সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের চাপে একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর ইকরাছাই হাওরে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়েছে। এতে এলাকার অবশিষ্ট ধান নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, পাশের নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় মোনাই নদীর পানির চাপও বাড়তে থাকে। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে হামিদপুর গ্রামের পাশের একটি গ্রামীণ সড়কের অংশ ভেঙে যায়। ফলে সেই ফাঁক দিয়ে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে হাওরে।
কৃষিতে নতুন দুশ্চিন্তা
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইকরাছাই হাওরে মোট ১১৪ হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হেক্টরের ধান ইতোমধ্যে কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। তবে আকস্মিক এই বন্যার কারণে প্রায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে।
অবশিষ্ট ধান রক্ষায় এখন কৃষকরা সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন। যেসব জমিতে ধান এখনো কাটা হয়নি, সেগুলো দ্রুত কেটে নিরাপদে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।
পাহাড়ি ঢলের চাপেই ভাঙন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ জানান, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নয়, বরং একটি গ্রামীণ সড়ক ছিল। তিনি বলেন, দুর্গাপুর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায়।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ ধান ইতোমধ্যে কাটা হলেও বাকি ফসল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের দৌড়ঝাঁপ
হাওর এলাকার কৃষকদের মতে, এই আকস্মিক বন্যার সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন ধরেই নদীর পানি বাড়ছিল, তাই তারা সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এখন পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজেও স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা একযোগে কাজ করছেন।
পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে হাওরের আরও এলাকা প্লাবিত না হয় এবং অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















