০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট, ১৪ বছরেও নেই চার্জশিট বৃষ্টি-ঝড়ের আভাস, কমতে পারে তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস গাজীপুরে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্যামেরায় বন্দি করা রঘু রাই আর নেই: ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে কিংবদন্তির বিদায় সহজ ভ্যাট–শুল্কই ন্যায্য বাজারের চাবিকাঠি মাইকেল জ্যাকসনকে ভালোবাসা কি এখনও সম্ভব? দুর্নীতি-সহিংসতায় বিজেপি ও তৃণমূল একই মুদ্রার দুই পিঠ: রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ জীবন, তবু স্বাভাবিক থাকার বার্তা ট্রাম্পের ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা, সন্দেহভাজন আটক পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও নিষিদ্ধ স্থানগুলো: কেন বিজ্ঞানীরা এসব জায়গা লুকিয়ে রেখেছেন

নির্বাচনের মুখে পুরনো মামলায় নতুন অভিযান, বাংলায় ইডি তৎপরতায় প্রশ্ন ও চাপ

West Bengal CM Mamata Banerjee addressing media about ED raids at IPAC office and house of Prateek Jain in Kolkata | Salil Bera

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির ধারাবাহিক অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বহু বছর আগের মামলাগুলোতে হঠাৎ তৎপরতা বাড়ানোকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, এটি নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচিত টার্গেটিং’-এর অংশ। অন্যদিকে, ইডির দাবি—তাদের সব পদক্ষেপই প্রমাণভিত্তিক এবং আর্থিক অপরাধ দমনের লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কার ও বিতর্ক
ইডির এক আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিরস্কার করে বলে, কোনো মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই মন্তব্য আসে জানুয়ারিতে ইডির অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ও ফাইল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে।

Latest News Today: Breaking News and Top Headlines from India,  Entertainment, Business, Politics and Sports | The Indian Express

 

দুই মাসে প্রায় ২০টি অভিযান
গত দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গে ইডি প্রায় ২০টি অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তল্লাশি, গ্রেপ্তার, সম্পত্তি জব্দ ও জিজ্ঞাসাবাদ। শুধু ২৮ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল—এই ২৩ দিনে আটটি তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে ছয়টি শহরের ৫০টির বেশি জায়গা তল্লাশি করা হয়। নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আই-প্যাক ও কয়লা কেলেঙ্কারি
সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ ছিল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে ঘিরে। জানুয়ারিতে কলকাতা ও দিল্লিতে ১০টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে ২০২০ সালের কয়লা চুরি মামলার সঙ্গে নতুন তথ্যের যোগসূত্র। অভিযোগ, প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে আই-প্যাকের কাছে পৌঁছেছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি আই-প্যাকের এক পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এই পদক্ষেপ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শাসক দলের প্রচারযন্ত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

শিক্ষক নিয়োগ ও অন্যান্য মামলা
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সক্রিয় হয়েছে ইডি। এক মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩.৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা আগের তদন্তকে আরও বিস্তৃত করেছে।

একই সঙ্গে একাধিক অভিযানে টেকনোসোলিস ইনফরমেটিক্স লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে সোনা, স্থায়ী আমানত ও ক্রিপ্টোসহ ২০ কোটির বেশি সম্পদ জব্দের দাবি করা হয়েছে।
অন্য একটি মামলায় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দারের সঙ্গে যুক্ত জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। অভিযোগ রয়েছে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অর্থপাচারের।

Partha Chatterjee:পার্থর মুখে চাকরির বুলি! মমতার 'ভাতা' নীতিকে তুলোধনা, বেহালা পশ্চিমেই 'নির্দল' প্রার্থী হচ্ছেন?

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তলব
সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ নুসরাত জাহানকে একটি আবাসন প্রতারণা মামলায় তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রী ও আমলাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা দেবাশিস কুমারকেও দু’দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জমি দখলের অভিযোগে।

অন্য রাজ্যেও একই ধারা
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, কেরল, তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবেও ইডির অভিযান নজর কাড়ছে। কেরলে সমবায় ব্যাংক দুর্নীতি, তামিলনাড়ুতে মদ সংস্থার লেনদেন এবং পাঞ্জাবে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

নির্বাচনের আগে এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। বিরোধীরা যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলছে, সেখানে ইডি বলছে—তাদের লক্ষ্য কেবল আইনের প্রয়োগ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

নির্বাচনের আগে ইডির তৎপরতায় পশ্চিমবঙ্গে পুরনো মামলাগুলো নতুন করে সামনে আসছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট, ১৪ বছরেও নেই চার্জশিট

নির্বাচনের মুখে পুরনো মামলায় নতুন অভিযান, বাংলায় ইডি তৎপরতায় প্রশ্ন ও চাপ

০৩:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির ধারাবাহিক অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বহু বছর আগের মামলাগুলোতে হঠাৎ তৎপরতা বাড়ানোকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ, এটি নির্বাচনের আগে ‘নির্বাচিত টার্গেটিং’-এর অংশ। অন্যদিকে, ইডির দাবি—তাদের সব পদক্ষেপই প্রমাণভিত্তিক এবং আর্থিক অপরাধ দমনের লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কার ও বিতর্ক
ইডির এক আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিরস্কার করে বলে, কোনো মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই মন্তব্য আসে জানুয়ারিতে ইডির অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ও ফাইল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে।

Latest News Today: Breaking News and Top Headlines from India,  Entertainment, Business, Politics and Sports | The Indian Express

 

দুই মাসে প্রায় ২০টি অভিযান
গত দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গে ইডি প্রায় ২০টি অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তল্লাশি, গ্রেপ্তার, সম্পত্তি জব্দ ও জিজ্ঞাসাবাদ। শুধু ২৮ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল—এই ২৩ দিনে আটটি তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে ছয়টি শহরের ৫০টির বেশি জায়গা তল্লাশি করা হয়। নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আই-প্যাক ও কয়লা কেলেঙ্কারি
সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ ছিল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে ঘিরে। জানুয়ারিতে কলকাতা ও দিল্লিতে ১০টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে ২০২০ সালের কয়লা চুরি মামলার সঙ্গে নতুন তথ্যের যোগসূত্র। অভিযোগ, প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে আই-প্যাকের কাছে পৌঁছেছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি আই-প্যাকের এক পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এই পদক্ষেপ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শাসক দলের প্রচারযন্ত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

শিক্ষক নিয়োগ ও অন্যান্য মামলা
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সক্রিয় হয়েছে ইডি। এক মন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩.৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা আগের তদন্তকে আরও বিস্তৃত করেছে।

একই সঙ্গে একাধিক অভিযানে টেকনোসোলিস ইনফরমেটিক্স লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে সোনা, স্থায়ী আমানত ও ক্রিপ্টোসহ ২০ কোটির বেশি সম্পদ জব্দের দাবি করা হয়েছে।
অন্য একটি মামলায় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দারের সঙ্গে যুক্ত জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। অভিযোগ রয়েছে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অর্থপাচারের।

Partha Chatterjee:পার্থর মুখে চাকরির বুলি! মমতার 'ভাতা' নীতিকে তুলোধনা, বেহালা পশ্চিমেই 'নির্দল' প্রার্থী হচ্ছেন?

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তলব
সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ নুসরাত জাহানকে একটি আবাসন প্রতারণা মামলায় তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রী ও আমলাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা দেবাশিস কুমারকেও দু’দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জমি দখলের অভিযোগে।

অন্য রাজ্যেও একই ধারা
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, কেরল, তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবেও ইডির অভিযান নজর কাড়ছে। কেরলে সমবায় ব্যাংক দুর্নীতি, তামিলনাড়ুতে মদ সংস্থার লেনদেন এবং পাঞ্জাবে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

নির্বাচনের আগে এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। বিরোধীরা যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলছে, সেখানে ইডি বলছে—তাদের লক্ষ্য কেবল আইনের প্রয়োগ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

নির্বাচনের আগে ইডির তৎপরতায় পশ্চিমবঙ্গে পুরনো মামলাগুলো নতুন করে সামনে আসছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।