গাজীপুরে দীর্ঘ লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে পোলট্রি খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে, উৎপাদন কমে খামারিরা বড় লোকসানে পড়েছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট
গাজীপুরে বিদ্যুৎ সংকট পোলট্রি খাতকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় ভেঙে পড়েছে। এতে খামারের মুরগি বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, অনেক ক্ষেত্রে মারা যাচ্ছে।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও কাজে আসছে না
শ্রীপুর উপজেলার গোলাঘাট গ্রামের খামারি আবু তালেব প্রায় ২৫ বছর ধরে পোলট্রি খাতের সঙ্গে যুক্ত। নিজ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় তার একাধিক খামার রয়েছে। কোথাও মাংসের জন্য, আবার বেশিরভাগ শেডে ডিম উৎপাদনের জন্য মুরগি পালন করেন তিনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার মতো অভিজ্ঞ খামারিও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তালেবের সোহাদিয়া গ্রামের একটি খামারে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ নেই, চলছে দুটি জেনারেটর। তিনি জানান, সাম্প্রতিক এক ঝড়ের পর টানা দুই দিনের বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এর সঙ্গে নিয়মিত লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জ্বালানি সংকটে জেনারেটরও ভরসা নয়
বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালানো ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু জ্বালানি সংকট এখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খামারিরা জানান, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বাজারমূল্যের চেয়ে প্রতি লিটারে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খরচ চারগুণ, ডিমে লোকসান বাড়ছে
খামারে নিরবচ্ছিন্ন আলো ও বাতাস না থাকায় মুরগির স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে আলো না পেলে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। পর্যাপ্ত বাতাস না পেলে মুরগি রোগে আক্রান্ত হয়, এমনকি স্ট্রোক করে মারা যায়। পানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
খামারে টিকে থাকতে অতিরিক্ত ভিটামিন ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে খরচ আরও বাড়ছে। আগে এক হাজার মুরগির জন্য বিদ্যুৎ খরচ ছিল তিন থেকে চার হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যেই উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রতিটি ডিমে প্রায় দুই টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের।
সমাধান না হলে সংকট বাড়বে
খামারিরা বলছেন, পোলট্রি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প হিসেবে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় উৎপাদন আরও কমে গিয়ে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, খাতটিকে বাঁচাতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে অন্তত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















