দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শিল্পাঞ্চলে বাড়তি চাহিদার কারণে পরিস্থিতি আরও চাপে পড়েছে।
চাহিদা-উৎপাদনে বড় ফারাক
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এর বিপরীতে উৎপাদন থাকবে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো। ফলে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগের দিনের অবস্থাও ছিল চাপের
বুধবারও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। সেদিন প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় কম ছিল।
তাপদাহ ও শিল্পে চাহিদা বৃদ্ধি
বর্তমান তাপদাহের কারণে ঘরোয়া পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এই দুইয়ের চাপ মিলেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে।
কারিগরি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় চলছে। এছাড়া কয়লার অভাবে আরেকটি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়েছে।

কবে আসতে পারে স্বস্তি
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান মেরামত কাজ শেষ হলে এবং নতুন করে কয়লার চালান এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আগামী ২৬ ও ২৮ এপ্রিলের পর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ার আশা করা হচ্ছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ এলে প্রায় ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, স্বল্পমেয়াদে লোডশেডিং পুরোপুরি কমে আসার সম্ভাবনা কম। তবে মেরামত ও জ্বালানি সরবরাহ ঠিক হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















