০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার টাইটানিকের শতাধিক নিদর্শন নিলাম বন্ধ করলেন মার্কিন বিচারক আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, এলসি ছাড়াই সীমাহীন মূল্যের চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ মহেশখালীর সাগরে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের নৌকাডুবি, নিখোঁজ কিশোর চীনের জে-১০ সিই কিনছে বাংলাদেশ ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৯০৭; মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে নানা আয়োজন ঢাকা-যশোর রুটে আবার ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন দুই ট্রিপ মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন, মূলধন শক্তিশালী হবে প্রিন্স হ্যারি–মেগানের নতুন ব্রিটেনযাত্রা, পেছনে পড়ে থাকবে আর্চির প্রিয় ‘মুরগির বাড়ি’

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি ঝুঁকি: জাপান-অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পথে ইন্দো-প্যাসিফিক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রে। এই পরিস্থিতিতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছে।

জাপানের টোকিওতে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেন, বর্তমান সংকট স্পষ্ট করে দিয়েছে—জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হলেও এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য এটি প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহের পথ, ফলে অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন বাস্তবতা
ওং জানান, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত সহযোগিতাই মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না; একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতাই বাস্তবতা।

বর্তমানে সরকার ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে একযোগে কাজ চলছে। সরকার কূটনৈতিকভাবে অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সহায়তা দিচ্ছে।

Japan and Australia pledge closer security ties to counter Indo-Pacific  risks | Reuters

জাপান-অস্ট্রেলিয়া জোটের গুরুত্ব
জাপানের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ। দেশটি জাপানের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং কয়লার অর্ধেক সরবরাহ করে। তবে অস্ট্রেলিয়াও পুরোপুরি নিরাপদ নয়, কারণ তাদের অধিকাংশ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয় সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশ থেকে, যেগুলো আবার মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল।

এই বাস্তবতায় জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী একটি আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অর্থায়ন করা যাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে।

সংকটের প্রভাব ও মজুত পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জাপানে, কারণ দেশটি প্রায় ৯৩ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

তবে জাপানের কৌশলগত জ্বালানি মজুত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, যা প্রায় ২০০ থেকে ২৩‍০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মজুত অনেক কম—মাত্র ৩০ থেকে ৪৬ দিনের মতো, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ভবিষ্যৎ কৌশল ও চ্যালেঞ্জ
এই সংকট জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে বুঝিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা আর শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি এখন সরাসরি ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সরবরাহ শৃঙ্খল সংকুচিত হওয়া এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ বাড়িয়েছে, যাতে খাদ্য ও গ্যাস সরবরাহের বিনিময়ে জ্বালানি ও সার সরবরাহে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক কাঠামোয় রূপ নিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি অনিশ্চিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি ঝুঁকি: জাপান-অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পথে ইন্দো-প্যাসিফিক

০৫:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রে। এই পরিস্থিতিতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছে।

জাপানের টোকিওতে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেন, বর্তমান সংকট স্পষ্ট করে দিয়েছে—জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হলেও এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য এটি প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহের পথ, ফলে অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন বাস্তবতা
ওং জানান, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত সহযোগিতাই মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না; একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতাই বাস্তবতা।

বর্তমানে সরকার ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে একযোগে কাজ চলছে। সরকার কূটনৈতিকভাবে অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সহায়তা দিচ্ছে।

Japan and Australia pledge closer security ties to counter Indo-Pacific  risks | Reuters

জাপান-অস্ট্রেলিয়া জোটের গুরুত্ব
জাপানের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ। দেশটি জাপানের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং কয়লার অর্ধেক সরবরাহ করে। তবে অস্ট্রেলিয়াও পুরোপুরি নিরাপদ নয়, কারণ তাদের অধিকাংশ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয় সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশ থেকে, যেগুলো আবার মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল।

এই বাস্তবতায় জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী একটি আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অর্থায়ন করা যাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহ দেখিয়েছে।

সংকটের প্রভাব ও মজুত পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জাপানে, কারণ দেশটি প্রায় ৯৩ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

তবে জাপানের কৌশলগত জ্বালানি মজুত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, যা প্রায় ২০০ থেকে ২৩‍০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মজুত অনেক কম—মাত্র ৩০ থেকে ৪৬ দিনের মতো, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ভবিষ্যৎ কৌশল ও চ্যালেঞ্জ
এই সংকট জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে বুঝিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা আর শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি এখন সরাসরি ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সরবরাহ শৃঙ্খল সংকুচিত হওয়া এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ বাড়িয়েছে, যাতে খাদ্য ও গ্যাস সরবরাহের বিনিময়ে জ্বালানি ও সার সরবরাহে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক কাঠামোয় রূপ নিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি অনিশ্চিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।