০১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ফ্লেমিঙ্গো ছানার জীবনচক্র ও গোলাপি রঙে বদলের অবাক করা রহস্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় থাই হসপিটালিটি জায়ান্ট ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রে একের পর এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে উপকূলজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়: ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা ও স্লিপার সেল আতঙ্কে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি ২৩ কোটি রিঙ্গিত আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: এনজিও কেলেঙ্কারিতে বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ হরমুজ সংকটে ভারতে গ্যাসের তীব্র সংকট, রাস্তায় নেমেছে শ্রমিকদের ক্ষোভ

ব্যাংক খাতে কড়াকড়ি: অর্থপাচারকারীদের পরিচালনা পর্ষদে ফেরার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য দেশের কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ব্যাংক সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে জনমনে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অতীতে আর্থিক অনিয়ম বা ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ব্যাংক খাতে ফিরতে পারবেন কি না—এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি

মুখপাত্র জানান, নতুন অধ্যাদেশে কিছু ক্ষেত্রে সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকলেও তা কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় বা নির্বিচার নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসতে চান, তবে প্রথমেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে অর্থপাচার বা সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

কঠোর যাচাই ছাড়া ফেরার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে তাকে আগে আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে হবে। শুধু অভিযোগমুক্ত হলেই চলবে না, তার আর্থিক আচরণ—বিশেষ করে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হবে।

যাদের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী তা পরিশোধ বা সমন্বয় করতে হবে। সব ধরনের আর্থিক দায় পরিশোধ ও অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার পরই কেবল পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে ব্যাংকের বোর্ডে ফেরা যাবে না

বিশেষ সুবিধার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাত ঝুঁকিতে না পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মগুলোর কঠোর বাস্তবায়নের ওপর, যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা পুনরায় প্রবেশ করতে না পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা

ব্যাংক খাতে কড়াকড়ি: অর্থপাচারকারীদের পরিচালনা পর্ষদে ফেরার সুযোগ নেই

১১:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য দেশের কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ব্যাংক সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে জনমনে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অতীতে আর্থিক অনিয়ম বা ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ব্যাংক খাতে ফিরতে পারবেন কি না—এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি

মুখপাত্র জানান, নতুন অধ্যাদেশে কিছু ক্ষেত্রে সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকলেও তা কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় বা নির্বিচার নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসতে চান, তবে প্রথমেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে অর্থপাচার বা সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

কঠোর যাচাই ছাড়া ফেরার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে তাকে আগে আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে হবে। শুধু অভিযোগমুক্ত হলেই চলবে না, তার আর্থিক আচরণ—বিশেষ করে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হবে।

যাদের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী তা পরিশোধ বা সমন্বয় করতে হবে। সব ধরনের আর্থিক দায় পরিশোধ ও অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার পরই কেবল পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে ব্যাংকের বোর্ডে ফেরা যাবে না

বিশেষ সুবিধার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাত ঝুঁকিতে না পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মগুলোর কঠোর বাস্তবায়নের ওপর, যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা পুনরায় প্রবেশ করতে না পারেন।