ সালে স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন এবং তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়। তাঁর সময়েই প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য চার ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে এবং বছরে শত শত বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয় সম্ভব হয়।
টার্নাসের উত্থান
জন টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন। ম্যাক ও আইপ্যাডের উন্নয়নে তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২১ সালে তিনি হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান হন এবং এখন সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে কোম্পানির শীর্ষ পদে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টার্নাসের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অ্যাপলের পণ্যে আরও উদ্ভাবন আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে তাঁর সামনে থাকবে বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ—কুকের মতো সফল এক নেতার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
অ্যাপলের নেতৃত্বের ইতিহাস
অ্যাপলের নেতৃত্বের ইতিহাসও বেশ নাটকীয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিক প্রধান নির্বাহী কোম্পানিকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পথে নিয়ে গেছেন।
প্রথমদিকে মাইকেল স্কট কোম্পানির প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। এরপর মাইক মার্ককুলা ও জন স্কালি কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখেন। তবে স্কালির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে স্টিভ জবসকে একসময় কোম্পানি ছাড়তে হয়।
পরবর্তীতে সংকটের সময় গিল অ্যামেলিও খরচ কমিয়ে কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে ফিরে এসে স্টিভ জবস অ্যাপলকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। তাঁর হাত ধরেই আইম্যাক, আইপড, আইফোনের মতো বিপ্লবী পণ্য বাজারে আসে, যা পুরো প্রযুক্তি শিল্পকে বদলে দেয়।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ
নতুন প্রধান হিসেবে জন টার্নাসকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে, যখন প্রযুক্তি খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন হার্ডওয়্যার উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
তবে অ্যাপলের শক্তিশালী ব্র্যান্ড, বিশাল গ্রাহকভিত্তি এবং উদ্ভাবনী ঐতিহ্য টার্নাসের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















