১২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ফ্লেমিঙ্গো ছানার জীবনচক্র ও গোলাপি রঙে বদলের অবাক করা রহস্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় থাই হসপিটালিটি জায়ান্ট ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রে একের পর এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে উপকূলজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়: ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা ও স্লিপার সেল আতঙ্কে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি ২৩ কোটি রিঙ্গিত আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: এনজিও কেলেঙ্কারিতে বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ হরমুজ সংকটে ভারতে গ্যাসের তীব্র সংকট, রাস্তায় নেমেছে শ্রমিকদের ক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়ছে ভাড়া, চায়ের রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগে ভারতীয় শিল্প

মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের চা রপ্তানি খাত নতুন উদ্বেগে পড়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। কারণ ভারতের মোট চা রপ্তানির ৪০ শতাংশেরও বেশি যায় পশ্চিম এশিয়ার বাজারে।

রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পাঠানোর ভাড়া কোথাও কোথাও ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও এ খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ভ্রমণ এবং জাহাজ চলাচলেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম আগের মতো স্বাভাবিক নেই।

একজন শীর্ষ চা রপ্তানিকারক মোহিত আগারওয়াল বলেন, বর্তমানে বাণিজ্য কার্যক্রম সীমিত অবস্থায় চলছে। তাঁর মতে, যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে রপ্তানিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হারানো অবস্থান কিছুটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

সংকটে ভারতের চা শিল্প – শেয়ার বিজ

ভাড়া বেড়েছে, তবু চাহিদা পুরোপুরি কমেনি

ইন্ডিয়া টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া স্বীকার করেছেন যে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তবে তাঁর মতে, এখনই রপ্তানির সামগ্রিক চিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। তিনি বলেন, আমদানিকারক দেশগুলোতে মজুত কমে আসছে এবং নতুন মৌসুমও শুরু হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ভারতীয় চায়ের চাহিদি এখনো বহাল আছে।

এই কারণেই রপ্তানিকারকেরা আশাবাদী, যুদ্ধ শেষ হলে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কমে এলে ভারতীয় চা আবারও ভালো অবস্থানে ফিরতে পারে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক চাপ থাকলেও বাজার পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

Anshuman Kanoria - Owner at Goomtee Tea Estate | LinkedIn

ইউরোপের নতুন আইনও বাড়াচ্ছে চাপ

তবে শিল্পের সামনে শুধু যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তাই নয়, অন্য চাপও রয়েছে। কানোরিয়া ইউরোপের নতুন কীটনাশকবিষয়ক আইন নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, এই নতুন বিধিনিষেধও ভারতের চা রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে।

ভারত ২০২৫ সালে রেকর্ড ২৮০ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করেছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটি প্রায় ২৫৪ দশমিক ১৯ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করে। এর মধ্যে শুধু ইরাকই আমদানি করেছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন কেজি। সংযুক্ত আরব আমিরাত আমদানি করেছে ৪৫ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন কেজি, আর ইরানে গেছে প্রায় ১০ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন কেজি। রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, ইরানে যাওয়া বড় অংশের চালান দুবাই হয়ে রুট করা হয়। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে যে নির্ভরতা রয়েছে, তাতে সেখানে অস্থিরতা দীর্ঘ হলে ভারতের চা রপ্তানি খাত চাপে পড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়ছে ভাড়া, চায়ের রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগে ভারতীয় শিল্প

১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের চা রপ্তানি খাত নতুন উদ্বেগে পড়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। কারণ ভারতের মোট চা রপ্তানির ৪০ শতাংশেরও বেশি যায় পশ্চিম এশিয়ার বাজারে।

রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পাঠানোর ভাড়া কোথাও কোথাও ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও এ খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ভ্রমণ এবং জাহাজ চলাচলেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম আগের মতো স্বাভাবিক নেই।

একজন শীর্ষ চা রপ্তানিকারক মোহিত আগারওয়াল বলেন, বর্তমানে বাণিজ্য কার্যক্রম সীমিত অবস্থায় চলছে। তাঁর মতে, যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে রপ্তানিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হারানো অবস্থান কিছুটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

সংকটে ভারতের চা শিল্প – শেয়ার বিজ

ভাড়া বেড়েছে, তবু চাহিদা পুরোপুরি কমেনি

ইন্ডিয়া টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া স্বীকার করেছেন যে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তবে তাঁর মতে, এখনই রপ্তানির সামগ্রিক চিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। তিনি বলেন, আমদানিকারক দেশগুলোতে মজুত কমে আসছে এবং নতুন মৌসুমও শুরু হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ভারতীয় চায়ের চাহিদি এখনো বহাল আছে।

এই কারণেই রপ্তানিকারকেরা আশাবাদী, যুদ্ধ শেষ হলে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কমে এলে ভারতীয় চা আবারও ভালো অবস্থানে ফিরতে পারে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক চাপ থাকলেও বাজার পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

Anshuman Kanoria - Owner at Goomtee Tea Estate | LinkedIn

ইউরোপের নতুন আইনও বাড়াচ্ছে চাপ

তবে শিল্পের সামনে শুধু যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তাই নয়, অন্য চাপও রয়েছে। কানোরিয়া ইউরোপের নতুন কীটনাশকবিষয়ক আইন নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, এই নতুন বিধিনিষেধও ভারতের চা রপ্তানিকে প্রভাবিত করতে পারে।

ভারত ২০২৫ সালে রেকর্ড ২৮০ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করেছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটি প্রায় ২৫৪ দশমিক ১৯ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করে। এর মধ্যে শুধু ইরাকই আমদানি করেছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন কেজি। সংযুক্ত আরব আমিরাত আমদানি করেছে ৪৫ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন কেজি, আর ইরানে গেছে প্রায় ১০ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন কেজি। রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, ইরানে যাওয়া বড় অংশের চালান দুবাই হয়ে রুট করা হয়। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে যে নির্ভরতা রয়েছে, তাতে সেখানে অস্থিরতা দীর্ঘ হলে ভারতের চা রপ্তানি খাত চাপে পড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।